07/07/2022
#আরাফার দিনের রোজা/ সিয়াম🕋🕋🕋
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ। আম্মাবাদ,
#আরাফার দিন রোজা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তিনি আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে বলেছেন: “আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।” (মুসলিম, ১১৬২)
তবে আরাফায় অবস্থানকারী হাজীদের জন্য রোযা রাখা মুস্তাহাব নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফায় অবস্থান করেছিলেন রোজা বিহীন অবস্থায়।
জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখকে (ঈদুল আযহার আগের দিন) ‘ইওয়ামুল আরাফাহ’ বা ‘আরাফার দিন’ বলা হয়, কারণ এই দিনে হাজীরা আরাফাহ নামক একটা মাঠে জমায়েত হন। হজ্জের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ আহকাম হলো যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখ ‘আরাফার ময়দানে’ অবস্থান করা। এই দিনের গুরুত্ত্ব সম্পর্ক রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হলো হজ্জ।”
যারা হজ্জে যাননি,তাদের আরাফার দিনে রোযা রাখার ফযীলতঃ
আবু কাতাদাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুল (সাঃ) কে আরাফার দিনের রোজার ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আরাফার দিনের রোজা বিগত ও সামনের এক বছরের গুনাহ সমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ।”
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।
হাদিসের মধ্যে আরাফার রোজার কথা এসেছে, জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখের কথা আসেনি। তাই বিজ্ঞ আলেমগণ সোউদী আরবে হাজীরা আরাফায় অবস্থানের দিনেই এ রোজা রাখা উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। কারন আরাফাহ ছাড়া অন্য কোন রোজা জায়গার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটা শায়খ বিন বাজ ও আল-লাজনা আদ-দাইয়িমার ফতোয়া। যারা হজ্জ করবেন, তারা আরাফার দিন রোযা রাখবেন না কারণ, ঐদিন আরাফাতে বেশি বেশি দুয়া ও যিকির-আযকার করবেন, এটাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর আদেশ।
কারণ, আরাফার ময়দানের দুয়া আল্লাহ সবচাইতে বেশি কবুল করেন। সেইজন্য যারা হজ্জ করবেন তারা রোযা না রেখে বেশি বেশি দুয়া করবেন, আর যারা বাড়িতে থাকবেন তারা ঐদিন রোযা রাখার চেষ্টা করবেন।
তবে এর বিপরীতেও মত রয়েছে। কিছু আলেমের মতে, রমযান ও ঈদের মতো আরাফার রোযাও স্থানীয় চাঁদের উপর নির্ভর করে রাখতে হবে, এটা শায়খ ইবনে উসাইমিনের ফতোয়া।
তাই বেশি বিতর্ক বা সন্দেহের মাঝে না গিয়ে, সর্বোত্তম হচ্ছে সউদী আরব ও বাংলাদেশের ২/৩ দিনের হিসাবেই ২/৩ টি রোযা রেখে ফেলা। এতে কোন ক্ষতি নেই, বরং যিলহজ্জের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত সবগুলো দিনেই রোজা রাখতে পারেন, সেটাও সুন্নাত। এই দিনের যেকোন ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও বেশি মর্যাদা।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে এমন আমল করার তাওফীক দান করেন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি যেন আমাদেরকে দীনের জ্ঞান দান করেন এবং ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নেক আমল সম্পাদন করে।আমীন।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
Collated