Md. Mujahid Hossain

Md. Mujahid Hossain "Seeking Knowledge is compulsory for every Muslims..."
-Prophet Muhammad (SA:)

03/15/2026
পাগড়ি পড়ে সালাত আদায় করলে কি অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়া যায় ?পাগড়ি (عِمَامَة) পরে সালাত আদায় করলে বিশেষ বা অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়...
01/20/2026

পাগড়ি পড়ে সালাত আদায় করলে কি অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়া যায় ?

পাগড়ি (عِمَامَة) পরে সালাত আদায় করলে বিশেষ বা অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়া যায়—এমন কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত থাকলেও, হাদিসের দৃষ্টিতে বিষয়টি যাচাই করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।

১️⃣- পাগড়ি পরে সালাতের ফযিলত বিষয়ে প্রচলিত হাদিসসমূহ
🔹 হাদিস–১ (প্রচলিত কিন্তু দুর্বল)
«الصلاةُ في العمامةِ تعدلُ خمسًا وعشرينَ صلاةً بغيرِ عمامةٍ»
“পাগড়ি পরে আদায় করা সালাত, পাগড়ি ছাড়া আদায় করা সালাতের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ফযিলতপূর্ণ।”

📚 রেফারেন্স হিসেবে যেগুলো বলা হয়:
• شعب الإيمان (শুয়াবুল ইমান- বায়হাকী)।
• الموضوعات (আল মাওজুয়াত) ।

🔍 তাহকীক (হাদিস বিশারদদের মতামত)
• ইমাম ইবনুল জাওযী:
👉 এটিকে মাওযূ‘ (জাল) বলেছেন।
• হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী:
👉 বলেছেন, এর কোনো সহীহ ভিত্তি নেই।
• শাইখ আলবানী:
👉 একে দূর্বল ও বানোয়াট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

📌 ফলাফল:
➡️ এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়, এর মাধ্যমে অতিরিক্ত সওয়াব প্রমাণ করা যাবে না।

🔹 হাদিস–২ - প্রচলিত বর্ণনা (৭০ গুণ সওয়াব)

🔸 আরবি متن
الصلاةُ في العمامةِ أفضلُ من سبعينَ صلاةً بغيرِ عمامةٍ

🔸 প্রচলিত অর্থ
“পাগড়ি পরে আদায় করা সালাত, পাগড়ি ছাড়া আদায় করা সালাতের তুলনায় ৭০ গুণ উত্তম।”

📚এ ধরনের বর্ণনা সাধারণত পাওয়া যায়:
• الفردوس بمأثور الخطاب

• কিছু ফযিলত-কেন্দ্রিক সংকলনে সনদহীন/অবিশ্বস্তভাবে

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: সহীহ সিত্তা (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)-এর কোনোটিতেই নেই।

🔍 তাহকীক (হাদিস বিশারদদের রায়)

ইবনুল জাওযী- موضوع (জাল)

ইবনু হাজার আসকালানী- لا أصل له / باطل

সাখাভী- لا يصح

আলবানী- موضوع

কারণসমূহ (সংক্ষেপ):
• নির্ভরযোগ্য সনদ অনুপস্থিত
• সনদে মাজহুল/মাতরূক রাবি
• ইবাদতের ফযিলত নির্ধারণে অস্বাভাবিক সংখ্যা (৭০)—সমর্থনকারী সহীহ দলিল নেই

📌 চূড়ান্ত হুকুম:
❌ জাল/বাতিল — আমল বা ফযিলত প্রমাণে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

***এখন প্রশ্ন হচ্ছে নবী ﷺ কি পাগড়ি পরে সালাত আদায় করেছেন?
এর উত্তর হলো-
✔️ হ্যাঁ, করেছেন। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

সহীহ বর্ণনা:
• রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো পাগড়ি, কখনো টুপি, আবার কখনো মাথা খোলা অবস্থায় সালাত আদায় করেছেন।
📚 রেফারেন্স:
• সুনান আবু দাউদ
• শামায়েলে তিরমিযী
🔍 তাহকীক:
এগুলো বর্ণনামূলক হাদিস, ফযিলত নির্ধারণমূলক নয়।

📌 অর্থাৎ,
➡️ নবী ﷺ পাগড়ি পরেছেন—এটা সুন্নাতে আদিয়া (অভ্যাসগত সুন্নাহ)।
➡️ কিন্তু ইবাদতের জন্য শর্ত বা অতিরিক্ত সওয়াবের কারণ নয়।

*পাগড়ি ছাড়া সালাত শয়তানের সালাত”—এই কথার হুকুম কথার হুকুম
এই বাক্যটি সমাজে বহুল প্রচলিত, কিন্তু—
❌ কোনো সহীহ, হাসান এমনকি দুর্বল হাদিসেও নেই
❌ এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া
🔍 মুহাদ্দিসদের মতে:
➡️ এটি কথিত উক্তি, হাদিস নয়।

*** ফিকহ ও উসূলের আলোকে সিদ্ধান্তঃ
🟢 যা প্রমাণিত:
• পাগড়ি পরা জায়েয
• সামাজিক/সংস্কৃতিগত পোশাক হিসেবে তা ভালো
• পরিপাটি পোশাক পরে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব

🔴 যা প্রমাণিত নয়:
• পাগড়ি ছাড়া সালাত কম সওয়াব
• পাগড়ি পরলে নির্দিষ্ট সংখ্যা অনুযায়ী বেশি সওয়াব
• পাগড়ি ছাড়া সালাত অপূর্ণ বা শয়তানের

📖 আল্লাহ বলেন:
﴿خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ﴾
“প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ কর।”
— (সূরা আল-আরাফ: ৩১)
➡️ এখানে পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতা উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট পোশাক নয়।

সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্তঃ

পাগড়ি পরে সালাত
✔️ জায়েয
পাগড়িকে ফযিলত মনে করা
❌ প্রমাণিত নয়
পাগড়ি ছাড়া সালাত কম সওয়াব
❌ ভুল
পাগড়ি ছাড়া সালাত শয়তানের
❌ জাল কথা

মহিলাদের মাথার চুল কাটার বিধান: নারীদের চুল কাটা নিয়ে সমাজে বিভিন্ন ভুল ধারণার প্রচলন রয়েছে। কারো ধারণা, নারীরা একেবারেই...
01/19/2025

মহিলাদের মাথার চুল কাটার বিধান:


নারীদের চুল কাটা নিয়ে সমাজে বিভিন্ন ভুল ধারণার প্রচলন রয়েছে। কারো ধারণা, নারীরা একেবারেই চুল কাটতে পারবে না। কেউ মনে করে, চার আঙ্গুলের বেশি কাটা যাবে না। কেউ বলে, মাথার সামনের দিক থেকে কাটা বা ছোট করা যাবে না, খুব বেশি দরকার হলে, কেবল পেছন দিক থেকে সামান্য কাটা যাবে। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে, বিশেষ সময় ছাড়া নারীদের জন্য চুল কাটা নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামি শরিয়তে এসব কথার কোনও ভিত্তি নেই।

নিম্নে হাদিস এবং আলেমদের ফতোয়ার আলোকে মহিলাদের চুল কাটার বিধান অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:

নিম্নোক্ত অবস্থায় মহিলাদের মাথার চুল কাটা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।

যথা:
◈ যদি কাফির ও ফাসেক নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা উদ্দেশ্য হয়।
◈ যদি এমন স্টাইলে চুল কাটা হয় যা অবিকল পুরুষদের মত বুঝা যায়।
◈ যদি পর পুরুষের মাধ্যমে চুল কাটা হয়, যেমনটি বর্তমান যুগে কিছু কিছু সেলুনে ঘটে থাকে।
◈ যদি বিবাহিত নারীর স্বামীর অনুমতি ছাড়া হয় তাহলে তা হারাম। কিন্তু যদি স্বামীর সামনে নিজের চুলের সৌন্দর্য অবলম্বন করা উদ্দেশ্য হয় অথবা লম্বা চুলের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে হয় বা এ জাতীয় গ্রহণযোগ্য উদ্দেশ্যে হয় তাহলে সঠিক মতানুযায়ী চুল ছোট করা জায়েজ আছে।

এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে,
كَانَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذْنَ مِنْ رُءُوسِهِنَّ حَتَّى تَكُونَ كَالْوَفْرَةِ

“রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীগণ এমনভাবে তাদের মাথার চুল কাটতেন যে, তা কাঁধ থেকে একটু নিচে যেত বা কান বরাবর হত।” [সহীহ মুসলিম, হা/৩২০]

❂ ইমাম নওয়াবি রহ. উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,
فيه دليل على جواز تخفيف الشعور للنساء
“এতে প্রমাণিত হয় যে, নারীদের চুল কেটে হালকা করা জায়েজ।” [শরহে মুসলিম, ৫/৪]

❂ আল্লামা উসাইমিন রাহ. বলেন, এই মূহুর্তে আমার এমন কোন দলিল জানা নাই যা দ্বারা নারীদের চুল কাটা হারাম প্রমাণিত হয়। হারাম বলার মত দুর্বল; এর কোন যৌক্তিকতা নেই। মকরুহ বলার মতটিও প্রশ্নবিদ্ধ। আর বৈধ হওয়ার মতটিই দলিল এবং মূলনীতির কাছাকাছি। যেহেতু রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর তার এর স্ত্রীদের চুল কাটার হাদিস সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

❂ সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. কে প্রশ্ন করা হয়, সামনের দিক থেকে চুল কাটা কি হারাম যদি তা শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্য হয়?
তিনি উত্তরে বলেন,
لا حرج في ذلك، الحمد لله، المهم صيانة ذلك عن الأجنبي، فإذا كان عندما يظهر الزوج والنساء والمحارم، فلا حرج في ذلك
"এতে কোনও সমস্যা নেই, আলহামদুলিল্লাহ। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরুষদের থেকে তা গোপন রাখা। যদি এটি কেবল স্বামী, মহিলা এবং মাহরাম পুরুষদের (যেসব পুরুষদের সামনে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম, যেমন: পিতা, সন্তান, দাদা, চাচা মামা ইত্যাদি) সামনে প্রকাশিত হয় তাহলে এতে কোনও অসুবিধা নেই।"

❂ হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত দুটি ফতোয়ার কিতাবে বলা হয়েছে, “পুরুষদের সঙ্গে, বিধর্মী বা ফাসেকদের সঙ্গে সাদৃশ্য না হলে সৌন্দর্য বাড়াতে নারীদের জন্য তুলনামূলক চুল ছোট করা জায়েজ আছে।” [ফাতাওয়া শামি ৯/৫৮৩, ফাতাওয়া আলমগিরি, ৫/৩৫৮]

মোটকথা, একজন নারী যদি মাথার চুল ছোট করার প্রয়োজন মনে করে তাহলে উপরোক্ত শর্তসাপেক্ষে তা কাটতে বা ছাটতে কোনও সমস্যা নেই। তবে উদ্দেশ্যে যেন হয়, কেবল সৌন্দর্য বর্ধন বা লম্বা চুলের কষ্ট লাঘব। কোনও কাফের-ফাসেক নায়িক বা তথাকথিত মডেলের সাদৃশ্য অবলম্বন করা উদ্দেশ্য নয়। আর এতটা ছোট যেন না করে যাতে পুরুষদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, মাথার বিশেষ কোনও সমস্যায় মাথার চুল মুণ্ডন করা অপরিহার্য না হলে মহিলাদের মাথার চুল মুণ্ডন করা হারাম।

আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইস্তেগফার ও দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার....জালিম শাসকের জুলুম থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন:اللَّهُمَّ...
07/18/2024

ইস্তেগফার ও দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার....জালিম শাসকের জুলুম থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন:

اللَّهُمَّ ربَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، كُنْ لِي جَاراً مِنْ فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ، وَأَحْزَابِهِ مِنْ خَلاَئِقِكَ، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ يَطْغَى، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি, ওয়া রব্বাল আরশিল আজিম। কুন লি জারান মিন ফুলানিবনি ফুলানিন, ওয়া আহজাবিহি মিন খালাইকিকা, আইয়াফরুতা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও ইয়াত্বগা, আজ্জা জারুকা, ওয়া জাল্লা সানাউকা, ওয়া লা ইলাহা ইল্লা আনতা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি সাত আকাশের রব, আপনি মহান আরশের রব। আপনার সৃষ্টিকুলের মধ্য থেকে অমুকের পুত্র অমুক এবং তার বাহিনী থেকে আপনি আমাকে আশ্রয় দিন। যেন তাদের কেউ আমার ওপর আক্রমণ বা সীমালঙ্ঘন করতে না পারে। আপনার আশ্রয় শক্তিশালী, আপনার প্রশংসা তো অতি মহান। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ অত্যাচারী শাসকের ভয় করলে সে যেন এই দোয়া পড়ে। (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং : ৫৪৫)।

হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি সব সৃষ্টির উপাস্য, আমাকে ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি রাজাদের রাজা। সম্রাটদের সম্রাট। রাজাদের অন্তর আমার নিয়ন্ত্রণাধীন। বান্দাগণ যখন আমার আনুগত্য করে, তখন তাদের রাজা-বাদশাহদের অন্তরকে রহমত ও করুণার সমন্বয়ে তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেই। আর যখন বান্দারা আমার অবাধ্যতা অবলম্বন করে, তখন রাজা-বাদশাহদের অন্তরকে রাগ ও কঠোরতার দিকে ঝুঁকিয়ে দেই; যার ফলে তারা প্রজাদের কঠিন নিপীড়ন আস্বাদন করায়।’ (আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৩/১৮০; মিশকাত, হাদিস : ৩৭২১)।

মানুষের ওপর জালেম ও অত্যাচারী শাসক চাপিয়ে দেওয়া হয় মানুষের অপকর্মের কারণে।

আল্লাহ বলেন: বান্দারা যখন আমার অবাধ্যতা অবলম্বন করে,তখন রাজা-বাদশাহদের অন্তরকে রাগ ও কঠোরতার দিকে ঝু্ঁকিয়ে দেই,যার ফলে তারা প্রজাদের কঠিন আস্বাদন করায়।সুতরাং হে বান্দাগন!তোমরা রাজা-বাদশাহদের জন্য

বদ্ দোয়া করনা; বরং আমার স্মরনে আত্মনিয়োগ কর এবং আমার সামনে

কান্নাকাটি করতে থাক; আমি তোমাদের জন্য যথেষ্ট হব।

এক বিশাল ব্যবসায়ি, তাঁর সবই আছে খালি মনে শান্তি নেই। খালি হাহাকার আর টেনশান। চিন্তায় মাথার চুল একটাও বাকি নেই। সে একদিন ...
05/25/2024

এক বিশাল ব্যবসায়ি, তাঁর সবই আছে খালি মনে শান্তি নেই। খালি হাহাকার আর টেনশান। চিন্তায় মাথার চুল একটাও বাকি নেই। সে একদিন দেখল তাঁর অফিসের পিয়ন টেবিল মুছছে আর গুনগুন করে গান গাচ্ছে।

সে পিয়নকে ডেকে বলল, এই যে তুমি মনে মনে গান গাও, তোমার কি মনে অনেক সুখ, তোমার মনে কি কোন দুঃখ নেই, কোন হতাশা নেই ?

পিয়ন বললো, না, হতাশা কেন থাকবে স্যার? আপনি যা বেতন দেন, তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ আমার ভালই চলে যায়। আল্লাহর রহমতে আমার কোন অভাব নেই।

ব্যবসায়ি তো আরো টেনশানে পড়ে গেলেন। ওনার ম্যানেজারকে ডেকে বললেন, আমার সব আছে কিন্তু তবু মনে কোনো শান্তি নেই, আর ওই লোককে আমি সামান্য কয়টা টাকা বেতন দেই, অথচ দেখো, সে আছে মহা সুখে, এর রহ্স্যটা কি?

ম্যানেজার বলল , রহস্য আপনাকে বললে বুঝবেননা স্যার। সত্যই যদি বুঝতে চান, তাহলে ওই পিয়নকে প্রমোশান দিয়ে একটা বড় পোস্টে দিন। আর তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে দিন। এরপর দেখুন।

ব্যবসায়ি তাই করল। এতোগুলো টাকা,আর এতবড় চাকরি পেয়ে পিয়ন তো আনন্দে আত্মহারা। বাসায়ও সবাই খুশি। যেহেতু এখন অফিসার হয়ে গেছে, এখনতো আর টিনের ঘরে থাকা যায়না। কলিগরা কি মনে করবে।

তাই প্রথমেই সে বাসা পরিবর্তন করে আরেকটু অভিজাত এলাকায় এপার্টমেন্টে উঠলো। দেখল, বিল্ডিং এর সবাই সন্তানকে নামীদামী স্কুলে পাঠায়, তাই বাচ্চার স্কুলও চেঞ্জ করতে হল। কিছুদিন পড় বউ ঘ্যানঘ্যান শুরু করলো, সবার বাসায় কত দামি আসবাব, ফ্রিজ, টিভি, আর আমাদের বাসায় কিচ্ছু নেই। তাই এবার ওগুলোও কিনতে হোলো। এরপর শুরু হোল বাচ্চার প্রাইভেট টিউশান, নানা রকম দাবি দাওয়া। আগে ঈদে একজোড়া জুতা পেয়েই সবাই কত খুশি হত, আর এখন প্রতি মাসে একজোড়া দিলেও তৃপ্তি নেই।

যেহেতু সে এখন বড় চাকরি করে, তাই পরিবারের সবার তাঁর কাছে প্রত্যশাও অনেক। সাধ্যমত চেষ্টা করে, তাও সবার চাহিদা মেটাতে পারেনা। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা তাঁকে অহংকারি ভেবে দুরে সরে গেলো।

এদিকে অফিসের সবাই ফ্ল্যাট/প্লট এসব বুকিং দিচ্ছে। বৌ সারাদিন বাসায় খোটা দেয় , তোমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা। ছেলে মেয়র ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সে চাকরির ফাঁকে একটা দুইটা টিউশানি করাও শুরু করলো। তাতেও কিছু হয়না। নানাবিধ টেনশান আর দুশ্চিন্তায় তারও মাথার চুল আস্তে আস্তে কমতে লাগলো।

ব্যবসায়ি লক্ষ করলেন ব্যপারটা। উনি বললেন কি ব্যপার , তোমাকে এতো বড় প্রমোশান দিলাম, এতো টাকা দিলাম, আর এখন দেখি তুমি আগের মত আর প্রাণবন্ত নেই। ঘটনা কি?

সে বলল স্যার , আপনি আমাকে কিছু দুনিয়াবি সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর সাথে যে এতো চাহিদা আর অভাব আসবে তা তো আর বুঝিনি। আগে আমার কিছুই ছিলনা, তাই অভাবও ছিলনা। আর এখন যে দিকেই তাকাই , খালি নাই আর নাই। আগে আমার অভাব পড়লেও সেটা ছিল এক দুই হাজারের ব্যাপার। কোন ভাবে মেটান যেত। আর এখন আমার অভাব লক্ষ কোটি টাকার। এটা মেটাবো কিভাবে, সে চিন্তায় আমার এখন আর রাতে ঘুম আসেনা স্যার।

ব্যবসায়ি বলল, এতদিনে বুঝলাম, আমার মুল অসুখ। এক টাকার সম্পদের সাথে ২ টাকার অভাব আসে। যতই দুনিয়ার পিছনে ছুটি কবরের মাটি ছাড়া এই অভাব আর অন্য কিছু দিয়েই পূর্ণ হবে না।

যেই ৭টি জিকির ও দোয়া সকল দোয়ার নির্যাসঃ  ১- দুরুদঃ   اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّ...
04/14/2024

যেই ৭টি জিকির ও দোয়া সকল দোয়ার নির্যাসঃ

১- দুরুদঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ, اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ছল্লি ‘আলা- মুহাম্মাদ ওয়া ‘আলা- আ-লি মুহাম্মাদ কামা ছল্লায়তা ‘আলা- ইবরা-হীম ওয়া ‘আলা- আ-লি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক ‘আলা- মুহাম্মাদ ওয়া ‘আলা- আ-লি মুহাম্মাদ কামা বা-রকতা ‘আলা- ইবরাহীম ওয়া ‘আলা- আ-লি ইবরাহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর সালাত প্রেরণ (তাদেরকে ভালো হিসেবে স্মরণ) করুন, যেমনিভাবে আপনি ইবরাহীমের উপর এবং ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর সালাত প্রেরণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি মহা প্রশংসিত, মহা সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর, যেমনিভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীমের উপর এবং ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয়ই আপনি মহা প্রশংসিত, মহা সম্মানিত।

২- ইস্তেগফারঃ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيّوُمُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ

উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কায়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অর্থঃ আমি মহামহিম আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।’ আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।

৩- নিম্নোক্ত জিকিরঃ

يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ

উচ্চারণঃ ইয়া যালজালা-লি ওয়াল-ইকরা-ম।

অর্থঃ , হে মহিমাময় ও সম্মানের অধিকারী, আপনি বরকতময়।

৪- নিম্নোক্ত দোয়াঃ

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

উচ্চারণঃ লা হাউলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।

অর্থঃ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই।

৫- দোয়া ইউনূসঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণঃ লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।
অর্থঃ একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী।

৬- নিম্নোক্ত জিকিরঃ

سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ সুবহানাল্লা-হি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার।

অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

৭- নিম্নোক্ত দোয়াঃ

لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكَ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْر

উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহু হামদ, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্বও তার। প্রশংসা শুধু তারই। তিনিই সব কিছুর সর্বশক্তিমান।

ইশার সালাতের শুরু ও শেষ সময় কখন ?মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই (অর্থাৎ পশ্চিম দিগন্তের লাল আভা অদৃশ্য হওয়ার সাথে সা...
03/20/2024

ইশার সালাতের শুরু ও শেষ সময় কখন ?

মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই (অর্থাৎ পশ্চিম দিগন্তের লাল আভা অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে) ইশার ওয়াক্ত শুরু হয় এবং মধ্যরাত পর্যন্ত তা বিদ্যমান থাকে। এ মর্মে হাদিস হল:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ وَقْتُ الظُّهْرِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَسْقُطْ ثَوْرُ الشَّفَقِ وَوَقْتُ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَوَقْتُ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ
‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আসরের সলাতের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যোহরের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। ইশার সলাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সলাতের সময় থাকে যতক্ষণ সূর্যোদয় না হয়।" [সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ, অধ্যায়: পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময়, হা/১২৭৩০]
তবে কেউ যদি ভুলে যায় অথবা ঘুমের কারণে যথাসময়ে পড়তে না পারে তাহলে যখনই তার স্মরণ হবে বা ঘুম ভাঙ্গবে তখনোই কাল বিলম্ব না করে তা আদায় করবে তাহলে গুনাহ হবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে অর্ধরাত্রি অতিক্রম করে ইশার নামায পড়া জায়েয নাই।
অবশ্য কিছু আলেমের মতে, জরুরত বশত: ফজরের পূর্ব পর্যন্ত পড়া জায়েয রয়েছে। অর্থাৎ বিশেষ প্রয়োজন বশত: ফজর হওয়া আগ পর্যন্ত জায়েয। তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করা ঠিক নয়।
কিন্তু শক্তিশালী দলীল থাকার কারণে প্রথম অভিমতটি অধিক অগ্রাধিকার যোগ্য। সতর্কতা বিবেচনায়ও এটি অধিক গ্রহণযোগ্য। কেননা সালাতের মত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্তকতা কাম্য।
সুতরাং সর্বাধিক সঠিক কথা হল, ইশার সালাতের শেষ সময় হল, অর্ধরাত্রি। এর পরে আদায় করলে তা কাযা হিসেবে গণ্য হবে। [এ মত ব্যক্ত করেছেন আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন রহ [শারহুল মুমতি ২/৫৩]
❖ মধ্যরাত নির্ধারণের পদ্ধতি কি?
মধ্যরাত নির্ধারণের পদ্ধতি হল, সূর্যাস্ত থেকে ফজরের সময় হওয়ার সময় হিসাব করে এর ঠিক মধ্যবর্তী সময়টা মধ্যরাত্রি তথা ইশার নামাযের শেষ ওয়াক্ত।
উদাহরণ: সূর্য যদি সন্ধ্যা ৫টায় অস্ত যায় আর ফজরের সময় হয় ভোর ৫টায়। তাহলে তার মানে হল, মধ্যরাত রাত ১১টা। অনুরূপভাবে, সন্ধ্যা ৫ টায় সূর্য অস্ত গিয়ে ভোর ৬টায় ফজর হলে মধ্যরাত্রি হবে রাত ১১.৩০ মি:।
আল্লাহু আলাম

মাগরিব সালাতের শুরু এবং শেষ সময়:সূর্য পরিপূর্ণভাবে অস্ত গেলে মাগরিব সালাতের সময় শুরু হয় এবং পশ্চিম দিগন্তে রক্তিম আভা (ا...
03/20/2024

মাগরিব সালাতের শুরু এবং শেষ সময়:

সূর্য পরিপূর্ণভাবে অস্ত গেলে মাগরিব সালাতের সময় শুরু হয় এবং পশ্চিম দিগন্তে রক্তিম আভা (الشفق) ডুবে যাওয়া পর্যন্ত তা অবশিষ্ট থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَالَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ
"এবং মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত থাকে যতক্ষণ না শাফাক অন্তর্হিত হয়।" [সহীহ মুসলিম, হা/ ১৪১৯]
শাফাক এর আভিধানিক অর্থ:
الشَّفَقُ: حُمْرَةٌ تَظْهَرُ في الأفُقِ حيث تغْرب الشمسُ، وتستمرُّ من الغروب إلى قبيل العشاء تقريبًا
“শাফাক হল, সূর্যাস্তের পর (পশ্চিম) দিগন্তে যে লাল আভা প্রস্ফুটিত হয় এবং প্রায় ইশার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।” [আল মাআনি-অনলাইন আরবি অভিধান]
আর ঘড়ির সময়ের হিসেবে সূর্যাস্তের পর থেকে প্রায় ৮৫ বা ৯০ মিনিট পর্যন্ত মাগরিবের সময় অবশিষ্ট থাকে। তারপর ইশার ওয়াক্ত শুরু হয়।
❐ এ বিষয়ে শাইখ বিন বাজ রাহ .এর ফতোয়া প্রদান করা হল:
প্রশ্ন: সম্মানিত শায়খ, আজানের পর সময়ের হিসেবে মাগরিবের সময় কতক্ষণ থাকে?
উত্তর:
“বেশিরভাগ এ সময়টা প্রায় দেড় ঘণ্টা। সূর্যাস্ত এবং শাফাক তথা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অস্তমিত হওয়ার মাঝে সময় থাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বা পাঁচ মিনিট কম দেড় ঘণ্টা। তবে মানুষ সতর্কতার জন্য ‘দেড় ঘণ্টা’ সময় গ্রহণ করেছে। এসময়ের মধ্যে রক্তিম আভা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ইশার সালাতের সময় প্রবেশ করে।
মরুভূমিতে (বা উন্মুক্ত মাঠে দাঁড়িয়ে) এই রক্তিম আভা অদৃশ্য হওয়ার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া প্রয়োজন। যে তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভালো করে খেয়াল করবে সে মিনিটের হিসেবে এসময়-সীমাটা নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে। তবে এখন যা গ্রহণ করা হয়েছে তা হল, সর্তকতার স্বার্থে দেড় ঘণ্টা। সূর্যাস্ত থেকে পশ্চিম দিগন্তে লাল আভা ডুবে যাওয়ার সময় দেড় ঘণ্টা।” [ফাতাওয়া বিন বাজ, নূরুন আলাদ দারব (ফতোয়া বিষয়ক জনপ্রিয় সৌদি রেডিও প্রোগ্রাম) ৭/২৭-২৮]
এখান থেকে বুঝা গেল, মাগরিব সালাতের সময় যথেষ্ট দীর্ঘ। কিন্তু আমাদের সমাজে এ সময়টাকে খুব সংকীর্ণ ভাবা হয়। যার কারণে অধিকাংশ মসজিদে মাগরিবের আজান শেষ হতে না হতেই নামাজ শুরু করে দেয়া হয়। অথচ আরব বিশ্বের মসজিদগুলোতে সাধারণত: আজানের কমপক্ষে ১০ মিনিট পরে সালাত দাঁড়ায়। এ সময় মানুষ কর্মব্যস্ততা ছেড়ে ওজু করে মসজিদে এসে সুন্দরভাবে দু রাকাআত তাহিয়াতুল মসজিদ পড়ে। তারপর কিছুক্ষণ বসে কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করে। তারপর সালাত শুরু হয়।

ফজরের আজান শুরু হয়েছে, এমতাবস্থায় আপনার হাতে সেহরির খাবার; এখন কী করবেন ?নিশ্চয় রোজার নিয়তকারী ব্যক্তির পানাহারের প্রান্...
03/20/2024

ফজরের আজান শুরু হয়েছে, এমতাবস্থায় আপনার হাতে সেহরির খাবার; এখন কী করবেন ?

নিশ্চয় রোজার নিয়তকারী ব্যক্তির পানাহারের প্রান্তসীমা তখন উপনীত হয়, যখন মুয়াজ্জিন ফজর উদয়ের আজান আরম্ভ করে। যে ব্যক্তি রোজার নিয়ত করেছে, সে যখন মুয়াজ্জিনের উক্ত আজান শোনে, তখন পানাহার থেকে বিরত হওয়া এবং মুখগহ্বরে স্থিত আহার্য ও পানীয় মুখ থেকে ফেলে দেওয়া তার জন্য আবশ্যক (ওয়াজিব)। নচেৎ তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা চার মাযহাবের ‘উলামা এবং যাহিরী ও অন্যান্য বিদ্বানদের অধিকাংশের অভিমত।
এমনকি দুই ফাক্বীহ—ইবনু বাত্বত্বাল আল-মালিকী তদীয় ‘শারহু সাহীহিল বুখারী’ গ্রন্থে (খ. ২; পৃ. ২৪৯) এবং আন-নাওয়াউয়ী আশ-শাফি‘ঈ স্বীয় “আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব” গ্রন্থে (খ. ৬; পৃ. ৩৩৩) উল্লেখ করেছেন, তদনুরূপ আরও কতিপয় ফাক্বীহ উল্লেখ করেছেন, এ বিষয়ে ‘উলামাদের মধ্যে কোনো মতদ্বৈধতা নেই যে, ফজর উদিত হয়ে গেলে পানাহাররত ব্যক্তিকে মুখের মধ্যকার খাবার বা পানীয় ফেলে দিতে হবে।
ইমাম ইবনু ক্বাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তাহযীবু সুনানি আবী দাঊদ’ গ্রন্থে (খ. ৬; পৃ. ৩৪১; হা/২৩৪৭ – এর সংশ্লিষ্ট আলোচনা; টীকায় ‘আওনুল মা‘বূদের টেক্সট-সহ) বলেছেন, وذهب الجمهور إلى امتناع السحور بطلوع الفجر، وهو قول الأئمة الأربعة، وعامة فقهاء الأمصار، ورُوي معناه عن عمر، وابن عباس “অধিকাংশ বিদ্বান এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, ফজর উদিত হয়ে গেলে সেহরি করা নিষিদ্ধ। এটি চার ইমামের অভিমত এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফাক্বীহবৃন্দের অধিকাংশের অভিমত। এই মর্মের কথা বর্ণিত হয়েছে ‘উমার ও ইবনু ‘আব্বাস থেকে।”
·
এক. আমি বলছি, এটা একারণে যে, নাবী ﷺ থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি ﷺ বলেছেন, فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا أَذَانَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ “ইবনে উম্মে মাকতুমের আজান না শোনা পর্যন্ত তোমরা পানাহার করো।” [সাহীহ বুখারী, হা/২৬৫৬, ৬২২, ৬১৭, ১৯১৮; সাহীহ মুসলিম, হা/১০৯২; ‘আইশাহ ও ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) বর্ণিত হাদীস থেকে]
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তদীয় “শারহুল ‘উমদাহ” গ্রন্থে (খ. ১; পৃ. ৫২৬; রোজা অধ্যায়; হা/৫৫৭ – এর পার্শ্ববর্তী আলোচনা) উদ্ধৃত হাদীস থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,
فقد أجاز صلى الله عليه وسلم الأكل إلى حين يُؤذِّن ابن أمِّ مَكتوم، مع قوله: إنَّهُ لا يُؤَذِنُ حتَّى يَطْلُعَ الفَجْر. ومعلومٌ أنَّ مَن أكل حين تأذينه، فقد أكل بعد طلوع الفجر، لأنَّه لابُدَّ أنْ يتأخَّر تأذينه عن طلوع الفجر، ولو لحظة
“ইবনে উম্মে মাকতুমের আজানের শুরু অবধি পানাহার করাকে নাবী ﷺ বৈধ করেছেন। সেই সাথে তিনি বলে দিয়েছেন, কেননা সে ফজর উদয় না হওয়ার আগে আজান দেয় না। এ থেকে বিদিত হয় যে, আজানের সময় যে ব্যক্তি আহার করে, সে মূলত ফজর উদিত হওয়ার পরই আহার করে। কেননা তাঁর আজান ফজর উদিত হওয়ার পরেই আরম্ভ হয়, যদিও উদয়কাল ও আজান আরম্ভের মধ্যকার ক্ষণটি সামান্য হয়ে থাকে।”
·
দুই. উক্ত আলোচনাকে জোরদার করে নিম্নে বর্ণিত এই হাদীস। নাবী ﷺ বলেছেন, لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ مِنْ سُحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ، وَيُوقِظَ نَائِمَكُمْ “বিলালের আজান যেন তোমাদেরকে সেহরি খাওয়া থেকে বাধা না দেয়। কেননা সে রাত অবশিষ্ট থাকতেই আজান দেয়, যাতে করে তোমাদের মধ্যে যারা ক্বিয়ামকারী তারা গৃহে ফিরে যায়, আর ঘুমন্ত ব্যক্তিরা জাগ্রত হয়।” [সাহীহ বুখারী, হা/৬২১, ৫২৯৮, ৭২৪৭; সাহীহ মুসলিম, হা/১০৯৩; ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে]
এই হাদীস প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি রোজার নিয়ত করেছে, সে আজান শুরু হলে পানাহার থেকে বিরত হবে। তবে বিলালের আজান শুরু হলে তা করবে না। কেবল সেই আজানের ক্ষেত্রেই তা করবে, যেই আজান সুবহে সাদিকের সময় প্রথম আজানের পরে দেওয়া হয়।
·
তিন. এতদ্ব্যতীত আলোচ্য বক্তব্যের প্রমাণ হলো স্বয়ং মহান আল্লাহর বাণী। মহান আল্লাহ সূরাহ বাক্বারাহয় উদ্ধৃত রোজার আয়াতসমূহে বলেছেন, وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ “ফজরের কালো রেখা থেকে সাদা রেখা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করো; অতঃপর রাতের আগমন অবধি রোজাকে সম্পূর্ণ করো।” [সূরাহ বাক্বারাহ: ১৮৭]
‘পর্যন্ত (حَتَّى)’ একটি অব্যয়, যা সময়ের প্রান্তসীমা শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থ জ্ঞাপন করে। ফলে এই আয়াত প্রমাণ করছে, ফজর উদিত হওয়ার সময় থেকেই পানাহার থেকে বিরত থাকার ক্ষণ শুরু হয়। উল্লিখিত দলিলগুলোর সুস্পষ্ট মর্মার্থ ওই ব্যক্তিকে শামিল করে, যার হাতে কিংবা সম্মুখে আজানের সময় খাদ্য ও পানীয় থাকে। আবার তা ওই ব্যক্তিকেও শামিল করে, যার সম্মুখে আজানের সময় আহার্য থাকে না।
·
❏ ভিন্ন মতাবলম্বীদের দলিলের পর্যালোচনা:
পক্ষান্তরে একটি হাদীস রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, إِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمُ النِّدَاءَ وَالإِنَاءُ عَلَى يَدِهِ فَلاَ يَضَعْهُ حَتَّى يَقْضِىَ حَاجَتَهُ مِنْهُ “তোমাদের কেউ যখন আজান শোনে, এমতাবস্থায় তার হাতে রয়েছে পানপাত্র, তখন সে যেন ওই পাত্র থেকে নিজের প্রয়োজন সম্পূর্ণ না করার আগে তা রেখে না দেয়।”
এই হাদীস দুই দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ। যথা:
এক. সনদের দিক থেকে। কেননা হাম্মাদ বিন সালামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক হাদীসটির মাওকূফ, মারফূ‘, মুরসাল ও মাক্বতূ‘ বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ, ‘আব্দুল আ‘লা বিন হাম্মাদ, ‘আফফান, গাসসান, ‘আব্দুল ওয়াহিদ বিন গিয়াস, ‘উবাইদুল্লাহ ও ‘আব্বাস। তাঁরা সকলেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ‘আমর আল-লাইসী থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন। এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন মারফূ‘ সূত্রে।
আর মুহাম্মাদ বিন ‘আমরও মতানৈক্যপূর্ণ রাবি (مُختَلَفٌ فيه)। হাদীসটি গ্রন্থাবদ্ধ করেছেন ইমাম আহমাদ (হা/৯৪৭৪, ১০৬২৯), আবূ দাঊদ (হা/২৩৫২), ইবনু জারীর তদীয় তাফসীর গ্রন্থে (হা/৩০১৫) এবং হাকিম (হা/৭২৯, ৭৪০ ও ১৫৫২)। এছাড়াও হাদীসটি রয়েছে নিম্নোক্ত গ্রন্থদ্বয়ে—মাজমূ‘ ফীহি মুসান্নাফাত আবিল হাসান ইবনিল হুমামী ওয়া আজযাউন হাদীসিয়্যাতুন উখরা (৫৪-৫৮৫), আল-ফাওয়াইদুল মুনতাক্বাতু মিনাল জুযইল আওয়্যালি মিন হাদীসি ইবনি আবী সাবির (হা/২)।
তদনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ, হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি ‘আম্মার বিন আবূ ‘আম্মার থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ থেকে, তিনি নাবী ﷺ থেকে। অর্থাৎ, হাদীসটি মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি গ্রন্থাবদ্ধ করেছেন আহমাদ (হা/১০৬৩০), ইবনু জারীর তদীয় তাফসীরে (হা/৩০১৬) এবং হাকিম (হা/৭৪০)।
অনুরূপভাবে হাম্মাদ বিন সালামাহ মাওকূফ সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ফলে ইমাম আবূ হাতিম আর-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ) কে যখন তাঁর পুত্র হাফিয ‘আব্দুর রহমান যখন প্রশ্ন করেন, তখন তিনি এ মর্মে বর্ণিত মারফূ‘ সূত্রের হাদীসকে দুর্বল আখ্যা দেওয়ার পর বলেছেন, أمَّا حديث عمَّار: فعن أبي هريرة موقوف “পক্ষান্তরে ‘আম্মারের হাদীস আবূ হুরাইরাহ থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।” [কিতাবুল ‘ইলাল, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২৩৫-২৩৬; প্রশ্ন নং: ৩৪০; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ১৩৭-১৩৮; প্রশ্ন নং: ৭৫৯]
·
ইবনু হাযম আয-যাহিরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “হাম্মাদ বিন সালামাহর সনদে বর্ণিত হয়েছে, আমাদের কাছে হুমাইদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ রাফি‘ ও অন্যদের থেকে, তাঁরা আবূ হুরাইরাহ থেকে। একদা তিনি আজান শুনলেন, এমতাবস্থায় তাঁর হাতে রয়েছে পানপাত্র, তখন তিনি বললেন, কাবার রবের কসম, আমি এই বিধান সংরক্ষণ করেছি (أَنَّهُ سَمِعَ النِّدَاءَ وَالْإِنَاءُ عَلَى يَدِهِ فَقَالَ: أَحْرَزْتُهَا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ)।
হাদীসটি হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন, ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি নাবী ﷺ থেকে। অর্থাৎ হাদীসটি মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি গ্রন্থাবদ্ধ করেছেন আহমাদ (হা/৯৪৭৪) এবং বাইহাক্বী তদীয় ‘খিলাফিয়্যাত’ গ্রন্থে (খ. ২; পৃ. ৪৮; সংখ্যা: ১১২০)।
তদনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল আ‘লা, হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি স্বীয় পিতা থেকে, তিনি তাঁদের উদ্দেশে বলতেন, إذا سمعَ أحدُكم النِّداءَ والإناءُ على يَديهِ فلا يضعْه حتى يَقضيَ حاجتَه مِنه، وكانَ يأمرُ بَنيهِ بِه ‘তোমাদের কেউ যখন আজান শোনে, এমতাবস্থায় তার হাতে রয়েছে পানপাত্র, তখন সে যেন ওই পাত্র থেকে নিজের প্রয়োজন সম্পূর্ণ না করার আগে তা রেখে না দেয়।’ তিনি তাঁর সন্তানসন্ততিকে এ কাজের আদেশ দিতেন। এই হাদীসটি মাক্বতূ‘ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি গ্রন্থাবদ্ধ হয়েছে এই গ্রন্থে—মাজমূ‘ ফীহি মুসান্নাফাত আবিল হাসান ইবনিল হুমামী ওয়া আজযাউন হাদীসিয়্যাতুন উখরা (২৬-৫৭৭)।
হাদীসটিকে দুর্বল (দ্ব‘ঈফ) বলেছেন মহামতি মুহাদ্দিস ইমাম আবূ হাতিম আর-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ)। যেমনটি রয়েছে তাঁর পুত্র হাফিয ‘আব্দুর রহমান বিরচিত “কিতাবুল ‘ইলাল” গ্রন্থে (খ. ২; পৃ. ২৩৫-২৩৬; প্রশ্ন নং: ৩৪০; খ. ৩; পৃ. ১৩৭-১৩৮; প্রশ্ন নং: ৭৫৯)। আবূ হাতিম আর-রাযী হলেন পূর্ববর্তী যুগের আইম্মাতুল হাদীস এবং জারাহ, তা‘দীল ও ‘ইলালের বয়োজ্যেষ্ঠ ইমামদের অন্যতম।
তাঁর পুত্র ‘আব্দুর রাহমান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমি আমার পিতাকে একটি হাদীস প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ, হাম্মাদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ‘আমর থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ থেকে, তিনি নাবী ﷺ থেকে। তিনি ﷺ বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন আজান শোনে, এমতাবস্থায় তার হাতে রয়েছে পানপাত্র, তখন সে যেন ওই পাত্র থেকে নিজের প্রয়োজন সম্পূর্ণ না করার আগে তা রেখে না দেয়।’
আমি আমার পিতাকে বললাম, হাদীসটি রাওহ বর্ণনা করেছেন (ভিন্ন সূত্রে), হাম্মাদ থেকে, তিনি ‘আম্মার বিন আবূ ‘আম্মার থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ থেকে, তিনি নাবী ﷺ থেকে অনুরূপ হাদীসই বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে এই অংশ বাড়তি রয়েছে যে, ‘যখন ফজর উদ্ভাসিত হয়, তখন মুয়াজ্জিন আজান দেয়।’ আমার পিতা জবাবে বলেছেন, এই হাদীস দুটো বিশুদ্ধ নয় (هذان الحديثان لَيْسَا بِصَحِيحَين)। পক্ষান্তরে ‘আম্মারের হাদীস আবূ হুরাইরাহ থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত। আম্মার সিক্বাহ (বিশ্বস্ত), কিন্তু অন্য হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়।” [ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ), আল-মুহাল্লা, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৩৭১]
আল-‘আল্লামাতুল মুহাদ্দিস মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসকে তাঁর লেখা “আহাদীসু মু‘আল্লাহ যাহিরুহাস সিহহাহ (ত্রুটিপূর্ণ হাদীসের সমাহার, বাহ্যিকভাবে যেসবকে সহিহ মনে হয়)”– শীর্ষক গ্রন্থে (পৃ. ৩৬৪; হা/৪৬৮) উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি এ প্রসঙ্গে ইমাম আবূ হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ)’র বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।
·
দুই. মতন বা মূল টেক্সটের দিক থেকে (হাদীসটি ত্রুটিপূর্ণ)। কেননা উক্ত হাদীস সূরাহ বাক্বারাহর সুস্পষ্ট আয়াতের বিরোধী এবং তার চেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহের পরিপন্থি। যেসব বিশুদ্ধ হাদীস বুখারী ও মুসলিম তাঁদের দুই সাহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যেমন ইবনু মাস‘ঊদ, উম্মুল মু’মিনীন ‘আইশাহ, ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) প্রমুখের হাদীস। যে হাদীসগুলো প্রমাণ করে, রোজার নিয়ত করেছে এমন ব্যক্তি, যার হাতে খাদ্য বা পানীয় রয়েছে, তার পানাহার থেকে বিরত হওয়ার প্রান্তসীমা হলো ফজর উদয়ের সময়।
‘উলামাদের নিকট এই অর্থই সাব্যস্ত হয়েছে, যখন হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ থাকে। তাহলে তখন ব্যাপারটি কেমন হবে, যখন হাদীসটির সনদও ত্রুটিপূর্ণ?! আমি এই পর্যন্ত প্রাক-পূর্ববর্তী আইম্মায়ে হাদীসের কোনো একজনেরও বক্তব্য পাইনি, উক্ত হাদীসকে বিশুদ্ধ আখ্যানের ব্যাপারে। বরং তাঁদের অধিকাংশের সমঝ (ফিক্বহ) এর বিপরীত। অর্থাৎ তাঁদের মত হচ্ছে, আজান শোনার সাথে সাথে পানাহার থেকে বিরত হওয়া এবং মুখগহ্বরে থাকা খাদ্য ও পানীয় ফেলে দেওয়া ওয়াজিব।
আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন। তাঁদের এই সঝম এদিকে ইঙ্গিত করে যে, উক্ত হাদীস তাঁদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়, বরং তা অপ্রমাণিত ও ত্রুটিযুক্ত হাদীস। কিংবা এই হাদীস এভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, ফজর উদয়ের আগেই আজান হয়ে গেলে তখন (উক্ত হাদীসে) আলোচ্য বিধান আমলযোগ্য হবে।
আর সেকারণেই হাফিয বাইহাক্বী আশ-শাফি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন,
وهذا إنْ صحَّ فهو محمولٌ عند عوام أهل العلم: على أنَّه صلى الله عليه وسلم عَلِم أنَّ المُنادي كان يُنادي قبْل طلوع الفجر، بحيث يَقع شُربُه قُبَيل طلوع الفجر. وقول النبي صلى الله عليه وسلم: (( إِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمُ النِّدَاءَ وَالإِنَاءُ عَلَى يَدِهِ ))خبرًا عن النِّداء الأوَّل. ليكون موافقًا لِمَا: أخبرنا أبو عبد الله الحافظ،….، عن عبد الله بن مسعود، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (( لاَ يَمْنَعَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ مِنْ سُحُورِهِ، فَإِنَّمَا يُنَادِى لِيُوقِظَ نَائِمَكُمْ وَيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ ))، رواه مسلم في “الصحيح” عن إسحاق بن إبراهيم، وأخرجه البخاري مِن أوجْه أُخَر عن التَّيمي. وأخبرنا أبو عبد الله الحافظ،….، عن نافع، عن ابن عمر، وعن القاسم، عن عائشة ــ رضي الله عنهما ــ قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (( إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا أَذَانَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ ))، رواه البخاري في “الصحيح” عن عُبيد بن إسماعيل، ورواه مسلم عن أبي بكر بن أبي شيبة، كلاهما عن أبي أسامة،… فإنْ صحَّ فكأنَّ ابن أمِّ مكتوم وقع تأذينه قبل الفجر، فلم يَمتنع رسول الله صلى الله عليه وسلم مِن الأكل. وعلى هذا الذي ذَكرنا تتفِق الأخبار، ولا تَختلف، وبالله التوفيق.اهـ
“হাদীসটি যদি বিশুদ্ধ হয়, তাহলে অধিকাংশ ‘আলিমের নিকট সেটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, নাবী ﷺ জানতেন, মুয়াজ্জিন ফজর উদয় হওয়ার আগে আজান দেয়। যেহেতু তাঁর পানাহার ফজরের আগেই সম্পন্ন হয়। নাবী ﷺ যে বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ আজান শোনে, আর পানপাত্র তার হাতে থাকে’, তা প্রথম আজান প্রসঙ্গে। যাতে করে এই হাদীস নিম্নোক্ত হাদীসদ্বয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আমাদের কাছে আবূ ‘আব্দুল্লাহ আল-হাফিয বর্ণনা করেছেন.... ‘আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘বিলালের আজান যেন তোমাদেরকে সেহরি খাওয়া থেকে বাধা না দেয়। কেননা সে রাত অবশিষ্ট থাকতেই আজান দেয়, যাতে করে তোমাদের মধ্যে যারা ক্বিয়ামকারী তারা গৃহে ফিরে যায়, আর ঘুমন্ত ব্যক্তিরা জাগ্রত হয়।’ ইমাম মুসলিম হাদীসটি তাঁর ‘সাহীহ’ গ্রন্থে ইসহাক্ব বিন ইবরাহীমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম বুখারী হাদীসটি তাইমী থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আমাদের কাছে আবূ ‘আব্দুল্লাহ আল-হাফিয বর্ণনা করেছেন.... নাফি‘র মারফতে ইবনু ‘উমার থেকে, ক্বাসিম হতে বর্ণিত। ‘আইশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘বিলাল রাত অবশিষ্ট থাকতেই আজান দেয়। সুতরাং ইবনে উম্মে মাকতূমের আজান না শোনা পর্যন্ত তোমরা পানাহার করো।’ ইমাম বুখারী হাদীসটি ‘সাহীহ’ গ্রন্থে ‘উবাইদ বিন ইসমা‘ঈলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম মুসলিম আবূ বকর বিন শাইবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং হাদীসটি যদি সহিহ হয়, তাহলে ধরে নিতে হয়, হয়তো ইবনে উম্মে মাকতূমের আজান ফজরের আগেই হয়ে গেছে। ফলে রাসূলুল্লাহ ﷺ (আজানের পরেও) আহার করা থেকে নিষেধ করেননি। আমাদের উল্লিখিত বিবরণের ওপর ভিত্তি করলেই এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসসমূহের মাঝে সামঞ্জস্যতা রক্ষিত হয় এবং বৈপরীত্য থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।” [হাফিয বাইহাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ), সুনানুল কুবরা; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ২১৮; হা/৮২৭৭-৮২৭৯]
ফাক্বীহ ইবনু হাযম আয-যাহিরী (রাহিমাহুল্লাহ) যখন এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এর পশ্চাতে বলেছেন, هذا كله على أنَّه لم يَكن يتبيَّن لهم الفجر بعد، فبهذا تتفق السُّنن مع القرآن “এগুলোর সবই এ অর্থে যে, তাঁদের নিকটে ফজর প্রকাশিত হয়েছিল না। এর মাধ্যমেই কুরআনের সাথে সুন্নাহর সামঞ্জস্যবিধান করা যায়।” [আল-মুহাল্লা, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৩৬৯-৩৭০]
❏ বিশেষ দ্রষ্টব্য:
আমি পূর্বে বলেছি, ‘আমি এই পর্যন্ত প্রাক-পূর্ববর্তী আইম্মায়ে হাদীসের কোনো একজনেরও বক্তব্য পাইনি, উক্ত হাদীসকে বিশুদ্ধ আখ্যানের ব্যাপারে।’ আবূ ‘আব্দুল্লাহ হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) তদীয় ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহিহ বলার দরুন আমার পূর্বোক্ত কথার ব্যাপারে যেন আপত্তি তোলা না হয়। তাই আমি বলছি, এটা এমন একজনের পক্ষ থেকে সহিহ সাব্যস্তকরণ, যিনি হলেন পরবর্তী মুহাদ্দিস এবং সহিহ বলার ক্ষেত্রে শৈথিল্যবাদী। এমনকি তিনি স্বীয় ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে অসংখ্য হাদীসের সনদকে বিশুদ্ধ আখ্যা দিয়েছেন, যেগুলোর কতগুলো জাল, বাজে, খুবই দুর্বল ও দুর্বল হাদীস।
অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (হা/১৪৭৫৫) বলেছেন, “আমাদের কাছে মূসা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইবনু লাহী‘আহ বর্ণনা করেছেন, আবুয যুবাইর থেকে, তিনি বলেন, سألت جابرًا عن الرَّجل يُريُد الصيام والإناء على يَده لِيَشْرَب مِنه، فَيَسْمَع النِّداء، قال جابر: كُنَّا نُحَدَّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِيَشْرَبْ “আমি জাবিরকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যিনি রোজা করার নিয়ত করেছেন, আর তাঁর হাতে পানপাত্র রয়েছে, যা থেকে তিনি পান করতে উপক্রম হয়েছেন, এমন সময় শোনেন, আজান হচ্ছে। তখন জাবির বলেছেন, আমরা হাদীস বর্ণনা করেছি, নাবী ﷺ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সে যেন পান করে নেয়।”
হাদীসটি সনদ ও মতন—উভয় দিক থেকেই ত্রুটিপূর্ণ। এর সনদে দুর্বলতা সাব্যস্ত হয়েছে ইবনু লাহী‘আহর কারণে। কেননা সে ত্রুটিপূর্ণ হেফজের অধিকারী (سيء الحفظ)। আর মতন (মূল টেক্সট) সূরাহ বাক্বারাহর সুস্পষ্ট আয়াত আয়াতের বিরোধী এবং তার চেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহের পরিপন্থি। যেসব বিশুদ্ধ হাদীস বুখারী ও মুসলিম তাঁদের দুই সাহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যেমন ইবনু মাস‘ঊদ, উম্মুল মু’মিনীন ‘আইশাহ, ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) প্রমুখের হাদীস। যে হাদীসগুলো প্রমাণ করে, রোজার নিয়ত করেছে এমন ব্যক্তি, যার হাতে খাদ্য বা পানীয় রয়েছে, তার পানাহার থেকে বিরত হওয়ার প্রান্তসীমা হলো ফজর উদয়ের সময়।

Address

New York, NY
1207

Telephone

+19173360804

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md. Mujahid Hossain posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Md. Mujahid Hossain:

Share