30/03/2026
ইতিহাস
ইতিহাসের ধারণা:
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. নদীমাতৃক সভ্যতা বলতে কী বোঝ?
প্রাচীনকালে অধিকাংশ উন্নত সভ্যতা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। নদীর ওপর ভিত্তি করেই এই সভ্যতাগুলোর মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকা (যেমন- কৃষি ও যাতায়াত) পরিচালিত হতো। তাই এই সভ্যতাগুলোকে নদীমাতৃক সভ্যতা বলা হয় (যেমন: সিন্ধু সভ্যতা)।
২. 'ভারত' শব্দের অর্থ কী?
প্রাচীনকালে 'ভারত' বলতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বোঝাত। পরবর্তীতে এই গোষ্ঠীর নামানুসারে সমগ্র দেশের নাম হয় 'ভারতবর্ষ'। আক্ষরিক অর্থে ভারত বলতে ভরত নামক রাজার বংশধর বা রাজ্যকে বোঝায়।
৩. কোন অঞ্চলকে আর্যাবর্ত বলা হত?
প্রাচীনকালে ভারতের উত্তর অংশকে, বিশেষ করে হিমালয় থেকে বিন্ধ্য পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে আর্যাবর্ত বলা হতো। মনে করা হয়, আর্যরা এই অঞ্চলে বসবাস করত বলেই এর নাম হয়েছিল আর্যাবর্ত।
৪. কোন সময়কে ধাতুর যুগ বলা হয়?
মানুষ যখন পাথরের ব্যবহারের পাশাপাশি তামা, ব্রোঞ্জ বা লোহার মতো ধাতুর ব্যবহার শিখল, তখন থেকেই ধাতুর যুগ শুরু হয়। মূলত ব্রোঞ্জ যুগ এবং লৌহ যুগকে একত্রে ধাতুর যুগ বলা যেতে পারে।
৫. প্রাক-ঐতিহাসিক যুগ বলতে কী বোঝ?
মানুষ যখন লিখতে জানত না বা যে সময়ের কোনো লিখিত বিবরণ পাওয়া যায় না, সেই সময়কে প্রাক-ঐতিহাসিক যুগ বলা হয়। এই যুগের ইতিহাস মূলত পাথরের হাতিয়ার ও অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে জানা যায়।
৬. কে কত সালে গুপ্তাব্দ গণনা শুরু করেন?
গুপ্ত বংশের রাজা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ৩১৯-৩২০ খ্রিস্টাব্দে গুপ্তাব্দ গণনা শুরু করেন।
৭. কোন অঞ্চলকে দ্রাবিড় দেশ বলা হত?
ভারতের দক্ষিণ অংশকে, বিশেষ করে বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণ দিকের অঞ্চলকে দ্রাবিড় দেশ বা দাক্ষিণাত্য বলা হতো। এখানে মূলত দ্রাবিড় ভাষায় কথা বলা মানুষরা বাস করত।
৮. জাদুঘর বলতে কী বোঝ?
জাদুঘর হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান বা স্থান যেখানে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, শিল্পকর্ম এবং বৈজ্ঞানিক বস্তুগুলো যত্ন সহকারে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়।
৯. প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদানগুলি লেখ।
প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদানগুলিকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়:
সাহিত্যিক উপাদান: বেদ, পুরাণ, মহাকাব্য (রামায়ণ, মহাভারত), বিদেশিদের বিবরণ ইত্যাদি।
প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান: শিলালিপি, মুদ্রা, প্রাচীন স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং ধ্বংসাবশেষ।
১০. শাকাব্দ কে কত সালে চালু করেন?
কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ৭৮ খ্রিস্টাব্দে শাকাব্দ চালু করেন। এটি বর্তমানে ভারতের জাতীয় ক্যালেন্ডার হিসেবে স্বীকৃত।
শুন্যস্থান পূরণ করো:
ক) ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ সিয়াচেন।
খ) আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ৫৭২ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
গ) হিমাদ্রি হিমালয় ও পির পাঞ্জালের মাঝে কাশ্মীর উপত্যকা রয়েছে।
ঘ) শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝের সংকীর্ণ অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকাকে দুন বলে।
ঙ) ব্রহ্মপুত্র নদের উৎসস্থল চেমায়ুংদুং হিমবাহ।
চ) পশ্চিমঘাট পর্বতের আরেক নাম সহ্যাদ্রি।
ছ) উপকূল অঞ্চল বরাবর স্থলভাগ সমুদ্রে মিলিত হয়।
জ) লাক্ষাদ্বীপপুঞ্জের সব দ্বীপই হলো প্রবাল দ্বীপ।
বুঝে নিয়ে লেখ (আমি কে?)
ক) আমি ভারতের বৃহত্তম মরুভূমি।
উত্তর: থর মরুভূমি।
খ) আমার জন্ম গোমুখ তুষার গুহা থেকে।
উত্তর: গঙ্গা নদী।
গ) আমি দুটি পর্বতের মাঝের প্রাকৃতিক পথ।
উত্তর: গিরিপথ।
ভৌগোলিক কারণ উল্লেখ করো:
ক) গঙ্গার চেয়ে ব্রহ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়া সত্ত্বেও গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম নদী কেন?
উত্তর: ব্রহ্মপুত্র নদের মোট দৈর্ঘ্য (প্রায় ২,৯০০ কিমি) গঙ্গার (প্রায় ২,৫২৫ কিমি) চেয়ে বেশি হলেও, ব্রহ্মপুত্রের একটি বড় অংশ তিব্বত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যদিকে, গঙ্গা নদীর অধিকাংশ পথই ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত। ভারতে গঙ্গার প্রবাহপথ সবচেয়ে দীর্ঘ হওয়ায় গঙ্গাকেই ভারতের দীর্ঘতম নদী বলা হয়।
সংক্ষেপে উত্তর দাও:
ক) প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? যে কোনো একটি ভাগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ১. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, ২. উত্তরের বিশাল সমভূমি অঞ্চল, ৩. উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল, ৪. পশ্চিমের মরুভূমি অঞ্চল এবং ৫. উপকূলীয় সমভূমি ও দ্বীপপুঞ্জ।একটি ভাগের আলোচনা (উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল): ভারতের উত্তর সীমান্তে ধনুকের মতো অবস্থান করছে হিমালয় পর্বতমালা। এটি বিশ্বের উচ্চতম পর্বতশ্রেণি। এখানে মাউন্ট এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো অনেক উঁচু শৃঙ্গ দেখা যায় এবং এখান থেকেই গঙ্গা, সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্রের মতো বড় বড় নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
খ) ভারতের দীর্ঘতম নদী কোনটি? এই নদীর গতিপথ বর্ণনা করো। এই নদীর উপনদীসমূহের নাম লেখ।
উত্তর: ভারতের দীর্ঘতম নদী হলো গঙ্গা।গতিপথ: গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষার গুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এরপর এটি উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে—প্রধান শাখাটি 'পদ্মা' নামে বাংলাদেশে গেছে এবং অন্যটি 'ভাগীরথী-হুগলি' নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে।উপনদী: গঙ্গার প্রধান প্রধান উপনদী হলো যমুনা, সোন, গোমতী, গণ্ডক, কোশী ইত্যাদি।
ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ
১. 'হোমো হাবিলিস' কথার অর্থ কি?
উত্তর: 'হোমো হাবিলিস' শব্দের অর্থ হলো 'দক্ষ মানুষ' বা 'সুদক্ষ ব্যক্তি'। এরা প্রথম পাথর ব্যবহার করে অস্ত্র বা হাতিয়ার তৈরি করতে শিখেছিল।
২. হোমো ইরেকটাস মানুষের দুটি বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর: এরা প্রথম সোজা হয়ে দু-পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারত।
এরা দলবদ্ধ হয়ে থাকত এবং প্রথম আগুনের ব্যবহার শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
৩. পুরোনো ও নতুন পাথরের যুগের দুটি পার্থক্য লিখ।
উত্তর:
বিষয় পুরোনো পাথরের যুগ (Paleolithic) নতুন পাথরের যুগ (Neolithic)
হাতিয়ার হাতিয়ারগুলো ছিল বড়, ভারী এবং অমসৃণ। হাতিয়ারগুলো ছিল ছোট, ধারালো এবং অনেক মসৃণ।
খাদ্য মানুষ কেবল শিকার করে এবং ফলমূল সংগ্রহ করে খেত। মানুষ নিজের খাবার নিজেই উৎপাদন (চাষাবাদ) করতে শিখেছিল।
৪. দাবানল কি?
উত্তর: বনের শুকনো গাছে গাছে ঘর্ষণে বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে বনে যে প্রচণ্ড আগুন লেগে যায়, তাকেই 'দাবানল' বলা হয়। আদিম মানুষ প্রথম এই দাবানল থেকেই আগুনের পরিচয় পেয়েছিল।
৫. আদিম মানুষ কীভাবে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল?
উত্তর: আদিম মানুষ পাথরে পাথর ঘষে বা কাঠের টুকরো ঘষার মাধ্যমে উৎপন্ন স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল।
৬. 'লুসি'র কঙ্কালটি কোথায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল?
উত্তর: লুসি (Lucy)-র কঙ্কালটি আফ্রিকার ইথিওপিয়ার হাদারে (Hadar) খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এটি প্রায় ৩০ লক্ষ বছরেরও বেশি পুরনো এক আদিম মানুষের কঙ্কাল।
৭. ভীমবেটকা কি?
উত্তর: ভীমবেটকা ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান, যা মূলত প্রাচীন গুহাচিত্রের জন্য বিখ্যাত। এখানকার গুহায় আদিম মানুষের আঁকা পশুপাখি ও শিকারের ছবি পাওয়া যায়।
৮. আলতামিরা (Altamira) কি?
উত্তর: স্পেনের আলতামিরা গুহা আদিম মানুষের আঁকা অসাধারণ সব গুহাচিত্রের জন্য পৃথিবীবিখ্যাত।
৯. মাঝের পাথরের যুগের দুটি বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর:এই যুগে মানুষ ছোট আকারের ধারালো পাথরের অস্ত্র ব্যবহার করত, যাকে 'মাইক্রোলিথ' বলা হয়।
মানুষ কুকুরকে প্রথম গৃহপালিত পশু হিসেবে পালন করা শুরু করে।
১০. যাযাবর কাদের বলা হতো?
উত্তর: যারা কোনো এক নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করে খাদ্যের সন্ধানে এবং পশুর খাবারের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত, তাদের যাযাবর বলা হতো।
১১. আদিম মানুষ কেন জোট বেঁধেছিল?
উত্তর: আদিম মানুষ মূলত দুটি প্রধান কারণে জোট বেঁধেছিল:
বন্য পশুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে।
বড় বড় পশু শিকার করার সুবিধার জন্য। একা শিকার করা কঠিন ছিল বলে তারা দলবদ্ধ হয়ে শিকার করত।
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীন ইতিহাসের ধারনা
১. কে কবে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন?
ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ ১৯৭৪ সালে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
২. মেহেরগড়ের মানুষ কোন ফসল ফলাতে জানত?
মেহেরগড়ের মানুষ মূলত গম, যব এবং কার্পাস (তুলা) চাষ করতে জানত।
৩. মেহেরগড়ের বাড়িঘর কেমন ছিল?
এখানকার বাড়িগুলো ছিল রোদে পোড়ানো মাটির ইটের তৈরি। বাড়িগুলোতে বেশ কয়েকটি ঘর থাকত এবং শস্য মজুত করার জন্য আলাদা জায়গা ছিল।
৪. মেহেরগড়ে সমাধি কীভাবে দেওয়া হত?
মৃতদেহকে সমাধিতে শোয়ানোর সময় বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী (যেমন- মাটির পাত্র, পাথরের হাতিয়ার, গয়না) এবং কখনও কখনও গৃহপালিত পশু সঙ্গে দেওয়া হত।
৫. হরপ্পা সভ্যতা কে কত খ্রীষ্টাব্দে আবিষ্কার করেন?
১৯২১ সালে দয়ারাম সাহনী হরপ্পা সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
৬. হরপ্পা সভ্যতা কোন যুগের সভ্যতা?
হরপ্পা সভ্যতা মূলত তাম্র-ব্রোঞ্জ যুগের (Chalcolithic Age) সভ্যতা।
৭. হরপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধাতুর ব্যবহার জানত?
তারা তামা ও ব্রোঞ্জ ধাতুর ব্যবহার খুব ভালো জানত। তবে তারা লোহার ব্যবহার জানত না।
৮. হরপ্পা সভ্যতা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল?
এটি উত্তরে জম্মুর মান্ডা থেকে দক্ষিণে নর্মদা নদীর মোহনা এবং পশ্চিমে বালুচিস্তান থেকে পূর্বে উত্তরপ্রদেশের আলমগীরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
৯. হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা বর্ণনা কর।
হরপ্পার শহরগুলো পরিকল্পিতভাবে তৈরি ছিল। রাস্তাগুলো একে অপরকে সমকোণে ছেদ করত (গ্রিড সিস্টেম) এবং উন্নতমানের নর্দমা ও পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল।
১০. সিটাডেল কী?
হরপ্পার শহরগুলোর পশ্চিম দিকে উঁচুতে অবস্থিত এলাকাকে সিটাডেল বলা হত, যেখানে সম্ভবত শাসক গোষ্ঠী বা উচ্চবিত্তরা থাকতেন।
১১. মহেঞ্জোদাড়োর স্নানাগার সম্পর্কে লিখ।
মহেঞ্জোদাড়োতে একটি বিশাল স্নানাগার পাওয়া গেছে। এটি ইটের তৈরি ছিল এবং জল যাতে চুঁইয়ে না যায় সে জন্য বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া থাকত। এটি সম্ভবত কোনো ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হত।
১২. হরপ্পা সভ্যতার কৃষিকাজ সম্পর্কে লিখ।
হরপ্পার মানুষ লাঙল ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাষাবাদ করত। প্রধান ফসল ছিল গম, যব, মটর ও সরিষা।
১৩. হরপ্পা সভ্যতার গৃহপালিত পশুর নাম লিখ।
কুকুর, ভেড়া, ছাগল, কুঁজযুক্ত ষাঁড়, মোষ ইত্যাদি ছিল তাদের প্রধান গৃহপালিত পশু।
১৪. হরপ্পার মানুষের পোশাক ও গয়না সম্পর্কে লিখ।
তারা সুতি ও পশমের পোশাক পরত। নারী-পুরুষ উভয়েই হার, বালা, আংটি ইত্যাদি গয়না পরত যা সোনা, তামা বা বিভিন্ন পাথর দিয়ে তৈরি হত।
১৫. হরপ্পা সভ্যতার ভাস্কর্যের নমুনা পরিচয় দাও।
মহেঞ্জোদাড়োতে পাওয়া 'নৃত্যরতা নারী' (Dancing Girl) ব্রোঞ্জ মূর্তি এবং দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তির পাথরের মূর্তি উল্লেখযোগ্য।
১৬. হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহরগুলি কেমন ছিল?
এগুলো সাধারণত পোড়ামাটি বা পাথরের তৈরি ছিল এবং এতে বিভিন্ন পশুর মূর্তি (যেমন ইউনিকর্ন বা ষাঁড়) এবং কিছু সংকেত খোদাই করা থাকত।
১৭. 'লোথাল' এর অর্থ কী?
গুজরাটি ভাষায় 'লোথাল' শব্দের অর্থ হলো 'মৃতের স্থান' (Place of the Dead)।
১৮. হরপ্পা সভ্যতায় কি কি পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হতো?
রপ্তানি: সুতি বস্ত্র, হাতির দাঁতের তৈরি গয়না, বিভিন্ন ধরনের পাথরের পুতি, এবং কৃষি পণ্য।
আমদানি: তামা (রাজস্থান থেকে), সোনা (দক্ষিণ ভারত থেকে), রুপো ও মূল্যবান পাথর (আফগানিস্তান ও পারস্য থেকে)।
১৯. হরপ্পা সভ্যতায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যম কি ছিল?
হরপ্পা সভ্যতায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল জলপথ ও স্থলপথ। স্থলপথে যাতায়াতের জন্য ষাঁড়ে টানা গাড়ি এবং জলপথে যাতায়াতের জন্য নৌকা ব্যবহৃত হতো।
২০. হরপ্পা সভ্যতার দুটি বন্দরের নাম লিখ।
১. লোথাল (এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম কৃত্রিম পোতাশ্রয় বা বন্দর ছিল)।
২. সুৎকাগেনডোর।
২১. মহেঞ্জোদাড়ো শব্দের অর্থ কী?
মহেঞ্জোদাড়ো শব্দের অর্থ হলো 'মৃতের স্তূপ'।
২২. হরপ্পা সভ্যতা পতনের দুটি কারণ লিখ।
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: সিন্ধু নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং ঘন ঘন বিধ্বংসী বন্যা।
২. পরিবেশগত পরিবর্তন: অনাবৃষ্টির ফলে সিন্ধু উপত্যকা মরুভূমিতে পরিণত হওয়া এবং কৃষিকাজে বিপর্যয় আসা।
২৩. হরপ্পা সভ্যতার লিপির দুটি বৈশিষ্ট্য লিখ।
১. হরপ্পার লিপি ছিল চিত্রলিপি (Pictographic), অর্থাৎ ছবির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো।
২. এই লিপি সাধারণত ডান দিক থেকে বাম দিকে লেখা হতো (বুস্ট্রোফেডন পদ্ধতি)।