27/06/2026
আমাদেরকে কিতাব পড়ানো হয়েছে...
কিন্তু ক্যারিয়ার পড়ানো হয়নি।
আমাদেরকে শেখানো হয়েছে—
নাহু কী,
সরফ কী,
ফিকহ কী,
উসূল কী,
তাফসীর কী,
হাদিস কী।
কিন্তু কেউ কি কখনো আমাদের শিখিয়েছে—
কীভাবে নিজের পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়?
কীভাবে হালালভাবে অর্থ উপার্জন করতে হয়?
কীভাবে একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে হয়?
কীভাবে নিজের যোগ্যতাকে আয় করার স্কিলে রূপান্তর করতে হয়?
না।
ফলে ১০-১২ বছর ইলম অর্জন করার পর যখন একজন ফারেগ আলেম বাস্তব জীবনের মাঠে নামে...
তখন সে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খায়।
কারণ সে বুঝতে পারে—
পরীক্ষার খাতায় সে প্রথম হতে পারে,
কিন্তু জীবনের পরীক্ষার জন্য তাকে প্রস্তুত করা হয়নি।
সে জানে—
ইজারা কী।
কিন্তু জানে না—
ফ্রিল্যান্সিং কী।
সে জানে—
বাইয়ে ফাসিদ কী।
কিন্তু জানে না—
ডিজিটাল মার্কেটিং কী।
সে জানে—
মুজারাবা কী।
কিন্তু জানে না—
অনলাইন বিজনেস কীভাবে শুরু করতে হয়।
তারপর শুরু হয় বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ।
বাসায় বাবা অপেক্ষা করছেন।
মা অপেক্ষা করছেন।
ছোট ভাই-বোন অপেক্ষা করছে।
সবাই মনে করে—
"এত বছর পড়াশোনা করেছে, এখন নিশ্চয়ই ভালো কিছু করবে।"
কিন্তু বাস্তবতা?
মাসে ৮ হাজার।
১০ হাজার।
১২ হাজার টাকার চাকরির জন্য দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়।
তখন বুকের ভেতর একটা প্রশ্ন জেগে ওঠে—
"আমি কি সত্যিই এত বছরের পড়াশোনার পর এই জায়গার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম?"
ভাই,
এই প্রশ্নটা আপনার একার না।
হাজারো কওমি ছাত্রের বুকের ভেতরে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—
আমরা নিজেদেরকে বোঝাতে শুরু করি,
"আমাদের দ্বারা এর বেশি কিছু সম্ভব না।"
এটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যা।
কারণ যে মানুষ ১০ বছর ধরে ইলমের জন্য মেহনত করতে পারে...
যে মানুষ জটিল কিতাব বুঝতে পারে...
যে মানুষ আরবি ভাষার গভীরে ডুব দিতে পারে...
সে চাইলে IT শিখতে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারে।
ব্যবসা শিখতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারে।
কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
সমস্যা মেধার না।
সমস্যা হলো—
আমাদেরকে কখনো বলা হয়নি যে এগুলোও শেখা দরকার।
সময় এসেছে চিন্তা বদলানোর।
কারণ ইলম তোমাকে জান্নাতের পথ দেখাবে।
আর স্কিল তোমাকে দুনিয়ায় সম্মানের সাথে বাঁচার শক্তি দেবে।
আমরা এমন আলেম হতে চাই—
যারা শুধু হাদিয়া গ্রহণ করবে না,
বরং অন্যদের হাদিয়া দেওয়ার সামর্থ্যও রাখবে।
আমরা এমন আলেম হতে চাই—
যারা শুধু যাকাতের মাসআলা জানবে না,
বরং বুক ফুলিয়ে যাকাতও দিতে পারবে।