06/06/2026
#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব
🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
___________________________________________
তুরনা আর তুরাগ সকাল থেকে তার আম্মির পিছনে ঘুর ঘুর করছে শুধু একটা পারমিশন নেওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের আম্মি সেই কথা কানে নিয়েও নিচ্ছেন না। তাই মন খারাপ করে দুই ভাই বোন সন্ধ্যা বেলা গালে হাত দিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে পিলো কোলে নিয়ে। কিচেন থেকে তৃপ্তি সিনহা দুই ভাই বোনের অবস্থা দেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন। তারপর দুই ভাইবোনের সামনে সিঙ্গেল সোফায় বসে বললেন, ' তোমাদের কি মনে হইতেছে না তোমরা অযথাই মন খারাপ করিয়া বসিয়া আছো??? তোমাদের তো বলা হইয়াছে আয়লা আম্মা তোমাদের ভাইজানের পরিচয় জানে না। আর না তোমাদের ভাইজান তাহাকে এতো তাড়াতাড়ি তাহার পরিচয় জানাতে চায়। আম্মা ভীষণ অসুস্থ। তাই তাহাকে এই মুহূর্তে কোনো কিছু নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা ঠিক হইবে না। তোমাদের দুই জনকেই আম্মা চিনেন। দেখলে চিনতে সময় লাগিবে না। আর তোমরা আম্মাকে দেখিবার জন্য ভাইয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়া যাহিতে চাহিয়াতেছো??? বলি বোধবুদ্ধি কি হাটে বেচিয়া খেয়েছো দুইজন?????' তৃপ্তি সিনহার কথায় দুই ভাইবোনের মুখ চুপসে যায়। তুরাগ মন খারাপ করে বলে, ' আম্মিজান আপনার আয়লা আম্মা তো ঐবার আমাকে চিনতে পারেনি এখনো পারবে না। তুরনাকেও চিনতে পারবে না ..... প্লিজ পারমিশন দিন। আমরা শুধু তাদের সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে চাই আম্মিজান।' তুরাগের কথা শুনে তৃপ্তি সিনহা কিছুক্ষন ওদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবে। তারপর গম্ভীর স্বরে বলে, ' আমি তোমাদের ভাইজানের সাথে কথা বলিয়া তারপর তোমাদের সাথে কথা বলিতেছি।' বলেই বসা থেকে উঠে চলে যায়। আর তুরাগ আর তুরনা উচ্ছাসিত হয়ে ' yes ' বলে উঠে।
************************************************
সন্ধ্যা ৭:৪৮মিনিট ফেরিহা রাতুলদের সাথে আর তারপর সাত পাপা মাম্মার সাথে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার হোটেল রিয়েলমতে প্রবেশ করে। রিয়েলমের আঙিনায় বিশাল বড় পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।ফেরিহা রাতুলদের সাথে সেখানে উপস্থিত হতেই কোথার থেকে যেন কোম্পানির চারজন মহিলা স্টাফকে নিয়ে একটা ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে ফেরিহার সামনে দাঁড়িয়ে শাহীন হাসি মুখে বলে, ' Welcome!!!Ma'am, welcome to our event today!! ' ফেরিহা আর রাতুলরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে শাহীনের দিকে। ফেরিহা কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলে, ' ভাইয়া আপনি এখানে???' শাহীন রাতুলদের আর ফেরিহার অবাক হয়ে যাওয়া মুখ দেখে ভড়কে যায়। কিন্তু তারপরও নিজেকে সামলে নিয়ে ফুলের তোড়াটা ফেরিহার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আমতা আমতা করে বলে, ' জি ম্যাম..... আপনি আসুন ভিতরে.... ওরা আপনাকে আপনার নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দিবে। আমার একটা কাজ আছে আমি আসছি।' বলেই কারো উত্তরের অপেক্ষা না করে সেখান থেকে কেটে পরে। শাহীনকে ওভাবে চলে যেতে দেখে রাতুলরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তাই ফেরিহারা একসাথে বলে উঠে, ' কি হলো??? সব মাথার উপর দিয়ে গেল....' বলেই ফেরিহারা স্টাফ চারজনকে অনুসরণ করে যেতে থাকে।
***********************************************
দীর্ঘ ২০মিনিট যাবৎ ফেরিহারা বসে আছে কিন্তু T. F. K কোম্পানির মালিকের পার্টিতে উপস্থিত হওয়ার নাম নিশানা নেই দেখে ফেরিহা হতাশ হয়ে বলে, ' এই কোম্পানির সিইও মনে হয় আজ আসবেন না রে....চল না রুমন আমরা পাপা মাম্মাদের বলে চলে যাই। বিগ ব্রোকে আমি পরে সব বুঝিয়ে বলবো.... আমার এখানে এতো চাকচিক্যের মাঝে ভীষণ বিরক্ত লাগছে।'ফেরিহার কথা শুনে রুমন রাতুলরা ফেরিহার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। যুথি বলে, ' আর একটু অপেক্ষা কর রিহা... এখানে তোর কোম্পানির সম্মান জড়িয়ে আছে বোন। এখানে উপস্থিত হয়েও এই কোম্পানির মালিকের সাথে দেখা না করে গেলে খারাপ দেখায়। একটু ধৈর্য্য ধর।' ফেরিহা যুথির কথা শুনে সবার দিকে একবার অসহায়ের মতো তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।এদিকে ফেরিহাদের থেকে একটু দূরে এতক্ষন একজন গার্ড দাঁড়িয়ে ওদের সবার কথাই শুনছিল। গার্ডটা কিছুক্ষন ফেরিহাদের দিকে তাকিয়ে থেকে ব্লুটুথের মাধ্যমে কারো সাথে কানেক্ট হয়ে কিছু কথা বলে কানেক্ট বিচ্ছিন্ন করে আবার চুপচাপ আগের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।এদিকে রাতুলদের আব্বু আম্মু ওদের থেকে অপজিট সাইডে বসছে। ওদের তাদের দূরত্ব বেশ ভালোই। ফেরিহা একবার সেদিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বেশ অস্বস্তি অনুভব করতে থাকে। কারণ ওর সিক্সসেন্স কিছু একটার আভাস ঠিকই পেয়েছে। বার বার ফেরিহার মনে হচ্ছে কেউ ওর দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে।ফেরিহা ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছে। কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।ফেরিহাকে এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে দেখে মাহি কপালে ভাজ ফেলে বলে উঠে, ' কি হয়েছে???' ফেরিহা মাহির কথায় মাহির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বোঝায় কিছু না।ঠিক সেই মুহূর্তে হোটেল রিয়েলমের সামনে একসাথে ১৬টা গাড়ি এসে থামে।সবাই চমকে সেদিকে তাকায় এবং বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়।ফেরিহারা সবাইকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেরাও দাঁড়িয়ে যায়।আর সেই সময় ১০টা গাড়ি থেকে গার্ড বের হয়ে নিজেদের পজিশন নিয়ে দাঁড়ায় আর আরেকটা গাড়ি থেকে ৫জন বের হয়ে বাকি ৫ গাড়ির কাছে যেয়ে দরজা খুলতেই সেখান থেকে বের হয়ে আসে ৬জন। যাদের দিকে তাকিয়ে ফেরিহারা ৪৪০ ভোল্টের ঝাটকা খায়। ফেরিহারা একসাথে অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠে, ' তুরহান ফায়াজ খান!!!!!সিরিয়াসলি!!!!'
************************************************
সুমন কাইয়ান পিহু জিহান মুহিদ ওরা গাড়ি থেকে নেমে এক সাইডে দাঁড়ায়। প্রত্যেকেই আগা থেকে গোড়া কালো পোশাকে পরিহিত। মাঝের গাড়ি খুলতেই সেখান থেকে নেমে আসে তুরহান। মুখে ব্ল্যাক মাস্ক চোখে সানগ্লাস ব্ল্যাক শার্ট ব্ল্যাক সুট ব্ল্যাক প্যান্ট ব্ল্যাক শু..... হাতে সেই চিরচেনা ওয়াচ রোলেক্স।আজ মাথার চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা।তুরহানের এই রুপ দেখে যেকোনো মেয়ের বুকে ঝড় উঠতে বাধ্য। কিন্তু তুরহান তা থোড়ায় কেয়ার করে। পার্টিতে উপস্থিত প্রায় সকল মেয়ের আর লেডি বিজনেস পার্টনারদের বুকে ঝড় উঠিয়ে তুরহান পকেটে দু হাত গুজে ডোন্ট কেয়ার মুড নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।এদিকে ফেরিহারা তুরহানদের এখানে দেখে যতটা না অবাক হয়েছে তার থেকেও ওদের একই ড্রেসআপ দেখে আরও বেশি অবাক হয়েছে। অনিক বলে, ' এদেরকে কোনো গ্যাংষ্টার থেকে কম লাগছে না।' অনিকের কথায় সবাই একসাথে মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। আর তুরহান ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সিইও এমডিরা এগিয়ে এসে হাই! হ্যালো! এবং কৌশল বিনিময় করতে থাকে সাথে বিভিন্ন কথাবার্তরাও বলে। তাদের রেখে দুকদম এগিয়ে আসতেই ফেরিহার সাত পাপা মাম্মার সাথে তুরহানদের সাক্ষাৎ হয়। তাদের সাথে কথা বলার মাঝেই মাহির আব্বু মাহিদ হোসেন শান্ত স্বরে বলেন, ' কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো ইয়াংম্যান......' মাহিদ হোসেনের কথায় রাতুল যুথি অনিক রুমন হিমু ঋতুর আব্বু আম্মুরা উৎসুক দৃষ্টিতে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকায়।তুরহান কিছুক্ষন মাহিদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, ' Tell me what you want to say???(বলুন কি বলতে চান???)' তুরহানের কথা শুনে মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে বলেন, ' আজ নয় কাল বিকালে যদি তোমার সময় হয়... তবে রাতুলকে কোথায় দেখা করতে পারবে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিও। আমি সবাইকে নিয়ে উপস্থিত হবো।' মাহিদ হোসেনের কথায় তুরহান কিছুক্ষন ভেবে উত্তর দেয়, ' ওকে।' কিন্তু এদিকে মাহিদ হোসেনের কথায় বাকিরা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তুরহান সবার দিকে তাকিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে পার্টি ইনজয় করতে বলে সেখান থেকে সরে আসে।
************************************************
ফেরিহা রাতুলদের সাথে দাঁড়িয়ে কোনো এক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলো ঠিক তখন ফেরিহার পিছনে দাঁড়িয়ে কেউ গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' Is the CEO of A.S.F. too busy?(A.S.F কোম্পানির সিইও কি বেশি বিজি নাকি??? )' ফেরিহা নিজের পিছনে হঠাৎ পরিচিত কোনো কণ্ঠস্বর শুনে চমকে উঠে। রাতুলরাও উৎসুক নয়নে ফেরিহার পিছনে উঁকি দিয়ে তাকায়। ফেরিহাও আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের পিছনে তুরহানকে দেখে অস্বস্তিতে পড়ে যায়।রাতুলরা তুরহান সুমন জিহান মুহিদ কাইয়ান আর পিহুকে দেখে করমর্দন করে কথা বলতে থাকে। কিন্তু ফেরিহা তুরহানকে দেখে সেই যে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে হাত কচলাতে শুরু করেছে তা আর থামার নাম নেই। তুরহান তা দেখে পকেটে হাত গুজে দুকদম এগিয়ে এসে ফেরিহার সামনে দাঁড়ায়।তুরহান যে ফেরিহার অনেক কাছে এসে দাঁড়িয়েছে তা ফেরিহা বুঝতে পেরেছে।তাই মাথা নিচু করে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলছে এদিক ওদিকে। তুরহান ফেরিহার অবস্থা বেশ বুঝতে পারছে সাথে ইনজয়ও করছে ফেরিহার অবস্থা। মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে তুরহান বলে, ' A. S. F কোম্পানির সিইও কি ম্যানারস জানে না নাকি??' তুরহানের কথায় ফেরিহা ফট করে তুরহানের দিকে মাথা উচু করে তাকায়। আর সাথে সাথেই ফেরিহার সাথে তুরহানের চোখাচোখি হয়ে যায়।ফেরিহা কিছুক্ষন তুরহানের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নিচু স্বরে আমতা আমতা করে বলে, ' আ....সলে স্যা...ররর আমি মানে..... বুঝতে পারছিলাম না..... কি বলবো???? কোনোদিন কোনো কোম্পানির পার্টিতে এটেন্ড করিনি তো..... আমি দুঃখিত.... যদি আমার ব্যবহারে কোনো কষ্ট পেয়ে থাকেন।আসলে.... আমি কি বলবো???? বুঝতে পারছি না.... আমি খুবই দুঃখিত.....' আর কিছু বলার আগে তুরহান হাত উচু করে ফেরিহাকে থামিয়ে দেয়। এদিকে সুমন রাতুলরা এতক্ষন ফেরিহার কথা শুনছিল আর কান্ড দেখছিলো।তুরহান ফেরিহার কথা থামিয়ে দিতেই ওরা একসাথে বলে উঠে, ' Confused again......' ওদের একসাথে বলা কথায় ফেরিহা বোকার মতো ওদের দিকে একবার তাকায় তো একবার তুরহানের দিকে তাকায়। তুরহান ফেরিহার মুখ নেকাবের আড়ালে ঢাকা থাকলেও বুঝতে পারে ফেরিহা ভড়কে গিয়েছে। তাই মাস্কের আড়ালে মৃদু হাসে।তারপর কিছু না বলে ফেরিহাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আর ফেরিহা বোকার মতো দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে এতক্ষন কি হলো????
************************************************
অনেকক্ষন বসে থাকতে থাকতে ফেরিহা ভীষণ বিরক্তবোধ করছে। তাই ঋতুকে ফেরিহা বলে, ' তুই থাক আমি একটু ওয়াশরুম থেকে মুখ চোখে পানি দিয়ে আসি। ভালো লাগছে না আমার।' ফেরিহার কথা শুনে ঋতু বলে, ' আমিও আসি তাহলে তোর সাথে...' ফেরিহা ঋতুর কথা শুনে বলে, ' না... তু্ই এখানেই থাক।একসাথে দুইজন গেলে ওরা জানবে না আমরা কোথায় গিয়েছি??? খুঁজেও পাবে না শুধু শুধু চিন্তা করবে। ওরা এখানে এলে আমি কোথায় বলে তারপর যাস আমার কাছে। আর আমি যাব আর আসবো। চিন্তা করিস না।' ফেরিহার কথা শুনে ঋতু মাথা নাড়িয়ে সায় জানাতেই ফেরিহা বসা থেকে উঠে একজন গার্ডের কাছে ওয়াশরুম কোথায় জিজ্ঞাসা করে সেদিকে চলে যায়।ফেরিহা ওয়াশরুমে যেয়ে নেকাব উঠিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে পাশ থেকে টিস্যু নিয়ে মুখ মুছে আবার নেকাব ঠিক মতো বেঁধে নেয়।তারপর একটা স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতে যাবে ঠিক তখনই ওয়াশরুমের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। ফেরিহা ওয়াশরুমের লাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে অবাক হয়। তাই দাঁড়িয়ে ব্যাগের চেইন খুলে ফোন বের করবে এমন সময় ফেরিহার কানের কাছে কেউ হাস্কি স্বরে বলে উঠে, ' Lotusssss......My dear Lotusssss....' নিজের পিছনে কানের কাছে এমন অযাচিত ডাক শুনে ফেরিহা ভয়ে চমকে উঠে সাথে সাথে ফেরিহার হাত পা কাঁপতে শুরু করে। নিঃশ্বাস ভারী হয় ফেরিহার। ফেরিহা আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াতেই ওয়াশরুমের লাইট জ্বলে উঠে। ওয়াশরুমের লাইট জ্বলতেই ফেরিহা যাকে দেখতে পায় তাকে দেখে ফেরিহার কলিজা শুকিয়ে যায়। ভয়ে ফেরিহা দু কদম পিছিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে, ' কিকিইইই... রণ.... ভাই!!!' ফেরিহা যে সামনের ব্যক্তিকে চিনতে পেরেছে তাতে সামনের ব্যক্তিকে আনন্দে মাথা দুলয়ে অদ্ভুত ভাবে হেসে বলে, ' আমার Lotus আমায় চিনতে পেরেছে..... কি ভাগ্য আমার???? তাহলে মানতেই হয় আমার Lotus আমায় ভীষণ ভালোবাসে.... আমার Lotus শুধুই আমার Lotus....' ফেরিহা কিরণের কথা শুনে ভয়ে কাঁপতে থাকে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায় ফেরিহার। আরও দুকদম পিছিয়ে যেতেই কিরণ এক কদম এগিয়ে এসে বাঁকা হেসে বলে, ' ভয় কেন পাচ্ছিস Lotus???? আমি কি তোকে মেরেছি??? বকেছি??? রাগ করেছি??? টর্চার করছি??? কোনটাই তো করিনি.... আমি তোকে আগের মতোই পাগলের মতো ভালোবাসিরে Lotus.... আয় আমার কাছে আয়... কতদিন তোর ওই চাঁদ মুখখানা দেখি না..... আমি আসতে আসতে তু্ই আবার ওই ছাতার মাথা দিয়ে মুখ ঢাকলি... মুখটাও ঠিক মতো দেখতে পেলাম না। কত বড় হয়ে গেছিস তু্ই Lotus!!!সেই ছোট Lotusকে রেখে আমি বিদেশে এসেছিলাম। এখন আমার Lotus কত বড় হয়ে গেছে!!!একদম আমাকে সামাল দেওয়ার মতো বড় হয়েছিস Lotus.... এখন থেকে তু্ই আমার কাছে থাকবি....অনেক পাখির মতো আকাশে উড়েছিস এখন আমার খাঁচায় বন্দী হওয়ার পালা। আয় আমার কাছে আয়.... আমার সাথে যাবি তু্ই....' বলেই ফেরিহার কাছে কিরণ যেতে গেলে ফেরিহা চার কদম পিছিয়ে যেয়ে চিৎকার করে অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে কিরণের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে, ' খবরদার কিরণ ভাই এগোবেন না!!!ওখানেই থেমে যান..... আমি আপনাকে ভীষণ ঘৃণা করি.... ঘৃণা করি আপনাকে.... দূরে থাকুন আমার থেকে আপনি.....' ফেরিহার কথা শুনে কিরণ দাঁড়িয়ে যেয়ে হো হো করে হেসে বলে, ' তোর ঘৃণা করা আমি আমার গায়ে মেখেছি খুব দেখ দেখ.... আর তোর থেকে দূরে থাকা তো দূরের কথা তোকে আমি এখন থেকে দূরেই রাখবো না আমার কাছে আমার খাঁচায় রাখবো।' বলেই কিরণ দ্রুত কদমে ফেরিহার কাছে এগিয়ে যেতে গেলে ফেরিহা উল্টো ঘুরে দৌড়াতে শুরু করে। একদৌড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দিকবেদিক ভুলে তিনতলায় উঠে যায় দৌড়ে। ফেরিহার পিছন পিছন কিরণও দৌড়াতে শুরু করে। ফেরিহা দৌড়াতে দৌড়াতে পিছু ঘুরে তাকিয়ে দেখে কিরণ ফেরিহার থেকে কতদূরে আছে। তিনতলার করিডর দিয়ে দৌড়াচ্ছে ফেরিহা আর কাঁদছে। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ ফেরিহা কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে গেলে। তৎক্ষণাৎ একটা শক্তপোক্ত হাত ফেরিহার কোমড় জড়িয়ে ধরে। এতে করে ফেরিহা পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।ফেরিহা সামনের মানুষটাকে না দেখেই কাঁদতে কাঁদতে আর হাত দিয়ে সামনের মানুষটির বুকে আঘাত করতে করতে বলে, ' ছেড়ে দিন আমাকে.....Please free me from a beast like you.(দয়া করে আমাকে আপনার মতো জানোয়ারের কাছ থেকে মুক্তি দিন।)আমাকে আমার মতো থাকতে দিন...... ছেড়ে দিন আমাকে.... আল্লাহর নাম শপথ করে বলছি কিরণ ভাই আপনার এই স্পর্শ করার জন্য আমি নিজেকে শেষ করে ফেলবো.....' কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে ফেরিহা আর সামনের ব্যক্তিকে আঘাত করতে থাকে চোখ বুজে। ঠিক তখনই শান্ত কণ্ঠে ফেরিহাকে ধরে দাঁড়ানো মানুষটি বলে, ' এই মেয়ে!!!Open your eyes... What happened to you??? Are you scared of something???(চোখ খোলো... কি হয়েছে তোমার??? ভয় পেয়েছো কোনো কিছুতে???)' বলেই ফেরিহার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মানুষটি। ফেরিহা পরিচিত কণ্ঠ শুনতে পেয়ে কান্না থামিয়ে চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে তুরহানকে দেখতে পায়। তুরহান অবাক হয়ে ফেরিহার লাল হয়ে যাওয়া চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর ফেরিহা তুরহানকে দেখতে পেয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে তুরহানের বুকে কপাল ঠেকিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে উঠে, ' প্লিজ স্যার আমাকে বাঁচান.... ওই জানোয়ারটার হাত থেকে বাঁচান স্যার.... আমাকে তুলে নিয়ে যেতে এসেছে ও.. স্যার আমি..... আমি কোনো মতে পালিয়ে এসেছি।' বলেই ফেরিহা কান্নায় ভেঙে পড়ে।আর ফেরিহার কথা শুনে তুরহান থমকে যায়। তুরহানের চতুর মস্তিস্ক ঠিকই খারাপ কিছু আন্দাজ করে ফেলে।
#চলবে
[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়। গল্প পড়ে ভালো লাগলে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]