31/12/2025
থার্টি ফার্স্ট নাইটকে বছরের সবচেয়ে আনন্দঘন রাত্রি হিসেবে গণ্য করা হয়। আতশবাজির ধুমধাম শব্দে ও আকাশজুড়ে ফানুসের আনাগোনার মাধ্যমে পুরাতনকে বিদায় এবং নতুনকে বরণ করার এক ধরনের নির্মল আয়োজন বিশ্বজুড়ে লক্ষ্য করা যায়।
এখন জানা যাক, এই আয়োজনের ধারাটি কাদের দ্বারা শুরু করা হয়েছিল।
প্রাচীন পারস্যের মহাশক্তিশালী সম্রাট জামশেদের মাধ্যমে খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে পারস্য নববর্ষ, অর্থাৎ নওরোজের প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের মাধ্যমে রোমান ক্যালেন্ডারের সংস্কার করা হয় এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তিত হয়। সেখানে ১লা জানুয়ারিকে রোমান নববর্ষের প্রথম দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, যা “শুরু ও পরিবর্তনের দেবতা জানুস”-এর প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছিল। ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ১লা জানুয়ারিকে নববর্ষের দিন হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এর ফলস্বরূপ, সারাবিশ্বে থার্টি ফার্স্ট নাইট পালনের মাধ্যমে নববর্ষ বরণের ধারা বহমান রয়েছে।
স্বভাবতই এটি অনুধাবন করা যায় যে, থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন একটি বিধর্মীদের উৎসব হিসেবে পরিগণিত হয়, যা মুসলিম হিসেবে উদযাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত। কেননা প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—
“যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য বিধান করবে, তাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হবে।” [আবু দাউদ: ৪০৩১]
এই একটি হাদিস থেকেই মুসলিম হিসেবে থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন না করার কারণ স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়।
দ্বিতীয়ত, মুসলিম বলতে সেই ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়, যার কথা ও কাজ থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে। এ বিষয়ে নবী ﷺ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—
“মুসলিম হলো ঐ ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।” [সুনানে নাসাঈ: ৪৯৯৫]
কিন্তু থার্টি ফার্স্ট নাইটে ফোটানো আতশবাজি ও ওড়ানো ফানুসের কারণে অসংখ্য মানুষ এবং পশুপাখির ক্ষতি সাধিত হয়—যা অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০২৩ সালকে বিদায় জানানোর দিন শিশু উমায়েরের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করা যেতে পারে, যেখানে সামান্য আয়েশের জন্য একটি মূল্যবান জীবন হারিয়ে যেতে দেখা গেছে।
সবশেষে এ কথাও উল্লেখ করা জরুরি যে, এ রাতে নাচ, গান ও পার্টির মাধ্যমে যে ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা করা হয়, তাতে মুসলিম হিসেবে অংশগ্রহণ কাম্য বলে বিবেচিত হয় না। কেননা নবীজি ﷺ-এর পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে—
“আমার উম্মতের মাঝে এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, নেশাদার দ্রব্য ও গান-বাজনা এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বলে গণ্য করবে।” [বুখারী: ৫৫৯০]
অতএব, মুসলিম হিসেবে এ ধরনের বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জন করা কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ফোটানোর মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। হালাল-হারাম মেনে জীবন অতিবাহিত করাই শ্রেয়, কেননা এ জীবন ক্ষণস্থায়ী বলে বিবেচিত।