15/12/2025
আমাদের এবারের উমরাহর সফরে একটি ছোট বাচ্চা ছিল। জন্মগতভাবেই তার হার্ট পুরোপুরি ডেভেলপ করেনি। আর যতটুকু ছিল, সেটাতেও ছিল বেশ কয়েকটি ছিদ্র। চিকিৎসা চলছিল—কখনো ভালো, কখনো খারাপ।
এভাবেই তার চার বছর অতিবাহিত হয়। হার্টের গ্রোথ কিছুটা বাড়লেও তা স্বাভাবিক হয়নি। এমন অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বাচ্চাটিকে নিয়ে তার পরিবার এবার উমরাহতে আসবে।
আলহামদুলিল্লাহ, সব প্রসেসিং স্মুথলি সময়মত হলেও উমরাহতে এসে বাচ্চাটি বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। কখনো ঠান্ডা লাগে, কখনো তীব্র জ্বর আসে। এর মাঝে আবার কয়েকবার পড়ে গিয়ে মারাত্মক ব্যথাও পায়।
মসজিদে নববীতে, কাবার সামনে, তাওয়াফের সময়—সব জায়গায় বাচ্চাটির জন্য দুআ করা হয়। আমরা যারা তার ব্যাপারে জানতাম, আমরাও মন থেকে অনেক দুআ করেছি।
অবশেষে এভাবেই উমরাহ সফর শেষ হয়। দেশে ফিরে, দুই দিন আগে বাচ্চাটির পুনরায় চেকআপ করা হয়। রিপোর্টে দেখা যায়—গত ছয় মাসে তার হার্টের গ্রোথ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে প্রায় স্বাভাবিকের কাছাকাছি চলে এসেছে। এমনকি মিরাকুলাসলি তার হার্টের সবচেয়ে বড় ছিদ্রটিও প্রায় মিশে যাওয়ার মতো অবস্থায়। ডাক্তারদের অভিমত অনুযায়ী সামান্য যা বাকি আছে, ইন শা আল্লাহ তা ওষুধেই সেরে যাবে।…
এর আগের আরেক সফরে, একজন ব্যক্তিকে দেখেছিলাম—কোমরের ব্যথায় দীর্ঘ সতেরো মাস কষ্ট পাওয়ার পর যমযমের পানি পান করে সুস্থ হয়ে যেতে। তার অসুস্থ অবস্থায় কাতরানো, প্রায়ই শয্যাশায়ী হয়ে পড়ার দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। এরপর তার কান্না-আহাজারি আর প্রতিদিন সুস্থতার নিয়তে যমযমের পানি পান করা—সবই আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাকে এমনভাবে সুস্থ করেছেন, যেন এমন কোনো রোগ তার কখনো ছিলই না।
এসব ঘটনা আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—
আমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবো, এই বিশ্বাস রাখবো—আমাদের দৃষ্টিতে সমস্ত পথ রুদ্ধ হলেও, আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়া একেবারে অসম্ভব মনে হলেও, তিনি তা আমাদের সামনে হাজির করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। যার অভিধানে “অসম্ভব” বলে কিছু নেই, যার কাছে “কঠিন” শব্দটির কোনো অর্থ নেই। তিনি শুধু “কুন” (হও) বলার মাধ্যমেই এমন অনেক কিছু ঘটিয়ে দেন, যা আমাদের দৃষ্টিতে “মিরাকেল”-এর চেয়েও অনেক বেশি।
তিনি ভালোবাসেন সেই বান্দাকে, যে তাঁর কাছে চায়। যে শিশুর মতো বায়না ধরে, কাঁদতে কাঁদতে চায়। যে পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে চায়—তাকে তিনি কখনোই মাহরুম করেন না। তার জন্যই হয় সবচেয়ে উত্তম ফয়সালা।
আল্লাহর রাসুল ﷺ–এর এই হাদিসটি শোনার পর নিরাশার আর কীই বা বাকি থাকে?
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো বান্দা যখন তাঁর কাছে চাওয়ার জন্য দুই হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেই হাত দুটিকে ব্যর্থ ও খালি ফেরত দিতে লজ্জা বোধ করেন।”
— সহিহ মুসলিম
...