14/10/2025
#ইমিডাক্লোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক।।
#ইমিডাক্লোপ্রিড এর কাজ......
ফসল চাষাবাদ করেন অথচ “ইমিডাক্লোপ্রিড” গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করেন নাই, এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। তাই আজ “ইমিডাক্লোপ্রিড” বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সহজভাবে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। আশা করি এই তথ্যগুলো আপনাদের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে খুবই কাজে লাগবে। আমাদের কৃষিক্ষেত্রে যতগুলো ক্ষতিকর পোকা-মাকড় আছে, সেগুলোকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
১. শোষক পোকা – যারা গাছের রস খেয়ে বেচে থাকে।
২. কুরে খাওয়া পোকা- যারা গাছ, পাতা, ফল, ফুল ছিদ্র করে বা চিবিয়ে খায়।
ইমিডাক্লোপ্রিড সকল প্রকার শোষক পোকা দমনে খুব কার্যকরী। তাই এই একটি মাত্র কীটনাষক দিয়ে আপনি কৃষিক্ষেত্রের প্রায় অর্ধেক পোকার ট্রিটমেন্ট করতে পারবেন। তাই এর বিষয়ে একটু জেনে রাখা খুব জরুরী। ১৯৯৯ সালের হিসাবে, ইমিডাক্লোপ্রিড ছিলো বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত কীটনাশক।
#ইমিডাক্লোপ্রিড কীভাবে কাজ করে?
কীভাবে_কাজ_করে? (Mode of action) এর অনেক কয়টি গুন আছে।
এটি বিভিন্নভাবে কাজ করে থাকে। যেমন:- ১. প্রবাহমানঃ- ইমিডাক্লোপ্রিড একটি প্রবাহমান বা অন্তর্বাহী ক্রিয়া সম্পন্ন কীটনাশক তাই স্প্রে করার অল্প সময়ের মধ্যেই ইহা গাছের ভিতরে প্রবেশ করে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং গাছের রসের সাথে মিশে সম্পূর্ণ গাছটি বিষাক্ত করে তোলে।
২. স্পর্শকঃ- স্পর্শ ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কীট-পতঙ্গের শরীরে সরাসরি স্পর্শ করলে বিষক্রিয়া ঘটে।
৩. পাকস্থলীয়ঃ- ইহা পাকস্থলীয় ক্রিয়া সম্পন্ন কীটনাশক। তাই স্প্রে করা পাতা, ডগা ইত্যাদি থেকে রস খেলে পোকার শরীরে বিষক্রিয়া ঘটে৷
৪. ট্রান্সলেমিনারঃ- এটি ট্রান্সলেমিনার গুনসম্পন্ন কীটনাশক তাই পাতার উপরের স্তরে পড়লে তা পাতার এপিডার্মিস ভেদ করে পাতার নিচের স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম। তাই যে সকল পোকা পাতার নিচে লুকিয়ে থেকে রস চুষে খায়, তাদের শরীরেও বিষক্রিয়া ঘটে।
প্রয়োগ পদ্ধতি
সাধারণত স্প্রে করার মাধ্যমে এটি গাছে প্রয়োগ করা হয়, তবে এটি মাটিতেও প্রয়োগ করা যায়। এর ফলে মাটিতে অবস্থানরত পোকা মারা যায় এবং শেকড়ের মাধ্যমে এটি গাছে প্রবেশ করে গাছও বিষাক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও এটি বীজ ড্রেসিং এর কাজেও ব্যবহার হয়ে থাকে।
যেসকল পোকার ক্ষেত্রে কাজ করেঃ
১. এফিডস
বৈশিষ্ট্য:
এফিডস হল ছোট, নরম শরীরযুক্ত পোকা যা গাছের রস চুষে খায়।
ক্ষতি:
এরা ফসলের পাতা মোচড়ানো, হলুদ হয়ে যাওয়া এবং ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ হয়।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব:
এফিডসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
২. হোয়াইটফ্লাই
বৈশিষ্ট্য: হোয়াইটফ্লাই হল ছোট, সাদা পোকা যা গাছের নিচের দিকে বসবাস করে।
ক্ষতি:
এরা গাছের রস চুষে খায় এবং হানিওডিউ নামক আঠালো পদার্থ নিঃসরণ করে, যা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি ঘটায়।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব:
হোয়াইটফ্লাই এর লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. থ্রিপস
বৈশিষ্ট্য:
থ্রিপস হল ছোট, সরু পোকা যা ফুল, ফল এবং পাতায় আক্রমণ করে।
ক্ষতি:
এরা ফসলের উপর দাগ তৈরি করে এবং ভাইরাস ছড়ায়।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব:
থ্রিপসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
৪. লিফ হপার
বৈশিষ্ট্য:
লিফহপার হল ছোট, দ্রুত চলাচলকারী পোকা যা গাছের রস চুষে খায়।
ক্ষতি:
এরা ফসলের পাতা হলুদ করে এবং ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ায়।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব:
লিফহপার এর লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. মিলিবাগস
বৈশিষ্ট্য:
মিলিবাগস হল ছোট, সাদা, মোমের মতো আবরণযুক্ত পোকা।
ক্ষতি:
এরা গাছের রস চুষে খায় এবং হানিওডিউ নিঃসরণ করে।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব:
মিলিবাগসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
৬. সয়েল পেস্টস
বৈশিষ্ট্য: মাটিতে বসবাসকারী পোকা, যেমন গ্রাব (Grubs), কাটওয়ার্ম (Cutworms), এবং নেমাটোড (Nematodes)।
ক্ষতি: এরা গাছের শিকড় এবং কান্ড ক্ষতি করে।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: মাটিতে প্রয়োগ করলে এটি
মাটিতে বসবাসকারী পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে।
৭. টার্মাইটস
বৈশিষ্ট্য: টার্মাইটস হল সামাজিক পোকা যা কাঠ এবং গাছের কাণ্ড খেয়ে ফেলে।
ক্ষতি: এরা কাঠের কাঠামো এবং ফসলের ক্ষতি করে।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: টার্মাইটসের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে তাদের মৃত্যু ঘটায়।
৮. ফ্লি (Fleas) এবং টিক্স (Ticks)
বৈশিষ্ট্য: ফ্লি এবং টিক্স হল পরজীবী পোকা যা পশুদের ত্বকে আক্রমণ করে।
ক্ষতি: এরা পশুদের ত্বকে চুলকানি, অ্যালার্জি এবং রোগ ছড়ায়।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ফ্লি এবং টিক্স নিয়ন্ত্রণের জন্য।
৯. কোলোরাডো পটেটো বিটল
বৈশিষ্ট্য: এই পোকা আলু এবং অন্যান্য সোলানেসিয়াস ফসলের পাতা খেয়ে ফেলে।
ক্ষতি: এরা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
১০. কটন বোলওয়ার্ম
বৈশিষ্ট্য: এই পোকা তুলা এবং অন্যান্য ফসলের ফুল এবং ফল আক্রমণ করে।
ক্ষতি: এরা ফসলের উৎপাদন হ্রাস করে।
ইমিডাক্লোরপ্রিডের প্রভাব: লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক যেমন-
#এডমায়ার২০০এসএল
#ইমিটাফ২০এসএল
#টিডো২০এসএল
#গেইন২০এসএল
#এডক্লোপ২০এসএল
#জাদীদ২০০এসএল
#ইমপেল২০এসএল
#কৃষক_বন্ধু২০০এসএল
#কনফিডর৭০ডাব্লিউজি
#গেইন_সুপার৭০ডাব্লিউজি
#টিডো_প্লাস৭০ডাব্লিউজি
#ইমিডাক্লোপ্রিডেরপ্রয়োগ মাত্রা বা #ডোজ
প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।