10/03/2026
গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_প্রথম_পর্ব
সুবহে সাদিকের কয়েক ঘণ্টা পূর্ব মুহূর্ত। চারপাশ নিস্তব্ধ। রুমের বিছানায় ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন ঘুমিয়ে রয়েছেন। পাশেই মসজিদ, পুরো পরিবেশ নীরব। হঠাৎ এক ভয়ঙ্কর 'খচর-মচর' শব্দ তাদের কানে ভেসে এলো। শব্দটির কারণে তাদের গভীর ঘুম বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। তারা শব্দটি শুনে খুব ভীত হলেন।
মুয়াজ্জিন ভীতু কণ্ঠে বললেন, "হুজুর, আমি বারবার আপনাকে ওই কাজটি করতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু আপনি শোনেননি। এবার কী হয় আল্লাহ জানে!"
ইমাম সাহেব বললেন, "এত চিন্তা করো না, কিছু হবে না। আমি বাইরে গিয়ে দেখছি কিসের শব্দ হচ্ছে।"
মুয়াজ্জিন কম্পিত কণ্ঠে বললেন, "না হুজুর, যাবেন না।"
ইমাম সাহেব বললেন, "না যাই, কিছু হবে না।"
ইমাম সাহেবেরও অনেক ভয় করছিল, কিন্তু তিনি সেই ভয়কে পাশ কাটিয়ে রুমের দরজাটির কাছে গেলেন।
দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখেন বাতাসের শব্দ। এটি দেখেখেতাঁর পরানে যেন প্রাণ ফিরে এলো। তিনি হেসে মুয়াজ্জিনকে বললেন, "আরে, এতো বাতাসের শব্দ হচ্ছে!"
দরজায় ঠকঠক করে সাদিক তার মাকে ডাকছে। সাদিক বলল, "মা ওঠো, তিনটে ৪৫ বেজে গেছে। রান্না করবা না? আমাদের সেহেরী খেতে হবে তো।"
কথাটি কানে পৌঁছাতেই সাদিকের মা দ্রুত ঘুম থেকে উঠে গেলেন। তিনি শোবার রুমের দরজা খুলে ঘড়ি দেখে বললেন, "এত বেজে গেছে! কিন্তু হুজুর আজ ডাক দিল না কেন?"
কিছুক্ষণ পর সেহরির সময় শেষ হয়ে গেছে। সবাই মসজিদে নামাজের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন দুজনের কেউই নেই। মসজিদের পাশের ঘরেও তারা নেই। সবাই দুশ্চিন্তা করতে লাগল যে তারা গেল কোথায়। নামাজের সময় চলে যাচ্ছে দেখে নিজেদের মধ্যেই একজন ইমাম হয়ে নামাজ পড়ে নিল।
নামাজ শেষে সবাই যার যার মতো বাড়ি চলে গেল। বাড়ি ফেরার পথে সাদিক রাস্তার পাশে এমন একটি দৃশ্য দেখল যা তাকে চমকে দিল।
সে দেখলো ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিনের মাথা মাটির ভেতর গাঁথা এবং পা দুটো উপরে। দুজনেরই একই অবস্থা। এটি দেখে সাদিক ভয়ে চিৎকার করে উঠল এবং পাড়ার সবাইকে সেখানে ডেকে আনল। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—তাদের কে মারল?
এমন সময় পুলিশ এসে উপস্থিত হলো এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল।
পুলিশ অফিসার সাদিককে জিজ্ঞেস করলেন, এই ছেলে, তোমার নাম কী?
সাদিক বলল, আমার নাম সাদিক
পুলিশ অফিসার সাদিককে জিজ্ঞেস করলেন, "সাদিক,তুমি কি ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন সম্পর্কে কিছু জানো? আর এদের কে মারতে পারে বলে তোমার মনে হয়?"
সাদিক ভীতু কণ্ঠে বলল, "স্যার, গতকাল রাতে আমি, ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন—তিনজন মিলে ৪০ বার সুরা জিন পড়েছিলাম যাতে জিন আসে। আমার মনে হয় জিনেই মারছে। এমন ভয়ঙ্কর মৃত্যু জিন ছাড়া আর কেউ মারতে পারে না।"
পুলিশ অফিসার বললেন, "জিনের ব্যাপারটা আমরা পরে দেখছি। আগে বলো, এনাদের আপন বলতে আর কেউ আছে কি না?"
সাদিক বলল, "মুয়াজ্জিন সাহেবের শুধু অসুস্থ মা আছেন। উনাকে এখনো ছেলের মৃত্যুর কথা বলা হয়নি, কারণ উনি সহ্য করতে পারবেন না।
আর ইমাম সাহেবের স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে ছিল, কিন্তু উনার স্ত্রীর সাথে তালাক হয়ে গেছে।"
পুলিশ অফিসার বললেন, "তালাক হয়েছে কেন জানো?
" সাদিক বলল, "না জানি না।"
পুলিশ বলল, "চলো তাহলে আমাদের ইমাম সাহেবের স্ত্রীর কাছে নিয়ে চলো। তাঁর সাথে কথা বলা দরকার।"
সাদিক তাদের নিয়ে গেল, ইমাম সাহেবের স্ত্রীর বাড়িতে ।
পুলিশ অফিসার তালাকের কথা জিজ্ঞেস করলে ইমাম সাহেবের স্ত্রী বললেন, "আমি তাঁর সাথে থাকতে চাইনি। কারন সে একটি মেয়ের সাথে গোপনে সম্পর্কে ছিল। আমি বিষয়টি জানার পরেও সে কোনোভাবেই তা স্বীকার করেনি।"
পুলিশ অফিসার বললেন, "মেয়েটি কে?"
ইমাম সাহেবের স্ত্রী বললেন, "মসজিদের সভাপতির মেয়ে, সাইরা।"
সাদিক চোখ কুঁচকে মনে মনে ভাবল, "সাইরা! কিন্তু সাইরার সাথে তো আমার এক বন্ধুর সম্পর্ক আছে, যা কেউ জানে না।"
পুলিশ অফিসার সাদিককে বললেন, "দেরি করো না, আমাদের সাইরাদের বাড়ি নিয়ে চলো।"
সাইরাদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ অফিসার মসজিদের সভাপতির কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার মেয়ের সাথে কি ইমাম সাহেবের কোনো সম্পর্ক ছিল?"
সভাপতি অত্যন্ত কড়াভাবে তা অস্বীকার করে বললেন, "না।"
এরপর পুলিশ সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হলো।
রাত নেমে এসেছে। চারদিকে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। সাদিক তার রুমে একা শুয়ে আছে, কিন্তু ভয়ে তার গা ছমছম করছে। সেই রাতে আমল করার সময় তারা তিনজনই ছিল—দুজন ইতিমধ্যেই শেষ, এখন বাকি আছে শুধু সে নিজে। ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা চিরে সাদিকের রুমের দরজার ওপাশ থেকে একটা 'খচর-মচর' শব্দ শুনতে পেল সাদিক। শব্দটা শুনে সাদিক ভীষণ ভয় পেল।
চলবে...
কপি করা নিষেধ।
লেখক: #সাাহাদ_শেখ