17/08/2025
ঢাকার মতিঝিলের ৪০০ বছরের ইতিহাস ||
জলাভূমি থেকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল ||
ঢাকার বুকের মাঝে যে এলাকা আজ “বাংলাদেশের ওয়াল স্ট্রিট” নামে পরিচিত, তার নাম মতিঝিল। কিন্তু এই ঝাঁ চকচকে ব্যবসা-কেন্দ্র একদিন ছিল ঘন জঙ্গল আর বিশাল জলাভূমি।
মুঘল আমল (১৬শ–১৮শ শতক)
মুঘল আমলে এই এলাকা ছিল শহরের বাইরের প্রান্ত। এখানে ছিল ধানক্ষেত, কচুরিপানায় ভরা বিল আর সরু খাল। শীতকালে মাঠ শুকিয়ে যেত, আর বর্ষায় একেবারে জলমগ্ন হয়ে যেতো। চারপাশ ঘন বাগান, খাল,পুকুর থাকায় একে “মতিঝিল” নাম দেওয়া হয় — মতি অর্থে মুক্তা বা সুন্দর, আর ঝিল অর্থে হ্রদ বা পুকুর।
ব্রিটিশ আমল (১৭৫৭–১৯৪৭)
ব্রিটিশ শাসনের সময় ঢাকার শহর ধীরে ধীরে পুরান ঢাকা থেকে উত্তরের দিকে প্রসারিত হতে থাকে।
মতিঝিল তখনও ছিল আধা-গ্রামীণ এলাকা। কয়েকজন ইউরোপীয় ও ধনী বাঙালি জমিদার এখানে বাগানবাড়ি তৈরি করেছিলেন।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ শুরু হয়, কিন্তু মতিঝিল তখনও মূলত জলাভূমি ও খালি জমি।
পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭১)
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর ঢাকাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। তখনকার সরকার শহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় মতিঝিলকে বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে।
১৯৫০–৬০-এর দশকে এখানে একের পর এক অফিস, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, সরকারি ভবন তৈরি হয়।
মতিঝিল শীঘ্রই ব্যবসা ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মতিঝিল (১৯৭১)
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মতিঝিল ছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা এই এলাকায় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
স্বাধীন বাংলাদেশে মতিঝিল (১৯৭২–বর্তমান)
স্বাধীনতার পর মতিঝিল দেশের অর্থনৈতিক হৃদয়ে পরিণত হয়।
এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ দেশের সব বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সদর দফতর স্থাপন করে।
৯০-এর দশক থেকে গার্মেন্টস ব্যবসা, শেয়ারবাজার, বহুজাতিক কোম্পানির কার্যালয়—সব মিলিয়ে মতিঝিল হয়ে ওঠে “বাংলাদেশের ওয়াল স্ট্রিট”।
আজ মতিঝিল শুধু একটি ব্যবসা-কেন্দ্র নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক গতি নির্দেশ করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের ভিড়, যানজট, অফিসযাত্রা আর ব্যবসায়িক লেনদেন অবিরাম চলতে থাকে।
✍ তথ্যসূত্রঃ আন্তর্জাল থেকে।