21/05/2026
গতকাল রামিসার ঘটনাটা নিয়ে লেখার পরে, আমার পোস্টে একজন লোক কমেন্ট করে বললেন—
‘বউদের দোষ তো কম না৷ স্বামীকে পরকীয়া করতে দিবে, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে করতে দিবে না।’
মানে, উনার ধারণা, ঘাতক সোহেল রানার বউ স্বামীকে ছোট্ট রামিসার সাথে এই কাজ করতে দেখেও দ্বিধা করেনি, বরং সাহায্য করেছে। তবে সে দ্বিধা করত স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইতো।
এই এতো বড় একটা ঘটনা, এতো জঘন্য একটা ঘটনা, এই ঘটনা থেকে এই লোকটার উপসংহার হচ্ছে এই—ঘাতক সোহেল রানার কামনপ্রবৃত্তি নিবারণ করতে তার দ্বিতীয় বিবাহ করতে হতো। কিন্তু স্ত্রী সেই কাজে সাঁয় দেয় না৷ ফলে, স্বামী পরকীয়া করে বেড়ায়। এই পরকীয়ার বলি হলো ছোট্ট রামিসা।
গোটা দেশ তোলপাড় একটা ঘটনা নিয়ে৷ মানুষ ভীষণ সংক্ষুব্ধ হয়ে আছে। কিন্তু, এই এতো বিমর্ষ একটা দিনেও, এই ঘটনার মধ্যে একজন লোক তাদের ফ্যান্টাসির উপাদান খুঁজে নিচ্ছে। ভাবতেই কেমন বিপন্ন বিপন্ন লাগে!
তারপর, আরেকটা ঘটনাতেও চোখ আটকাল। দেশের একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক রামিসাকে নিয়ে সংবাদ করেছে৷ সংবাদে ব্যবহার করেছে ছোট্ট রামিসার একটা শাড়ি পরা ছবি। আহামরি কোনো সাজগোছও নয়। একটা ছোট্ট মেয়ে, শখ করে পরা শাড়ির ছবি। সেই সংবাদের নিচে, একজন লোক কমেন্ট করেছে—‘এতো সাজগোছ ভালো নয়।’
একটা ৭ বছরের বাচ্চা মেয়ের এতো নিরীহ একটা ছবি থেকে এই লোক এই উপসংহারে পৌঁছাতে চাইল যে, রামিসার এই সাজগোছ তার সাথে হওয়া এই ঘটনার জন্য হয়তো-বা দায়ী।
এরকম ঘটনা সামনে আসার পর আমরা হয়তো ঘাতক সোহেল রানার মতো এক দুইজনকে চিনতে পারি, তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উগরে দিতে পারি। কিন্তু, আমার পোস্টে কমেন্টকারী যে লোক এই ঘটনাতে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের উপাদান খুঁজে পেল, কিংবা জাতীয় দৈনিকের সংবাদের নিচে কমেন্টকারী যে লোক ছোট্ট রামিসার সাজগোছের কারণ খুঁজে পেল, এই ধরণের মানসিকতা লালনকারীদের কয়জনকে আপনি খুঁজে খুঁজে শোধরাতে পারবেন? এরা যে সংখ্যায় অসংখ্য, অগণিত...
আমরা একটা অন্ধকার সমাজে বসবাস করছি। এখানে যারা আলোর কথা বলে, তারা নিজেরাও অন্ধকার বিক্রেতা।
আরিফ আজাদ