20/07/2025
আমি গিয়েছিলাম আজকের জনসমুদ্রে। ( সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল )
কোন কর্মী বা সমর্থক হিসেবে নয়। গিয়েছি আমার কিছু রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে।
ঠিক যেমনটা গিয়েছিলাম ৫ আগস্টের পরপর বিএনপির সমাবেশে।
২৪ এর জুলাইয়ে পুলিশের মার খেয়ে আমার ডান হাতে রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে যায়। ব্যথা পাইনি, কারণ চারপাশের পরিস্থিতি বলে দিচ্ছিলো সরকার পরিবর্তন হবেই।
সেই কালো দাগ নিয়ে ৫ আগস্টে মুক্তির নিঃশ্বাস নিয়েছি। তবে শঙ্কা একটা ছিলো। সরকারকে না হয় পরিবর্তন করা গেলো কিন্তু রাজনীতির ধরণ কি বদলাবে? নাকি সেই পুরনো গৎবাঁধা নিয়মে চলবে??
উত্তর খুঁজতে যেদিন বিএনপির সমাবেশে গেলাম, নতুনত্ব পেলাম শুধু ভিডিও কলে বক্তৃতা।
কর্মীরা সেই আগেরমত তাদের পারিশ্রমিক নিতে ব্যস্ত। সমাবেশে কি বলা হচ্ছে না হচ্ছে তাদের সেদিকে খেয়াল নেই। মঞ্চে গিজগিজ করছে মানুষ। যখনই কোন বক্তা মাইকের সামনে দাঁড়ান, তখনই তার চারপাশে ঘিরে থাকে কিছু লোভী অপরিচিত মুখ। নিজের থোৎমা দেখিয়ে যদি কিছু ফায়দা হয় এই আশায়। প্রত্যেক নেতার সেই আগের মত আলাদা আলাদা গ্রুপ,পোস্টার, ব্যানার; জায়গা নিয়ে কামড়াকামড়ি। আর জায়গা হলো সেই চিরাচরিত জনগণের রাস্তা। অমনোযোগী কর্মীদের উপর পাতিনেতাদের গায়ে হাত দেয়া তো চলছেই। এমন গৎবাঁধা মাহফিল দেখে বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি।
আজ একই প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে গেলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। খিলগাঁও থেকে আমি রমনা থানা পর্যন্ত রিক্সায় আসতে পেরেছিলাম। তারপর লোকে লোকারন্য। মিন্টু রোডের কাছেই দেখলাম বিশাল স্ক্রীনে একে একে বক্তার বক্তৃতা দেখানো হচ্ছে। সবাই সেটা শুনছেন এবং রিএক্ট করছেন। মৎস্য ভবন থেকে আর সামনে আগাতে পারলাম না। কোনমতে রমনা পার্কে ঢুকে দেখি সেটাও পূর্ণ। গতকাল রাতে আসা অনেকেই গাছের নিচে পলিথিনের উপর শুয়ে আছেন। বাড়ি থেকে আনা খাবার খাচ্ছেন। কিছু বান্দা গরম সহ্য করতে না পেরে রমনার লেকে নেমে গোসল করছেন। পুরো রমনা ভরা মানুষ কিন্তু তার মধ্যে কোন পুলিশ দেখলাম না। আর পুলিশের দরকারও ছিলো না। সবাই ছিলো সুশৃঙ্খল। অনেক কষ্ট করে শিশুপার্কের ভেতর দিয়ে আমি উদ্যানে গেলাম। গাছের ছায়ার নিচে বসে মানুষ বিশাল স্ক্রীনে বক্তব্য শুনছে। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলাদা করে লাগানো হয়েছে ১২ টা বিশাল স্ক্রীন। মঞ্চের স্ক্রীন তো আছেই। খাবার পানি, ওযুর পানি, অস্থায়ী ওয়াশরুম, মেডিকেল বুথ, নামাজ আদায় করার জন্য ত্রিপল, সবকিছুর ব্যবস্থা করা!! পুলিশ উদ্যানের প্রবেশমুখে থাকলেও অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় ছিল অপ্রতুল এমন কি খুব বেশী ট্রাফিক পুলিশ ও আমার চোখে পড়ে নি।