30/08/2022
।
আমার হাসবেন্ড নিহান যখন দ্বিতীয় বিয়ে করে তখন আমার প্রেগনেন্সির দু মাস চলছে ।
কিন্তু সে জানতো না যে আমি প্রেগনেন্ট। কারণ সেদিন সকালেই আমি জানতে পারি যে আমি মা হতে চলেছি।
ভেবেছিলাম নিহান অফিস থেকে ফিরলে তাকে সারপ্রাইজ দিব।
কিন্তু সেই যে আমার জন্য এত বড় একটা সারপ্রাইজ নিয়ে আসবে তা আমি কখনো ভাবিও নি। দরজা খুলে যখন তার পাশে বউ বেশে একটা মেয়েকে দেখি তখন আমার বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি যে কে মেয়েটা।
তবু বো*কার মতোন প্রশ্ন করেছিলাম, কে এই মেয়েটা? তখন সে আমাকে কিছু না বলেই উপরে চলে যায় আমাদের রুমে। আমি পাথ*রের মতো সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর নিহান একটা ব্যাগ নিয়ে নিচে নামে।
এবং ব্যাগটা আমার সামনে রেখে একটা কাগজ আমার দিকে এগিয়ে দেয়। এবং কাগজটা ছিল ডিভো*র্স পেপার। সেটাতে সই করে আমাকে বাড়ি থেকে চ*লে যেতে বলে। এ কথা শোনার পর কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকি। এরপর আমি কিছুই বলিনি শুধু কাগজটাতে সাইন করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম।
আর আসার আগে দেখতে পেয়েছিলাম আমার শাশুড়ি তার নতুন পুত্রবধূকে বরণ করে ঘরে তুলছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর ভিতর থেকে কান্না গুলো কেন যেন বেরিয়ে আসতে চাইছিল বারবার। বিয়ের ৬ বছর পর নিহান কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিল তার সবকিছুই আমার জানা।
তাই তখন কিছুই বলিনি এবং তাকে আর জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি যে সে বাবা হতে চলেছে।
একটা গাড়ি নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আমাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হয়েছিল। আমি ছিলাম আমার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। কোন সময় বাবা মায়ের কথার অমান্য হয়নি।
তাই বাবা যখন বিয়ের কথা বলে তখন তাকে বলেছিলাম সে যে ছেলেকে পছন্দ করবে তাকেই বিয়ে করবো। বাবা আমার কাছে জানতে চেয়েছিল আমার কোন পছন্দ আছে কিনা।
যেহেতু আমার কোন পছন্দ ছিল না তাই বাবার কথা আপত্তি করার প্রশ্নই আসে না। এবং বাবা মার পছন্দ মতেই নিহানের সাথে আমার বিয়েটা হয়।
ওর সাথে যখন বিয়ে হয় তখন আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী।বিয়ের পর পড়াশোনা করতে চাইলে শাশুড়ি প্রথমে আপত্তি জানালেও অনেক জোরা*জুরির পর রাজি হয়।
এবং অনেক কষ্টে মাস্টার্স কমপ্লিট করি। মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর আমরা বাচ্চা নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করি। কিন্তু অনেক দিন চেষ্টা করার পরও যখন কোনভাবেই কন*সিভ করতে পারছিলাম না। তখন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই । যখন ডাক্তারের কাছে যাই ডাক্তার দুজনকে কিছু টেস্ট করতে দেয়।
এবং টেস্ট রিপোর্ট পাওয়ার পর ডাক্তার জানায় আমাদের কারো কোন সমস্যা নেই। নিহানের ধারণা যদি কারো কোন সমস্যা না থাকে তাহলে আমাদের বাচ্চা কেন হচ্ছে না।
তখন আমার নিজের মনের অবস্থাও ভাল ছিল না তবু ওকে বোঝাই যে আল্লাহ যদি চায় তাহলে আমাদের ঠিকই একদিন বেবি হবে। তখন নিহান বুঝেছিল কিনা জানিনা কিন্তু আর কিছু বলেনি।
কিছুদিন পর যখন আমার শাশুড়ি জানতে পারে আমাদের বাচ্চা হচ্ছে না। তখন সে ভাবে আমি বাচ্চা দানে অক্ষ*ম। এবং নিহান কে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য বলে। আর আমাকে প্রতিনিয়ত মান*সিকভাবে টর্চা*র করা শুরু করে।
নিহান যে আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে এতদিন তা কিন্তু নয়। কথায় কথায় রেগে যেতো। রাত করে বাড়ি ফিরতো কোথায় ছিল জানতে চাইলে রাগা*রাগি করতো। হঠাৎ একদিন নিজের ভিতরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করি। কিন্তু প্রথমে সে গুলোকে পাত্তা দেইনি। কিন্তু যখন আমার পরিবর্তন গুলোকে ভালোভাবে লক্ষ্য করি তখন প্রথমেই একবার প্রেগনেন্সি টেস্ট করার কথা মাথায় আসে।
এবং পরদিন সকালেই চলে যাই টেস্ট করতে এবং যখন টেস্টের রিপোর্ট আমার হাতে আসে তখন আমি খুশিতে কান্না করে দেই। রিপোর্টে লেখা ছিল আমি দুই মাসের প্রেগনেন্ট।
খুশি মনে বাসায় আসি আর ভাবতে থাকি কিভাবে নিহানকে এই খুশির সংবাদটা বলবো এই সংবাদটা শোনার পর নিশ্চয়ই নিহান অনেক চমকে যাবে। কিন্তু আমার বলার আগেই নিহান আমার জন্য অনেক বড় চমক সাথে করে নিয়ে আসলো বাসায়। আমি যদি তখন বলতাম নিহানকে যে সে বাবা হতে চলেছে। তাহলে হয়তো সে বাচ্চার জন্য হলেও আমাকে মেনে নিতো আবার।
কিন্তু আমি চাইনি তার মত স্বার্থ*পর মানুষের কাছে আমি আমার বাচ্চার দো*হাই দিয়ে থাকি। আচ্ছা সে কি আমাকে ৬ টা বছরে একটু ও ভালবাসতে পারেনি। সবসময় শুনেছি মানুষ যখন কাউকে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসে তখন সে তার ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে সকল দুর্যোগ অতিক্রম করতে পারে।
যদি নিহান আমাকে ভালোবাসতো তাহলে কীভাবে ও আমার হাতটি ছেড়ে অন্য একজনের হাত ধরতে পারলো। নিহান যেমন বাবা ডাক শোনার জন্য পাগ*ল ছিল ঠিক আমিও তো তেমন মা ডাক শোনার জন্য পাগ*ল ছিলাম। কই আমি তো কখনো ওর হাতটি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিও নি।
বাবার বাসায় আসার পর মা আমাকে একলা দেখে জিজ্ঞেস করলো নিহান আমার সাথে আসেনি নাকি পরে আসবে। তখন আর নিজেকে আটকাতে পারলাম না হাউমাউ করে কা*ন্না করে দিলাম। এবং মা-বাবাকে সব টা খুলে বললাম।
বাবা-মা সবটা শোনার পর স্তব্ধ হয়ে গেল তারা ভাবতে পারেনি নিহান এমন কিছু করবে। বাবা সবটা শোনার পর ওদের বিরু*দ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলো।
কিন্তু আমি বাধা দেই যেখানে আমাদের ডি*ভোর্স হয়ে গেছে সেখানে আর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি নেই তাহলে ওরা জেনে যাবে আমার বাচ্চাটার কথা।
তারপর হয়তো উঠে পড়ে লাগবে আমার কাছ থেকে আমার বেচে থাকার শেষ আশাটুকুও নিয়ে যাওয়ার। নিজেকে শান্ত করে বাবাকে বললাম আমাকে এই শহর থেকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে।
এই শহরে আর থাকতে চাই না আমি যে শহরে স্বার্থ*পরের বাস সে শহরের বাতাসেও বিষ মি*শ্রিত। দুইটা দিন পার হয়ে গেল বাবাও তোড়জোড় লাগিয়ে দিয়েছি দ্রুত এই শহর ছেড়ে যাওয়ার। লেখাপড়া যখন জানি তখন কোন একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হয়ে যাবে।
আমি আমার সন্তানের উপর এই স্বার্থ*পরদের একটা ছায়াও পড়তে দিবোনা। ডিভোর্সের ঠিক ২০ দিন পরেই ঐ শহর ছেড়ে চলে এসেছিলাম। তারপর কখনো আর তাদের খোঁজ নেওয়া হয়নি। বউ বাচ্চা নিয়ে অবশ্যই ভালোই থাকবে ভালো থাকার জন্যেই তো সে আমাকে ছেড়ে দিয়েছিল।
চলবে.....
অসমাপ্ত_স্বার্থপর
#পর্ব_১
আপনাদের সাড়া পেলে নেক্সট পর্ব পোস্ট করব
নেক্সট পর্বগুলো মিস করতে না চাইলে পেজে ফলো দিয়ে রাখুন🥀