13/12/2025
গত শুক্রবারের ভূমিকম্প ফোরশক নাকি মেইনশক ছিল -এই নিয়ে আমরা কেউ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারবো না। তবে এটি যে আমাদের জন্য একটি বিশেষ নিয়ামত, এ কথা সহজে অনুমেয়।
আল্লাহ এই ঝাঁকুনি পাঠিয়েছেন যেন আমরা সতর্ক থাকতে পারি ও যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারি। এই প্রস্তুতি হবে দুনিয়াবি ও ঈমানী। এতে সহায়ক দুটো চেকলিস্ট দেয়া হলো।
📌 দুনিয়াবি প্রস্তুতি
একটি ইমার্জেন্সী ব্যাকপ্যাক রেডি করা ছাড়া তেমন কোন পার্থিব প্রস্তুতির সুযোগ নেই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে। এর ব্যবহার সম্পর্কে আগে জেনে নিন-
ক) ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেলে দৌড়াদৌড়ি না করে ড্রপ-কভার-হোল্ড করার কথা বলা হয়। সেরকম টেবিল কাছে না থাকলে ভূমিকম্প হলে এটি দিয়ে মাথা ঢাকা যাবে। তাই এটি একদম হাতের কাছে রাখতে হবে। অফিসে বা বাইরে গেলে রেগুলার বহনের ব্যাগটিই ইমার্জেন্সী জিনিস দিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে।
খ) কোন কারণে বাসায় আটকে পড়লে উদ্ধার কর্মী আসার আগ পর্যন্ত ইমার্জেন্সী সাপ্লাই গুলো কাজে দিবে, ইন শা আল্লাহ।
গ) যেহেতু থেমে যাওয়ার পর আবার আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সেই সময়ে দ্রুত এই ব্যাগটি নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হয়ে যাওয়া যাবে।
এবারে ইমার্জেন্সী ব্যাকপ্যাকে কি কি থাকতে পারে তার লিস্ট দেয়া হলো:
☑️ একটি হুইসেল (এর শব্দ দূর পর্যন্ত শোনা যায়, এতে উদ্ধারকর্মীদের সুবিধা হয়)
☑️ এক বোতল পানি
☑️ কিছু শুকনা খাবার (খেজুর, মুড়ি, বিস্কিট, বাদাম ইত্যাদি)
☑️ জরুরি ওষুধ (ব্যান্ডএইড, ব্যথার ওষুধ ইত্যাদি)
☑️ কিছু টাকা
☑️ একটি এক্সট্রা মোবাইল (সিম সহ, যদি থাকে)
☑️ টর্চ/ম্যাচ
☑️ বাসার এক্সট্রা চাবি (যদি থাকে)
☑️ মাল্টি-পারপাস টুল কিট (যদি থাকে)
☑️ এক্সট্রা পোশাক (চাদর, লুঙ্গি ইত্যাদি, বাইরের দিকের পকেটে)
☑️ একটি কাগজে আপনার নাম, ব্লাড গ্রুপ, ইমার্জেন্সী ফোন নাম্বার লিখে ব্যাগের উপর লাগিয়ে রাখতে পারেন।
📌 ঈমানী প্রস্তুতি
যদি আপনার হায়াত আর না-ই থাকে, তাহলে হাজার দুনিয়াবি প্রস্তুতি নিয়েও কোন লাভ নেই। তাই আল্লাহর কাছে সুন্দরভাবে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
☑️ ওয়াসিয়াহ বা ওসিয়তনামা: এখনো তৈরি না করে থাকলে দ্রুত তৈরি করে নিন। রাসূল (সা:) এটি ছাড়া দুদিনের অধিক অতিক্রান্ত করতে মানা করেছেন।
☑️ ফরজের হিসাব: ফরজ সালাত ও সিয়াম কাযা আছে কিনা, সামর্থ্য হওয়ার পর কোন বছরের যাকাত ও হজ্ব বাকি আছে কিনা ভেবে দেখুন। সব অতিসত্বর আদায়ের নিয়ত করে ফেলুন। এখন থেকে ওয়াক্ত হওয়া মাত্র সালাত আদায় করে নিন।
☑️ গুনাহর হিসাব: বড় কোন গুনাহে নিমজ্জিত থাকলে, বা অতীতের কোন গুনাহর জন্য যথেষ্ট তওবা না করে থাকলে এখনই শুরু করুন।
☑️ বান্দার হক: কারো কিছু পাওনা আছে কিনা, কারো সাথে বড় দুর্ব্যবহার হয়েছে কিনা এগুলো ভেবে দেখুন। মিটমাটের চেষ্টা করুন, ক্ষমা চেয়ে নিন।
☑️ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: এই বাক্য বেশি বেশি পড়ুন। অভ্যাস না থাকলে শেষ মুহূর্তে এটি জবানে আসবে না।
☑️ দুআ: সকাল সন্ধ্যার দুআ, বিপদের দুআ এগুলো নিয়মিত পড়ুন। দুআ কবুলের সময় গুলো মিস দিবেন না।
☑️ পবিত্রতা: সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। ঘুমের আগে ওযু করে নিন। ফরজ গোসল বিলম্ব করবেন না। টয়লেটে অযথা সময় থাকবেন না। এগুলো সবই আসলে দৈনন্দিন সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
☑️ সাদাকাহ: সাদাকাহ বিপদ দূর করে। উম্মাহর অসহায় ভাই বোনদের সাহায্য করার চেষ্টা করুন; ভূমিকম্প না হলেও যাদের প্রতিটা দিন কাটে মৃ"ত্যুভয়ে।
☑️ সিজদাহ: সিজদাহয় মৃ"ত্যুর স্বপ্ন কার না আছে! তাই সালাতে সিজদাহর সময় বাড়িয়ে দিন, যেন অন্তিম পরিণতি এমন হয়। ভূমিকম্পের সময় শরীর নুয়াতেই যেহেতু হবে, মাথায় ব্যাগ বা কিছু রেখে সিজদায়ে লুটিয়ে পড়বেন। জীবন থাকলেও লাভ, না থাকলেও তাই।
আল্লাহর উপর ভরসা করার পাশাপাশি উটের দড়ি বাঁধাও মুমিনের কর্তব্য। তাই দুই ধরনের প্রস্তুতির কোনোটিই যেন বাদ না থাকে।
আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিপদ ও অবাঞ্ছিত অবস্থা থেকে আমাদের হিফাজত করুন, এই জীবনের একটি সুন্দর সমাপ্তি দিন। আমিন।