29/07/2025
বার্ন ইউনিটে এখনো মাইলস্টোনের অনেক বাচ্চারা গুরুতর অবস্থায় ভর্তি আছে। প্রতিদিনই একজন, দুজন করে মারা যাচ্ছে।
৬০% এর উপর পুড়ে যাওয়া কোন বাচ্চাই বাঁচতেছে না। বার্ন পেশেন্টরা সাধারণত মারা যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৩-৪ দিন পর থেকে।
প্রতিদিন একটা, দুইটা বাচ্চা মারা যায় আর বেঁচে থাকা বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা দৌড়ে এসে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে- ডাক্তার, আমার ছেলেটা বাঁচবে তো.? আমার মেয়েটা বাঁচবে তো.?
ডাক্তাররা সান্ত্বনার সুরে বলে -হ্যাঁ বাঁচবে,বাঁচবে। আপনারা এত টেননশন করবেন না। দোয়া করেন দেখবেন ঠিকই সুস্থ হয়ে আপনাদের সাথে বাড়ি যাবে।
ডাক্তারদের কথা শুনে বাবা-মায়েরা ভরসা পায়, মনে কিছুটা বল আসে।
কিন্তু ডাক্তাররা জানে এই বাচ্চাগুলো বাঁচবে না। ৫০ বা ৬০% এর উপর পুড়ে যাওয়া কোন বাচ্চাই তেমন একটা বাঁচে না।
কিন্তু ডাক্তাররা এই বাবা-মা গুলোর অসহায় মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে সত্যিটা বলার সাহস পাচ্ছেন না। মিথ্যা সান্ত্বনা দিতে হচ্ছে তাদেরকে।
এখন পুড়ে যাওয়া বাচ্চাগুলোকে নল দিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়, মাস্কের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হয়। মাঝেমধ্যে চোখ পিটপিট করে তাকায় বাচ্চাগুলো।
যারা কথা বলতে পারে তারা বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে- আম্মু, আমি সুস্থ হবো তো.? বাড়ি যাব তো.?
বাবা-মায়েরাও ডাক্তারদের শোনা কথায় বাচ্চাগুলোর মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বাস দেয়- হ্যাঁ সুস্থ হয়ে যাবা।
সুস্থ হওয়ার কথা শুনে বাচ্চাদের মুখটা হাসি হাসি হয়ে যায়, ঝলসে যাওয়ার ব্যথাগুলোও হালকা মনে হয়।
কিন্তু ডাক্তাররা হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঘুরার সময় বুঝতে পারে- এই বাচ্চাগুলোর বাঁচার সম্ভাবনা নেই, আর ২ বা ১ দিনের মধ্যেই হয়তো মারা যাবে!