22/04/2025
"আম্মু তুমি খাও। তুমি পপকন খাও। "
গতকাল বিকেলে বাজার থেকে আনা পুইশাকগুলো বসে বসে কাটছিলাম। সকালে উঠেই রান্নার তাড়াহুড়ো শুরু হয়ে যায় তাই আগের দিন বিকেলেই কেটে রেডি রাখছিলাম যাতে সকালের কাটাকুটির কাজটা এগিয়ে থাকে। আমার ২৫ মাস বয়সী ছেলে এসে বলে "আম্মু তুমি কি করছ?"
বললাম," পুইশাক কাটছি।"
ছেলে: কাটো আম্মু। পুইশাক রান্না করতে হবে। তারপর ডাটা খেতে হবে। ( ছেলে পুইডাটা বেশ পছন্দ করে)
আমি : তাই?
ছেলে:তাইইই।
সে পাশে বসে একটা একটা করে ডাল আমার হাতে দিয়ে বলে আম্মু এটা কাটো৷ আমিও ওর হাত থেকে নিয়ে সেটা আগে আগে কাটছিলাম।
হঠাৎ সে দৌড়ে গিয়ে তার আধাখাওয়া পপকর্ণের প্যাকেটটা নিয়ে এল। আমাকে বলল, "আম্মু তুমি খাও। তুমি পপকন খাও। "
আমি ছেলেকে বললাম আমার হাতে তো পুইশাক লেগে আছে৷ তুমি খাইয়ে দাও। সে তখন ছোট ছোট হাতে আমাকে খাইয়ে দিল। এক সাথে বেশি বেশি পপকর্ন আমার মুখের ভেতর ঠেসে দিতে লাগল। বললাম তুমিও খাও। সে বলে "তুমি খেয়ে ফেলো।" সে নিজেও খেল তবে খুব কম।
ছেলেটা সবার সাথে শেয়ার করার ব্যপারটা খুব উপভোগ করে মাশাল্লাহ ৷ অলমোস্ট সবকিছুই সে আমার আর তার বাবার সাথে শেয়ার করে খায়৷ অথবা বাসায় অন্য কোনো মেহমান থাকলে তাদের সাথেও। এই যে শেয়ারিং শেখাটা বা শেয়ারিং এঞ্জয় করাটা কিন্তু এমনি এমনি শিখে যায় না।
বেশিরভাগ শিশুকে দেখা যায় তারা কাউকে কিছু দিতে চায় না৷ বা তাদের শেয়ার করতে বললে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। বাচ্চারা এমনটা করতেই পারে তবে তাদেরকে নার্চার করারও একটা ব্যাপার আছে।
বাচ্চার সামনে তাদের বাবা মা বা অন্যান্য সদস্যরা যা করবে তারা তাই স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে নিজের ভেতরে ধারণ করবে। বাচ্চারা আমাদের শুনে নয় বরং তারা দেখে শেখে। আমাদের মনে হয়ত অনেক ভাল গুণের স্বরণ আছে কিন্তু আমরা সেটা প্র্যাক্টিস করিনা। শুধু মুখে বললাম এটা করা ভাল, ওটা ভালনা। শিশুরা এভাবে কখনো শেখে না। আপনার বাচ্চাই আপনার একমাত্র আনকন্ডিশনাল ফলোয়ার। তাকে লিড দিন।
আমাদের ছেলের সামনে আমরা শেয়ার করার বা কেয়ার করার ব্যাপারগুলো খুব বেশি প্রাক্টিস করি৷ ওর বাবা এবং আমি একসাথে খেতে বসলে একজন আরেকজনের প্লেট থেকে একটু হলেও শেয়ার করি।
ছেলেও সেটাই করে। নিজে যা খায় খাওয়ার সময় সামনের জনকে শেয়ার করে। এমনকি অনেক সময় ওর যখন পানি পিপাসা লাগে তখন নিজে পানি খেয়ে আমাদেরকেও ওর পানির পট দিয়ে পানি খেতে বলে।
কাউকে কিছু দিতে হলে ওর হাত দিয়ে দেয়ার চেস্টা করি৷ যাতে কাউকে কিছু দেয়ার কাজটাতে ও আনন্দ খুজে পায়।
আমরা যেটা করি তা হল, ও যখন আমাদের কোনোকিছু অফার করে আমরা সেটা কখনই রিজেক্ট করিনা। অল্প হলেও সেটা নিই। যাতে করে ও সত্যি সত্যিই কাউকে কিছু দেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই অফার করে৷
আসলে পৃথিবী কঠিন এবং স্বার্থের জায়গা হলেও আপনার কাছে সুযোগ রয়েছে আপনার বাচ্চাটিকে একটি সুন্দর মনের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার।
আপনার সন্তান আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করবে তা পুরোটা না হলেও অনেকটাই আপনার উপর নির্ভর করে। বাকিটা ভাগ্য।
তাই সন্তানকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ভেবে যাচ্ছেতাই করে বড় করবেন না। সন্তান আল্লাহর আমানত। তাকে সঠিক উপায়ে হেফাজত করুন৷ দিন শেষে দুনিয়া শেষে আপনাকেই জবাবদিহি করতে হবে। সন্তানকে তাই দিন যা তার কাছ থেকে আপনি পেতে চান।
আপনার সন্তান আপনারই জীবনের আয়না। সুতরাং আপনিই ঠিক করুন আপনার আয়নায় আপনি নিজেকে কেমন দেখতে চান।
পরিশেষে, প্রচুর দোয়া করুন নিজের এবং বাচ্চার জন্য। পাশাপাশি নিজেদের প্রচেস্টা অব্যাহত রাখুন।
Myst & Metal
২২ এপ্রিল,২০২৫