Boipoka.com

Boipoka.com Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Boipoka.com, Book shop, Dhaka.
(4)

"স্বাগতম Boi Poka পেইজে!
থ্রিলার, রহস্য, এডভেঞ্চার, গোয়েন্দা—যে-কোন ধরনের বই এখন আরও আকর্ষণীয় অফার মূল্যের পরও অতিরিক্ত ০৫% ছাড়ে। বইয়ের জগতে হারিয়ে যান আমাদের সঙ্গে!"

যাবতীয় বইয়ের pdf এখানে পাবেন 👉 https://t.me/boipoka_pdf

কবচ, তিলিসমাত এবং হুরুফিয়াত​মুসলিমদের ব্যবহৃত কবচ এবং তিলিসমাতি বস্তুগুলোতে এমন সব জাদুকরী প্রতীক দেখা যায় যেগুলোর উৎস ই...
17/06/2026

কবচ, তিলিসমাত এবং হুরুফিয়াত

​মুসলিমদের ব্যবহৃত কবচ এবং তিলিসমাতি বস্তুগুলোতে এমন সব জাদুকরী প্রতীক দেখা যায় যেগুলোর উৎস ইসলাম-পূর্ব ঐতিহ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তবুও এই সকল নিদর্শনের মূল ভিত্তি ছিল পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে করা বিশেষ আকুতি। এই দিক থেকে সেগুলো বাইজান্টাইন, রোমান বা প্রাচীন ইরানি জাদুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

​তিলিসমাত এবং কবচ কেবল বদনজর বা দুর্ভাগ্য এড়াতেই ব্যবহৃত হতো না বরং সৌভাগ্য অর্জন, উর্বরতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা কিংবা আকর্ষণ বাড়ানোর কাজেও লাগানো হতো। এগুলোতে জাদুকরী চিহ্নের পাশাপাশি এমন সব প্রার্থনা থাকত যা সরাসরি আল্লাহর প্রতি নিবেদিত। কবচের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত আরবি শব্দ হলো তিলসাম (تلسّم) এবং হিরজ (حرز) যা মূলত সুরক্ষা নির্দেশ করে। তিলসাম শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ কোনো বস্তুকে আধ্যাত্মিক শক্তি দান করা। ইসলামি বিশ্বের জাদুকরী আহ্বানের সাথে ইউরোপীয় পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো এখানে জিন বা শয়তানের পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। যদিও এই সকল বস্তুতে কিছু জাদুকরী লিপি বা হুরুফিয়াত থাকে তবে সেগুলো মূলত বহনকারীকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর কাছে করা বিশেষ ফরিয়াদ। মাইকেল ডলস ইসলামি জাদুকে এক ধরণের শক্তিশালী প্রার্থনা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই দাবিকেই সমর্থন করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই ইসলামি জাদু প্রাচীন এবং ইউরোপীয় মধ্যযুগীয় প্রথা থেকে ভিন্নতর।
​জাদুকরী বস্তুগুলোতে ব্যবহৃত প্রার্থনা, কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর নিরানব্বইটি গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) কিংবা ফেরেশতাদের নামের সাথে বিভিন্ন প্রতীকের সমন্বয় ঘটানো হতো যাতে ফরিয়াদ আরও শক্তিশালী হয়। এই প্রতীকগুলোর অনেকগুলোই প্রাচীন সংস্কৃতি থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং সময়ের পরিক্রমায় এগুলোর প্রকৃত উৎস ও তাৎপর্য বর্তমানে অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।

​আদিমতম টিকে থাকা তিলিসমাতি বস্তুগুলোতে ইসলাম-পূর্ব জাদুকরী প্রতীকবাদের প্রতিফলন দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ নবম শতাব্দীর প্রাচীন ইরানি কবচগুলোতে দীর্ঘ শিংওয়ালা হরিণ বা ওরিক্সের চিত্র পাওয়া যায়। এছাড়া নবম ও দশম শতাব্দীর কবচগুলোতে একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল অথচ জটিল নকশা দেখা যায় যা বৃশ্চিক, লাফিয়ে পড়া সিংহ বা কুকুর, নক্ষত্রখচিত চাঁদোয়া এবং ছদ্ম-লিপির একটি কাঠামো দিয়ে গঠিত। অজ্ঞাত কারণে দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ শতাব্দীর দিকে তিলিসমাতের ভাণ্ডার থেকে এই উভয় নকশা হারিয়ে যায় এবং তখন অন্য ধরণের নকশাগুলো প্রাধান্য পেতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ের নকশাগুলোর মধ্যে সাতটি জাদুকরী চিহ্নের একটি সারি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এই সারিতে একটি পাঁচ কোণা তারকা বা পেন্টাগ্রাম থাকে যাকে অনেক সময় ছয় কোণা তারকা হিসেবেও দেখা যায়।

ঐতিহাসিকভাবে একে সুলায়মানি সীলমোহর (خاتم سليمان) বলা হয়। এই সাতটি জাদুকরী প্রতীক একত্রে পরম করুণাময়ের পবিত্র নামের সংকেত হিসেবে গণ্য হতো। যদিও ইতিহাসবিদগণ ভুলবশত অনেক সময় একে সুলায়মানের সাত সীলমোহর বলে অভিহিত করেছেন। তিলিসমাতের নকশায় প্রাচীনকাল থেকে প্রাপ্ত জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চিত্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলো সাধারণত রাশিচক্রের বারোটি চিহ্ন এবং সাতটি প্রাচীন গ্রহের মানবিক রূপ যা ইসলামি চিত্রশৈলীর আদলে তৈরি করা হতো।

​সংখ্যা ও হুরুফিয়াত এবং অন্যান্য চিহ্ন দিয়ে গঠিত জাদুকরী লিপি তিলিসমাতের আরও একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। নবম শতাব্দীর শুরু থেকেই জাদুকরী বর্ণমালা, গোপন লিপি এবং প্রাচীন সংস্কৃতির অদ্ভুত বর্ণমালার ওপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র রচিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইবনে ওয়াহশিয়া জাদুকরী লিপির ওপর একটি সচিত্র প্রবন্ধ রচনা করেন। প্রাচীন প্রতীকগুলোর পাঠোদ্ধার নিয়ে দশম শতাব্দীতে জাফর ইবনে মনসুর আল-ইয়ামান একটি গবেষণাপত্র লেখেন যা প্রাচীন গুপ্ত প্রতীক সম্পর্কে জানার জন্য একটি কার্যকর নির্দেশিকা। আদি ও পরবর্তী সময়ের ইসলামি জাদুকরী শব্দভাণ্ডারে এমন কিছু প্রতীক অন্তর্ভুক্ত ছিল যা প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলো মূলত ছোট ছোট রেখার সমন্বয়ে গঠিত যার শেষ প্রান্তগুলো গোল করে পেঁচানো থাকে। হুরুফিয়াতের নিজস্ব জাদুকরী গুণাবলী ব্যবহার করে অনেক সময় জিনদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।
ইসলামি তিলিসমাতের অগণিত প্রতীকের পাঠোদ্ধার করার জন্য তৌফিক কানানের গবেষণাটি আজও সেরা নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি ভেনেশিয়া পোর্টার ইসলামি সীলমোহর নিয়ে একটি পরীক্ষা প্রকাশ করেছেন যেখানে কবচের নকশাগুলো উল্টো করে খোদাই করা হয়েছে যেন সেগুলো দিয়ে ছাপ দেওয়া যায়। এতে তিনি সীলমোহর (خاتم) ও কবচের মধ্যকার অস্পষ্টতা এবং উভয়ের কাজ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এইচ.এ. উইঙ্কলারের গবেষণাটি আজও প্রাসঙ্গিক। অন্যদিকে জর্জেস আনাওয়াতি উত্তর আফ্রিকার কিছু কবচের নির্দেশনাবলী বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে একটি চমৎকার গ্রন্থপঞ্জি প্রদান করেছেন। টিকে থাকা অনেক কবচে পাঠোদ্ধার অযোগ্য ছদ্ম-আরবি লিপির উপস্থিতি ইতিহাসবিদদের মনে কিছু কৌতূহলজনক প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে। এই শব্দগুলো কি লেখকের কাছেও অর্থহীন ছিল? লেখক কি অশিক্ষিত ছিলেন এবং নিজের আদর্শ লিপিটি বুঝতে ভুল করেছিলেন? যদি তাই হয় তবে কি এই ভুল জাদুকরী ক্ষমতা বা আহ্বানের শক্তিকে কমিয়ে দেয় কিংবা অকার্যকর করে দেয়? যদি তিলিসমাত বহনকারী ব্যক্তি বা আহ্বান পাঠকারী সেই বিশেষ সূত্রটি বুঝতে না পারেন তবে কি জাদুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়?

​তিলিসমাতি সুরক্ষা মূলত সব কিছুর জন্যই চাওয়া হতো। উদাহরণস্বরূপ পাণ্ডুলিপিগুলোকে প্রায়ই ইয়া কাবিকাজ (يا كبيكج) নামক একটি সাধারণ বাক্য লিখে সংরক্ষিত করা হতো। এই তিলিসমাতি লিপিতে কোনো জাদুকরী প্রতীক ছিল না বরং এটি একটি বিশেষ ধারণাকে প্রতিফলিত করত। কাবিকাজ হলো রেনানকুলাসি পরিবারের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত উদ্ভিদ যা কীটপতঙ্গ এবং কৃমি তাড়াতে কার্যকর। আরব্য পাণ্ডুলিপি তৈরিতে মাছের আঠা এবং স্টার্চের আঠার ব্যবহার বইয়ের দিকে নানা ধরণের কৃমি ও কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করত। দেখা গিয়েছে যখন প্রকৃত গাছটি পাওয়া যেত না তখন কেবল কাবিকাজ নামটি একটি আহ্বানের ঢঙে বইয়ের শুরুতে এবং শেষে লিখে রাখা হতো যেন তা কীটপতঙ্গের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই সকল ক্ষেত্রে আহ্বানটি আল্লাহ বা কোনো মধ্যস্থতাকারী কিংবা কোনো ক্ষুদ্র দেবতার প্রতি নয় বরং উদ্ভিদের নিজস্ব গুপ্ত গুণাবলী বা খাওয়াস এর প্রতি নিবেদিত হতো।

বইঃ জাদুবিদ্যা (ইতিহাস, তত্ত্ব, নকশা, সাধনা এবং ইমাম তাইমিয়ার ব্যাখ্যা)
জনরাঃ ইসলামিকেট
লেখকঃ কাজী ম্যাক
অনুজ প্রকাশন/Anuj Prokashon

বইটি প্রি-অর্ডার করতে যোগাযোগঃ আমাদের পেইজে
প্রি-অর্ডার মূল্য - ৫৬০ টাকা

17/06/2026

আহলান ওয়া সাহলান
আরবি নববর্ষ
১৪৪৮ হিজরী

ক্ষুদ্র মৌমাছির বুদ্ধিতে তৈরি হচ্ছে মানুষের ভূমিকম্প-প্রতিরোধক বাড়ি!মৌচাক তো আমরা কম-বেশি সবাই দেখেছি । কিন্তু কখনো কি ভ...
17/06/2026

ক্ষুদ্র মৌমাছির বুদ্ধিতে তৈরি হচ্ছে মানুষের ভূমিকম্প-প্রতিরোধক বাড়ি!
মৌচাক তো আমরা কম-বেশি সবাই দেখেছি । কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, মৌমাছিরা কেন তাদের ঘরগুলো গোল, তিনকোণা বা চারকোণা না বানিয়ে ঠিক ‘ছয় কোণা’ বা ষড়ভুজ আকৃতির বানায়? প্রকৃতির এই ছোট্ট ইঞ্জিনিয়ারদের নিখুঁত হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে জানলে অবাক হয়ে যাবেন!
গাণিতিক হিসাবটা একটু সহজ করে বলি। আমরা যদি অনেকগুলো গোল ঘর পাশাপাশি রাখি, তবে খেয়াল করবেন ঘরগুলোর মাঝখানে বেশ কিছু জায়গা খালি থেকে যাচ্ছে—যা আসলে জায়গার অপচয়। আবার তিনকোণা বা চারকোণা ঘর করলে দেয়াল তৈরিতে মোম খরচ হবে বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় ভেতরে মধু রাখার জায়গা মিলবে কম।
এখানেই মৌমাছিদের জ্যামিতিক বুদ্ধির খেলা! এই ছয় কোণা ঘর তৈরি করলে মোম খরচ হয় সবচেয়ে কম, অথচ ভেতরে জায়গা পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি। তার ওপর এই ঘরগুলো একটার পিঠের সাথে আরেকটা এমন নিখুঁতভাবে লেগে থাকে যে, মাঝখানে বিন্দুমাত্র জায়গাও নষ্ট হয় না। একারণেই মৌচাক অবিশ্বাস্য রকমের মজবুত আর টেকসই হয়।
প্রকৃতির এই দারুণ টেকনিক ধার করেই এখন মানুষ বানাচ্ছে ভূমিকম্প-প্রতিরোধক বাড়ি। আমাদের চেনা চারকোণা দেয়ালের চেয়ে এই ছয় কোণা কাঠামোর বাড়িগুলো অনেক বেশি ঝাঁকুনি সহ্য করতে পারে।
সম্প্রতি এই মৌচাক-ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে চমৎকার পরিবেশবান্ধব বাড়ির নকশা বানিয়ে দুজন স্থপতি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়—খুব কম সময়ে, কম খরচে এবং কম জায়গায় শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার মতো আবাসন তৈরিতেও এই ষড়ভুজ ডিজাইন এখন আশার আলো দেখাচ্ছে।
আল্লাহর সৃষ্টির ল্যাবরেটরিতেই আসলে লুকিয়ে আছে মানুষের ভবিষ্যতের সব সেরা সমাধান!
প্রকৃতির এই অলৌকিক ল্যাবরেটরির গোপন কোডগুলো আনলক করতে এবং চেনা পৃথিবীকে বিজ্ঞানের চোখ দিয়ে নতুন করে আবিষ্কার করতে আজই সংগ্রহ করুন সমকালীন প্রকাশনের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘পড়ো’ সিরিজ।
পড়ো সিরিজটি অর্ডার করতে ইনবক্স করুন অথবা কমেন্টে দেওয়া লিংক থেকে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
সমকালীন প্রকাশন
সুন্দর জীবনের জন্য

তানভীর আহমেদ সৃজনের 'গল্প সিরিজ' 🔥 🌿গল্প শুরুর আগে 🌿একটা গল্প শুনবেন?🌿যে গল্পের শেষ নেই 🌿গল্পটা অসুর বধের ⛔ অর্ডার করতে ...
16/06/2026

তানভীর আহমেদ সৃজনের 'গল্প সিরিজ' 🔥

🌿গল্প শুরুর আগে
🌿একটা গল্প শুনবেন?
🌿যে গল্পের শেষ নেই
🌿গল্পটা অসুর বধের

⛔ অর্ডার করতে ইনবক্সে যোগাযোগ করুন

14/06/2026

আপনার ঘরে বা কর্মক্ষেত্রে যারা আপনাকে সাহায্য করে (যেমন খালা, ড্রাইভার বা সহকারী), তাদের কাজে কোনো ভুল হলে অতিরিক্ত রাগ না করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। এক সাহাবি নবিজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কাজের লোককে কতবার ক্ষমা করব? নবিজি (সা.) বলেছিলেন, "প্রতিদিন ৭০ বার।"

—আবু দাউদ :৫১৬৪

সুন্দর জীবনের জন্য

অধিকাংশ প্রথার ক্ষেত্রেই আমাদের প্রাপ্ত উৎসগুলো পরবর্তী সময়ের। বিশেষ করে দ্বাদশ শতাব্দীর পরের উৎসগুলো যখন এই সকল পদ্ধতি ...
14/06/2026

অধিকাংশ প্রথার ক্ষেত্রেই আমাদের প্রাপ্ত উৎসগুলো পরবর্তী সময়ের। বিশেষ করে দ্বাদশ শতাব্দীর পরের উৎসগুলো যখন এই সকল পদ্ধতি ও কৌশলগুলো সুনির্দিষ্ট এবং বেশ জটিল রূপ লাভ করেছিল। ইসলামের প্রথম শতাব্দীগুলোর প্রথা ও বিশ্বাসের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা যেমন কঠিন তেমনই তা বহুলাংশে অনুমাননির্ভর।

​আদি ইসলামের ক্ষেত্রে যখন প্রাক-ইসলামী প্রথাগুলো মুসলিম সমাজে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছিল তখন আমাদের হাদীস, প্রাচীন অভিধান, ইতিহাসগ্রন্থ এবং এমন সব রচনার ওপর নির্ভর করতে হয় যেগুলো কেবল জাদুবিদ্যা বা ভাগ্যগণনার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়নি। তবে এই বিষয়ের অধিকাংশ ইতিহাসবিদ পরবর্তী সময়ের আনুষ্ঠানিক গবেষণাপত্রগুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন। অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকের জন্য আমরা ভাগ্যবান কারণ আল-কিন্দী (মৃত্যু আনুমানিক ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ) ও আবু মাশার (মৃত্যু আনুমানিক ৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ) এর জ্যোতিষশাস্ত্র বিষয়ক প্রাসঙ্গিক রচনাগুলোর সম্পাদিত রূপ ও অনুবাদ আমাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া পিকাট্রিক্স (Picatrix) নামে পরিচিত জাদুকরী সংকলনটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন ল্যামোরোর মূল্যবান কাজ বাদে আদি ইসলামের জাদুবিদ্যা বা ভাগ্যগণনার ওপর ভিত্তি করে লেখা সমন্বিত গবেষণার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে একাদশ শতাব্দীর পরের উপাদানগুলোর ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণাগুলোতেও প্রায়ই আদি সময়কালের প্রাসঙ্গিক অন্তর্দৃষ্টি খুঁজে পাওয়া যায়।

​তৌফিক ফাহদ-এর ভাগ্যগণনা বিষয়ক কাজগুলো বাদে এই ক্ষেত্রটি গ্রন্থপঞ্জিকারদের দ্বারা খুব একটা সমৃদ্ধ হয়নি। কার্ল ব্রকেলম্যান-এর বহু খণ্ডের গ্রন্থে জাদুবিদ্যা ও ভাগ্যগণনার বিষয়টি কেবল মাঝেমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফুয়াত সেজগিন তাঁর পরিশিষ্টে ব্রকেলম্যান-এর কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেলেও সেখানে আদি জ্যোতিষশাস্ত্র বাদে বাকি অংশগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। সাধারণভাবে জাদুবিদ্যা ও জ্যোতিষশাস্ত্রের জন্য ম্যানফ্রেড উলম্যান-এর কাজ মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
​যদিও জাদুবিদ্যা ও ভাগ্যগণনা উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে মধ্যযুগীয় উৎসগুলোর কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই তবুও ইসলামি বিশ্বকোষের বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক নিবন্ধে এবং দুটি বিশেষ সাময়িকীতে এই ক্ষেত্রটি অন্বেষণ করা হয়েছে। সাময়িকী দুটির একটি হলো ‘সায়েন্সেস অকাল্টস এট ইসলাম’ এবং অন্যটি ইয়েমেনের ভাগ্যগণনা ও জাদুর ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত।

​বিভিন্ন পাঠাগারে এ সংক্রান্ত প্রচুর পাণ্ডুলিপি থাকলেও সেগুলোর খুব কমই প্রকাশিত কিংবা গবেষণার আওতায় এসেছে। এমনকি অধিকাংশের তালিকাও তৈরি হয়নি। কায়রো জেনিজা থেকে প্রাপ্ত উপাদানের মতো অতিরিক্ত উৎসগুলো এখন সহজলভ্য হলেও ইতিহাসবিদগণ এখনো এগুলো নিয়ে বিস্তারিত কাজ করেননি। এছাড়া তিলিসমাত বা বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোও একটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। গত দুই শতাব্দীতে ইসলামি কবচ বা তিলিসমাতের বড় বড় সংকলন তৈরি হয়েছে। এগুলোর ওপর কিছু বর্ণনামূলক প্রকাশনা থাকলেও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত নগণ্য।

যেকোনো বিচারেই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং অবশিষ্টাংশগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ আমরা কি এই সকল বস্তুর প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে অবগত? যদি হয়েও থাকি তবে তার ব্যাখ্যা কীভাবে করা উচিত? এমন অনেক বস্তু রয়েছে যেগুলোর কোনো উল্লেখ লিখিত উৎসগুলোতে পাওয়া যায় না। বিষ নিরোধক পেয়ালা এর একটি বড় উদাহরণ। আবার সংরক্ষিত পাঠ্য এবং নিদর্শনের মাঝে মাঝে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন রত্নপাথরে খোদাই করার জন্য বিভিন্ন জটিল জাদুকরী নকশা ও কালাম সম্বলিত ‘পাথর-পুস্তক’ বা গ্রিমোয়ারগুলো এগুলোর প্রয়োগযোগ্যতা সম্পর্কে লেখকের মনে সন্দেহ জাগিয়েছে। এই নকশাগুলো এতটাই জটিল মনে হয় একটি রত্নপাথরের ক্ষুদ্র পরিসরে তা ফুটিয়ে তোলা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে সংরক্ষিত হাজার হাজার রত্নপাথর বা সীলমোহরের নকশার সাথে এই সকল নির্দেশনার কোনো মিল পাওয়া যায় না। সম্ভবত এই পাথর-পুস্তকগুলো এমন এক ধরণের সাহিত্য যা কেবল পড়ার জন্য আকর্ষণীয় কিন্তু তিলিসমাত প্রস্তুতকারকদের কাছে এগুলোর ব্যবহারিক মূল্য সামান্য। এই ধরণের সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বইঃ জাদুবিদ্যা (ইতিহাস, তত্ত্ব, নকশা, সাধনা এবং ইমাম তাইমিয়ার ব্যাখ্যা)
জনরাঃ ইসলামিকেট
লেখকঃ কাজী ম্যাক
অনুজ প্রকাশন/Anuj Prokashon

বইটি প্রি-অর্ডার করতে যোগাযোগঃ আমাদের পেইজে
প্রি-অর্ডার মূল্যঃ ৫৬০ টাকা

বুক রিভিউ বই: দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম মানুষ বলে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী নাকি বাঘ, সিংহ বা হাঙর। কিন্তু ইতিহাস বলে ...
14/06/2026

বুক রিভিউ
বই: দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম

মানুষ বলে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী নাকি বাঘ, সিংহ বা হাঙর। কিন্তু ইতিহাস বলে অন্য কথা।

"দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম" বইটা হাতে নিয়েছিলাম একটু উল্টেপাল্টে দেখব বলে। ঘড়ির কাঁটা কিভাবে পেরিয়ে যাচ্ছিল খেয়ালই করিনি। শুধু টের পাচ্ছিলাম বুকের ভেতরে একটা অস্বস্তি জমছে না ভয়, না রোমাঞ্চ। বরং অনেকটা সেই অনুভূতি যখন হঠাৎ বুঝতে পারি পৃথিবীটা আসলে যতটা নিরাপদ ভাবতাম, ততটা নয়।

অন্বয় আকিবের "দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম" আমার সাথে ঠিক এই কাজটাই করেছে।

বইটা হাতে নিলে প্রথমেই মনে হবে, এটা নিশ্চয়ই রক্ত আর রোমাঞ্চের গল্প। সিরিয়াল কিলার মানেই তো থ্রিলার, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, শেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়া। কিন্তু বইটা পড়তে বসলে বোঝা যায়, এখানে আসল ভয়টা অন্য জায়গায়।

পৃথিবীর ২১ জন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের বাস্তব জীবনের গল্প তুলে এনেছেন লেখক। আন্দ্রে চিকাতিলো, টেড বান্ডি, আলবার্ট ফিশ, জাভেদ ইকবাল, ইয়ো ইয়োং চুল - এই নামগুলো শুনলে অনেকে হয়তো চিনবেন, অনেকেই চিনবেন না। কিন্তু তাদের গল্প জানলে একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে বা আসবে আর সেটা হলো, "এরা কি সত্যিই মানুষ ছিল?!!"

ধরুন আপনার পরিচিত একজন ডাক্তার। হাসিমুখে কথা বলেন,রোগী দেখেন,ওষুধ লেখেন। কিন্তু সেই ডাক্তার যদি আসলে রোগীর মৃত্যু উপভোগ করে?!!! সুস্থ করার বদলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়? এই বইয়ে এমন একজনের গল্প আছে।

আবার ভাবুন একজন সাংবাদিকের কথা। যার লেখা পড়ে সকালে চায়ের কাপ হাতে মানুষ শিউরে ওঠে। সেই সাংবাদিক নিজেই যদি হয় সেই খবরের নায়ক?!! যে খুনের রিপোর্ট সে লিখছে, সে নিজেই যদি হয় সেই খুনি?!!

আর শিশুদের কথা না বললেই নয়। যে বয়সে বাচ্চারা চকলেটের লোভে যেকোনো দিকে ছুটে যায়, সেই সরলতাকে যারা অস্ত্র বানিয়েছিল তাদের গল্প পড়তে গিয়ে বারবার বইটা বন্ধ করে দিতে ইচ্ছে করেছে। তবু বন্ধ করতে পারিনি।

পাকিস্তানের জাভেদ ইকবাল একশোরও বেশি শিশুকে হত্যা করেছিল। শুধু সংখ্যাটা পড়লেই মাথা ঘুরে যায়। আর যখন পড়লাম সেও একসময় একটা সাধারণ মানুষ ছিল তখন ভেতরে একটা অদ্ভুত শীতলতা ছড়িয়ে পড়ল।

বইটা শুধু খুনের বর্ণনায় আটকে থাকেনি। লেখক প্রতিটি কিলারের শৈশব থেকে শুরু করেছেন। পরিবার, সমাজ, অবহেলা, অপমান এই সবকিছু মিলিয়ে কীভাবে একটা মানুষের ভেতরে ধীরে ধীরে অন্য একটা সত্তা জন্ম নেয়, সেটা পড়তে পড়তে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকতে হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, একটা শিশুর মস্তিষ্ক হলো নরম মাটির মতো। সেই মাটিতে যা গড়া হয়, সেটাই থেকে যায়। এই বইয়ের প্রায় প্রতিটি কিলারের শৈশব ছিল বিভীষিকাময়। অত্যাচার, বঞ্চনা, নিষ্ঠুরতা এই পরিবেশ তাদের মানুষ হতে দেয়নি। তৈরি করেছিল দানব।

কিন্তু তার মানে কি তারা ক্ষমার যোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তর লেখক দেননি। দেওয়ার দরকারও নেই। পাঠক নিজেই এই দ্বন্দ্বে পড়ে যাবেন।

বইটা পড়তে পড়তে একটা জায়গায় এসে সত্যিকারের ধাক্কা খেলাম। আমেরিকা, ইউরোপ, কোরিয়া, জাপান এতক্ষণ দূরের দেশের গল্প পড়ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম আমাদের বাংলাদেশের একটি অধ্যায়।এদেশেও এমন একজন ছিল। যার লক্ষ্য ছিল ১০১ জন নারীকে হত্যা করা!!! ভাবা যায়?!!!

অন্বয় আকিবের লেখার ভঙ্গিতে একটা আড্ডার উষ্ণতা আছে। মনে হয় কেউ সামনে বসে গল্প বলছে, তথ্যের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে না। প্রতিটি ঘটনার তারিখ, সাল, বিস্তারিত বিবরণ সবকিছু এত মনোযোগ দিয়ে সাজানো যে বোঝা যায়, বইটা লিখতে লেখককে কত রাত জেগে কাটাতে হয়েছে।

তবে একটা জায়গায় একটু হোঁচট খেতে হয়েছে। বইয়ের বেশ কিছু অংশ ইংরেজিতে রাখা হয়েছে, বড় অনুচ্ছেদও। বাংলায় পড়তে বসে হঠাৎ ইংরেজি ব্লকে এলে গল্পের সুতো একটু কেটে যায়। অনুবাদ থাকলে আরও স্বচ্ছন্দ লাগত।

সরাসরি বলি দুর্বল হৃদয়ের পাঠকের জন্য এই বই নয়। এখানে এমন বর্ণনা আছে যা পড়তে গিয়ে গা গুলিয়ে ওঠে, ঘুম আসে না। বইটা একটানা পড়া সম্ভব নয়, বরং থেমে থেমে পড়াটাই স্বাভাবিক।কিন্তু যদি জানতে চান মানুষের ভেতরের সবচেয়ে অন্ধকার সত্তাটা কেমন দেখতে, যদি বুঝতে চান একটা সমাজ, একটা পরিবার, একটু ভালোবাসার অভাব কীভাবে দানব তৈরি করে তাহলে এই বইটা আপনার জন্য।

অন্যান্য তথ্য:

বই: দ্য মোস্ট ডেঞ্জারাস গেম

লেখক: অন্বয় আকিব

প্রকাশনী: শিরোনাম প্রকাশন

পৃষ্ঠা: ৩২৮

মূল্য: ৫৫০ টাকা

পার্সোনাল রেটিং: ৭.৫/১০

13/06/2026

বইঃ জাদুবিদ্যা (ইতিহাস, তত্ত্ব, নকশা, সাধনা এবং ইমাম তাইমিয়ার ব্যাখ্যা)
জনরাঃ ইসলামিকেট
লেখকঃ কাজী ম্যাক
অনুজ প্রকাশন/Anuj Prokashon

বইটি প্রি-অর্ডার করতে যোগাযোগঃ Boipoka.com
প্রি-অর্ডার মূল্যঃ ৫৬০ টাকা

(পেইজের দিকে নজর দেও 😅😅)

অন্যান্য প্রতিকৃতির মধ্যে হাত ও জুলফিকার তলোয়ার ছাড়াও নবির জুতো (মুহাল্লাজাতুন-নবি), কুব্বাতুস সাখরা এবং কাবার চিত্র লক্...
13/06/2026

অন্যান্য প্রতিকৃতির মধ্যে হাত ও জুলফিকার তলোয়ার ছাড়াও নবির জুতো (মুহাল্লাজাতুন-নবি), কুব্বাতুস সাখরা এবং কাবার চিত্র লক্ষ্য করা যায়। প্রাচ্যের লোকজ চিকিৎসায় হাতের প্রতিকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীনকাল থেকে একে একটি বিশেষ কবচ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। কাঁচ অথবা মুক্তার মা এবং ধাতব হাত বিশেষ করে শিশুদের অশুভ নজর থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করা হয়। আমার কাছে শেখ আবু মাদিয়ানের তৈরি রামাদানের রুটির একটি হাত ছিল যা শিশুর দোলনার ওপর ঝুলিয়ে রাখা হতো। ঘরের দরজার পাল্লা ও চৌকাঠের বাইরের দিকে হাতের চিত্র অঙ্কিত থাকে। কখনো পাথরের ওপর খোদাই করা অবস্থাতেও এটি দেখা যায়। ঘরবাড়ি বা মাক্বামগুলোর ভেতরের দেয়ালে হাতের ছবি খুব কমই চিত্রিত হয়। এমনকি ফিলিস্তিনের অনেক অঞ্চলের সূচিকর্মে হাতের মোটিফ খুঁজে পাওয়া যায়। শিয়া শেখগণ হাতের পাঁচটি আঙুলকে পবিত্র আহলে বাইতের পাঁচজন সদস্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সুন্নি মুসলমানগণ মনে করেন এটি ফাতেমা (রা.)-এর হাতের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে খ্রিস্টানরা একে মেরির হাত এবং ইহুদিরা একে ঈশ্বরের হাত বলে বিশ্বাস করে।

​লিখিত হিজাবে হাতের প্রতিকৃতি আমি দেখিনি তবে শেখদের তৈরি তিলিসমাতে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোর সীলমোহরে এর অবাধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। আমার কাছে হাতে খোদাই করা সীলমোহর সম্বলিত বেশ কিছু তিলিসমাত রয়েছে। এই তিলিসমাতগুলোতে হাতের প্রতিকৃতির পাশাপাশি জুলফিকার তলোয়ার অথবা একটি পাল্লা কিংবা সাধারণ ও অলঙ্কৃত গোলাকার সীলমোহর দেখা যায়। এই ধাতব সীলমোহরগুলো মূলত শেখদের নিজস্ব সম্পদ। প্রতিটি শেখ আরও উন্নত সীলমোহর তৈরির চেষ্টা করেন। আমার সংগ্রহে থাকা একটি তামার সীলমোহরে হাতের প্রতিকৃতির ভেতর বিভিন্ন লিপি খোদাই করা আছে। ৮৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত লিপিগুলো ছাড়াও সেখানে কালেমা لا اله الا الله محمد رسول الله পাওয়া যায়। একটি হাতের ওপর يا كريم الاحسان يا الله يا رحمن يا رحيم يا حنان يا من يا سلطان এই কালামটি খোদাই করা ছিল।

​তলোয়ারের প্রতিকৃতি ‘আস-সাবউ উহুদ আস-সুলায়মানিয়াহ’ এবং ‘হিরজ আল-গাসসালাহ’ তিলিসমাতে দেখা যায় যেখানে لا فتا الا علي ولا سيف الا ذو الفقار এই বাক্যটি উৎকীর্ণ থাকে। এই তলোয়ারটি প্রায়ই দুই মাথা বিশিষ্ট হিসেবে প্রদর্শিত হয় যা আলী ইবনে আবি তালিবের মালিকানাধীন ছিল। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘জুলফিকার’ যার ব্লেডের খাঁজগুলো মেরুদণ্ডের কশেরুকার মতো বলে ধারণা করা হয়। অন্য একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী এই তলোয়ারটি মূলত আস ইবনে মুনাব্বিহ-এর ছিল যিনি বদরের যুদ্ধে নিহত হন এবং এরপর নবি করিম (সা.) এটি লাভ করেন। হ্যামার-পুরগস্টালের সীলমোহর নম্বর ৬০-এ এই তলোয়ারটি দেখানো হয়েছে এবং এর সাথে আলীর নাম দেওয়া হয়েছে।

বইঃ জাদুবিদ্যা (ইতিহাস, তত্ত্ব, নকশা, সাধনা এবং ইমাম তাইমিয়ার ব্যাখ্যা)
জনরাঃ ইসলামিকেট
লেখকঃ কাজী ম্যাক
অনুজ প্রকাশন/Anuj Prokashon

বইটি প্রি-অর্ডার করতে যোগাযোগঃ রুমি বুকশপ
প্রি-অর্ডার মূল্যঃ ৫৬০ টাকা

চিহ্ন ও আকৃতি​এমন কোনো কবচ খুঁজে পাওয়া ভার যাতে এই গোষ্ঠীর অন্তত একটি চিহ্ন বিদ্যমান নেই। এই চিহ্নগুলো মূলত বিভিন্ন রূপে...
12/06/2026

চিহ্ন ও আকৃতি

​এমন কোনো কবচ খুঁজে পাওয়া ভার যাতে এই গোষ্ঠীর অন্তত একটি চিহ্ন বিদ্যমান নেই। এই চিহ্নগুলো মূলত বিভিন্ন রূপের গুপ্ত সংকেতময় বর্ণমালা। এই বর্ণমালাগুলোর কিছু অংশ নেহাত কল্পনাপ্রসূত নয়। সাধারণত বিদেশি বর্ণমালাগুলো অনুলিপিকারীদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে এতটাই বিকৃত হয়েছে তাদের আদি রূপ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো উদ্ধার করা দুঃসাধ্য। হিব্রু তিলিসমাত বিশারদদের মাঝেও বিদেশি বর্ণমালা ব্যবহারের একই প্রথা প্রচলিত ছিল। তারা নিজেদের বর্ণগুলো এমনভাবে বদলে ফেলতেন সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা সম্ভব হতো না। অক্ষরের টানে যে বিচিত্র মোচড় বা অলঙ্কার দিয়ে লিপি শেষ করা হয় সেগুলোকে ‘লুনেট’ বা ‘মুকুট’ বলা হয়। এগুলো আরবি তিলিসমাতে পাওয়া গেলেও এদের আদি উৎস ইহুদি গুপ্তবিদ্যা। জেরুজালেমের একজন শেখ আমাকে বেশ কিছু রহস্যময় বর্ণমালা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন এগুলো তিলিসমাতে ব্যবহৃত হয়। ২৭ নম্বর চিত্রে প্রদর্শিত বর্ণমালাটি সবচেয়ে সহজগুলোর একটি।

​এটি বর্ণমালার সংখ্যাতাত্ত্বিক মান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ১ থেকে ৯ পর্যন্ত মানের বর্ণগুলোকে সাধারণ সংখ্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ১০ থেকে ৯০ পর্যন্ত মানের বর্ণগুলোর ওপর একটি করে ‘লুনেট’ বা বাঁকানো চিহ্ন রয়েছে। ১০০ থেকে ৯০০ পর্যন্ত মানের বর্ণগুলোতে দুটি করে ‘লুনেট’ এবং ১০০০ সংখ্যাতাত্ত্বিক মানের বর্ণ غ এর ক্ষেত্রে ১ সংখ্যার ওপর তিনটি ‘লুনেট’ দেওয়া হয়েছে। গুপ্তবিদ্যার কিছু কিতাবে এই ধারণার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। মুহাম্মদ আহমদ আবি আল-কাসিমের লেখায় এর একটি সন্দেহজনক উল্লেখ খুঁজে পেয়েছি। তিনি লিখেছেন: "যদি তুমি আলিফের (ا) ওপর একটি শূন্য (সম্ভবত লুনেট বোঝানো হয়েছে) বসাও তবে তা ইয়া (ي) হয়ে যায়; যদি দুটি শূন্য বসাও তবে তা ক্বাফ (ق) এবং তিনটি বসাও তবে তা গাইন (غ) এ রূপান্তরিত হয়।" আল-বুনির প্রাচীন সংস্করণে (১২৯১ হিজরি) উপরের বর্ণমালাটির কিছু চিহ্ন পাওয়া যায়।

ইবনে আল-ওয়াহশি এবং আল-জালদাকির দেওয়া সূত্রের সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও এই গোপন বর্ণমালা দিয়ে লেখা পাঠ্যগুলোর মর্মোদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। ২৮ নম্বর চিত্রে একটি অদ্ভুত এবং কৌতূহলী লিপি লক্ষ্য করা যায়। আমার সংগ্রহে থাকা একটি হিজাবে একই রহস্যময় সীলমোহর তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। প্রথম সীলমোহরটির পরেই নিচের এই কালামটি পাওয়া যায়:
​توكلوا يا خدام هذه الاسماء الربانية بمنع الضرر والاذية عن هذه (ا) لجسد الانسانية
​এর ভাবার্থ হলো: "হে এই প্রভুপ্রদত্ত নামসমূহের সেবকগণ—আপনারা দায়িত্ব গ্রহণ করুন এবং এই মানবদেহকে সকল প্রকার অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন।" এই পাঠ্যটি পড়লে মনে হতে পারে পূর্ববর্তী সীলমোহরটিতে হয়তো পরম করুণাময়ের পবিত্র নাম অথবা কোনো জান্নাতি অতিপ্রাকৃত শক্তির নামসমূহ রয়েছে। তবে দ্বিতীয় সীলমোহরটির পরের লিপিটি—যা আসলে প্রথম সীলমোহরেরই একটি হুবহু অনুলিপি—পাঠককে তাঁর ধারণা বদলে দিতে বাধ্য করে। সেখানে লেখা আছে:
​اجب ياميمون
​অর্থাৎ "উত্তর দাও হে মাইমুন।" এটি দেখে মনে হয় সীলমোহরটিতে সম্ভবত এই বিশেষ জিনের নামই লুকিয়ে আছে।

বইঃ জাদুবিদ্যা (ইতিহাস, তত্ত্ব, নকশা, সাধনা এবং ইমাম তাইমিয়ার ব্যাখ্যা)
জানরাঃ ইসলামিকেট
লেখকঃ কাজী ম্যাক
অনুজ প্রকাশন/Anuj Prokashon

বইটি প্রি-অর্ডার করতে যোগাযোগঃ রুমি বুকশপ
প্রি-অর্ডার মূল্যঃ ৫৬০ টাকা

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Boipoka.com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category