11/12/2024
জিরো রিটান (Zero Return) বলতে বোঝায়, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি করফাইল জমা দেয় কিন্তু সেই সময়ে তাদের করযোগ্য আয় বা লেনদেন হয়নি। অর্থাৎ, আয়কর বিবরণীতে আয়ের পরিমাণ "শূন্য" দেখানো হয়। এটি সাধারণত তখন জমা দেওয়া হয় যখন:
1. কোনো আয় নেই: করদাতার সেই সময়ে করযোগ্য আয় না থাকলে।
2. ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ: কোনো ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও করফাইল দাখিল করতে হয়।
3. আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক: কিছু ক্ষেত্রে আয় না থাকলেও করফাইল দাখিল বাধ্যতামূলক।
উদাহরণ
কোনো ব্যক্তি যদি বছরে করযোগ্য আয় না করে, তবে তিনি শূন্য আয়ের বিবরণী বা জিরো রিটান জমা দিতে পারেন। এটি করার মাধ্যমে তিনি কর ব্যবস্থার আওতায় থেকে ভবিষ্যতে কর সুবিধা নিতে পারবেন।
জিরো রিটার্ন দাখিল করার প্রক্রিয়া সহজ এবং নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করে করা যায়:
১. ই-ফাইলিং বা ম্যানুয়াল ফাইলিং নির্বাচন করুন
আপনার কর অঞ্চল অনুযায়ী আপনি দুইভাবে জিরো রিটার্ন দাখিল করতে পারেন:
ই-ফাইলিং প্ল্যাটফর্ম: অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিলের জন্য এনবিআর-এর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।
ম্যানুয়াল জমা: নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কর অফিসে জমা দিতে পারেন।
২. প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করুন
যদিও আয় নেই, তবুও কিছু নথি প্রয়োজন হতে পারে:
টিআইএন নম্বর (Taxpayer Identification Number)।
পূর্ববর্তী বছরের রিটার্ন (যদি প্রযোজ্য হয়)।
ব্যক্তিগত তথ্য: যেমন ঠিকানা, পেশা, ইত্যাদি।
৩. কর রিটার্ন ফর্ম পূরণ করুন
ফর্মে সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্য দিতে হবে:
ব্যক্তিগত বিবরণ।
আয়ের উৎস (যদি শূন্য হয়, তবে শূন্য দেখাতে হবে)।
করযোগ্য আয় না থাকলে "নেই" উল্লেখ করতে হবে।
৪. দাখিলের জন্য ফর্ম জমা দিন
ই-ফাইলিং:
এনবিআর-এর ই-ফাইলিং প্ল্যাটফর্মে লগইন করুন।
নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করুন।
সফল জমার পর রসিদ (Acknowledgment Slip) ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
ম্যানুয়াল ফাইলিং:
পূর্ণ ফর্ম প্রিন্ট করুন এবং কর অফিসে জমা দিন।
অফিস থেকে একটি রসিদ সংগ্রহ করুন।
৫. জমা দেওয়ার সময়সীমা
প্রতিবছর কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, সাধারণত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে জরিমানা হতে পারে।