07/07/2026
স্ত্রীর হক নষ্ট করার ভয়াবহ পরিণতি!
একদিন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন—"যে নারীকে তোমার আমানত করেছিলাম, তার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিলে?"
অনেক স্বামী মনে করেন, "আমি তো সংসারের খরচ চালাই, তাই আমার দায়িত্ব শেষ।"
কিন্তু ইসলাম কখনো দাম্পত্য জীবনকে শুধু ভরণ-পোষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। একটি সুখী সংসারের ভিত্তি হলো ভালোবাসা, দয়া, সম্মান, ন্যায়বিচার এবং একে অপরের হক আদায় করা।
একজন স্ত্রী শুধু রান্না করার মানুষ নন, শুধু সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বে থাকা একজন নন। তিনি আপনার জীবনসঙ্গী, আপনার শান্তির ঠিকানা, আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কাছে অর্পিত একটি আমানত।
যে নারী নিজের পরিবার ছেড়ে আপনার ওপর ভরসা করে নতুন জীবনে আসে, তার চোখের জলকে কখনো তুচ্ছ ভাববেন না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ পরিবারের সঙ্গে সবচেয়ে সুন্দর আচরণ করতেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু মসজিদে নয়, ঘরের ভেতরের ব্যবহারেও প্রকাশ পায়।
অনেক স্ত্রী দিনের পর দিন মুখে হাসি রাখেন, কিন্তু বুকের ভেতর অসংখ্য কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। তারা ঝগড়া করতে চান না বলে চুপ থাকেন। কিন্তু নীরবতা মানেই সুখ নয়। অনেক সময় সবচেয়ে গভীর কান্নার কোনো শব্দ থাকে না।
মনে রাখবেন, কাউকে কাঁদিয়ে জিতে যাওয়া কোনো বিজয় নয়। নিজের ঘরের মানুষকে ভেঙে দিয়ে কখনো প্রকৃত শান্তি পাওয়া যায় না।
রূঢ় ভাষা, অপমান, অবহেলা, তুলনা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য—এসব ধীরে ধীরে একটি সম্পর্ককে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। আর ভালোবাসা, সম্মান, ধৈর্য, ক্ষমা এবং সুন্দর ব্যবহার সেই ভাঙা সম্পর্কেও নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে।
কিয়ামতের দিন শুধু নামাজ, রোজা বা দান-সদকার হিসাবই হবে না; মানুষের হকেরও হিসাব হবে। তাই স্ত্রীর প্রতি করা অন্যায়, কষ্ট বা অবহেলাকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
একজন ভালো স্বামী সেই ব্যক্তি নন, যাকে বাইরের মানুষ ভদ্র বলে। প্রকৃত ভালো মানুষ তিনি, যার স্ত্রী তার উপস্থিতিতে নিরাপদ বোধ করেন, যার ঘরে সম্মান আছে, যার কথায় শান্তি আছে।
আজ একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—
আমার স্ত্রী কি আমার পাশে থেকে সম্মান অনুভব করেন?
তিনি কি আমার কাছে নিজের কষ্ট নির্ভয়ে বলতে পারেন?
আমার আচরণ কি তাকে আল্লাহর নিয়ামত মনে করায়, নাকি একাকীত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়?
যদি কোথাও ভুল হয়ে থাকে, আজই বদলে যান। কারণ ক্ষমা চাইতে ছোট হতে হয় না, বরং সেটিই একজন সত্যিকারের মুমিনের সৌন্দর্য।