12/03/2025
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
অর্থ: "আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের সব আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য, আর আমি নিজে এর প্রতিদান দেব।"
(সহিহ বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় রোজার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নিজ হাতে দেবেন, যা তাঁর সীমাহীন দয়ার পরিচায়ক।
কোরআনে রোজার নির্দেশনা:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ: "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
(সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজা শুধু শারীরিক কষ্টের জন্য নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম।
রোজার বিশেষ পুরস্কার:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন:
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ
অর্থ: "জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম 'আর-রাইয়ান', কিয়ামতের দিন সেখান দিয়ে শুধু রোজাদাররা প্রবেশ করবে, অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।"
(সহিহ বুখারি: ১৮৯৬, সহিহ মুসলিম: ১১৫২)
এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, রোজাদারদের জন্য আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন।
উপসংহার:
রোজা শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা এর জন্য বিশেষ প্রতিদান দেবেন, যা কল্পনাতীত ও মহামূল্যবান। তাই আমাদের উচিত রমজানের রোজাগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।