09/10/2025
ইদানিং মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে তরুণ শিক্ষকরা কেন ব্যবসায় নামছে?
কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি একের পর এক তরুণ, শিক্ষিত, পরিশ্রমী মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। কেউ অনলাইন ব্যবসায় নামছেন, কেউ আবার ভিন্ন কিছু করছেন। অনেকে ভাবেন, হয়তো তারা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা একদমই তা নয়।
অনেকের সাথে কথা বলে যা বোঝা যায় এই সিদ্ধান্তটা অনেকটা বাধ্য হয়েই সবাই নেয়।
বেতনের বাস্তবতা।
আমাদের দেশের অধিকাংশ মাদ্রাসায় একজন উস্তাদের মাসিক বেতন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা হয় । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই টাকায় একজন শিক্ষক পরিবার চালাবেন কীভাবে?
চাল-ডাল, গ্যাস, বিদ্যুৎ,ওষুধ ,সবকিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া। এরকম সময়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালানো মানেই প্রতিদিন নতুন করে চিন্তার বোঝা কাঁধে তোলা।
তার উপর অনেক মাদ্রাসায় আবার মাস শেষে বেতন সময়মতো দেয় না। দুই-তিন মাস বকেয়া থাকে। অথচ মাদ্রাসার মুহতামিম সাহেবরা ঠিকই দামী গাড়িতে উঠানামা করেন, প্রভাবশালী মহলে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু উস্তাদের প্রাপ্য টাকাটা তাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না।
#ছুটির সীমাবদ্ধতা
আরেকটি বড় কষ্টের জায়গা হলো ছুটি।
অনেক মাদ্রাসায় প্রতি দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ছোট্ট একটা ছুটি থাকে। কেউ অসুস্থ হলেও, পারিবারিক সমস্যা হলেও সহজে ছুটি পাওয়া যায় না। যেন শিক্ষক মানুষ নয়, যন্ত্র। আবার অনেক মাদ্রাসায় এরকম আছে যে শিক্ষকরা মাদ্রাসার আশেপাশে বাসাও নিতে পারবে না,অলটাইম মাদ্রাসাতেই থাকতে হবে।
উস্তাদদের মূল্যায়নের অভাব।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টা এখানে।
একজন ছাত্রকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যতটা সম্মান, যতটা গুরুত্ব দেয়, একজন উস্তাদকে তার অর্ধেকটাও দেয় না। এর কারণ হলো মুহতামিম সাহেব সফল ব্যবসায়ী, সাধারণ শিক্ষক কর্মচারী অর্থাৎ সেলার, আর ছাত্ররা ও গার্ডিয়ান হল কাস্টমার।
অনেক সময় ছাত্র বা গার্ডিয়ানের সামনে উস্তাদকে অপমান করা হয়, হেয় করা হয়। যাদের হাত ধরে একটি প্রজন্ম ইসলাম শেখে, সেই মানুষগুলোকেই অসম্মান করা হয় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে।
ফলাফল হিসেবে উস্তাদরা মন ভেঙে ফেলছেন, আত্মসম্মান হারাচ্ছেন, তারপর ভাবছেন, এই জীবনে অন্তত নিজের পরিবারটা তো একটু স্বস্তিতে রাখি।
এভাবেই