23/07/2025
একটি বিমান দুর্ঘটনা! তারিখ ২১ জুলাই ২০২৫! যতবার ভাবছি চোখ ভিজে যাচ্ছে! স্ক্রল করলেই শুধু মৃত্যু আর মৃত্য! কোথায় যেন যন্ত্রনায় মুচরে যাচ্ছে! দেখাবার কিছু নেই, শুধুই সয়ে যেতে হবে! কতগুলো শিশুর প্রান ঝরলো আমরা নিশ্চিত নই! আমরা জাতি হিসাবে স্মৃতি শক্তিতে দুর্বল! পরের বছর হয়তো আমাদের বিভিন্ন পত্রিকা মারফত এই দিনটার কথা মনে করতে হবে! কারণটা সহজ, আমার তো কিছু হয়নি! কিছুদিন সবাই অনেক হতাশ থাকবো! এই দলের দোষ দেবো,পাইলটের দোষ দেবো, সিষ্টেমের দোষ দেবো আর বিমান নিয়ে তো একদম অমুলক কিছু ভাবছে না সবাই- যেমন: লোকালয়ে কেন উড্ডয়নের অনুমতি দেয়া হলো। আবার চলছে প্রযুক্তিগত বিশ্লষন- প্রথমত চায়না, বেশিদিন যায়না! দ্বীতিয়ত অনেক পুরোন প্রযুক্তি! তৃতীয়ত যারা বিমানটি চেক করে উড্ডয়নের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছিল তাদের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আমাদের আমজনতার একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে আপনারা যারা দেশের রাজনীতিবিদ, হর্তা কর্তা, নীতিনির্ধারক, চিন্তাবিদ, স্থপতি, নগরবীদ ভবিষ্যত ক্ষমতার স্বপ্ন দ্যাখেন তারা এই দুর্ঘটনার আগে কি একবারও ভেবেছিলেন এমন কিছু ঘটতে পারে! পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বিমান দুর্ঘটনা দেখেও না ভাবলে আপনারা আসলেও কি উপরে উল্লেখিত পদ এর শব্দগুলোর যোগ্য মানুষ হবার যোগ্যতা বহন করেন!
আপনারা কি এখনো ভাবেন গত বছর গুলোর উদাহরনে বাংলাদেশে যে কোনও জাতীয় দুর্ঘটনা ধারাবাহিক হবার সম্ভাবনা প্রবল! সম্ভবত এই দেশের ঠিকুজিটাই এমন! বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রান কেন্দ্রে আরোও একটি বিমান বন্দর রয়েছে, যেটা ফার্মগেটের পাশে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে হাটার দুরত্বে, নগরীর ব্যাস্ততম সড়ক গুলো( ফার্মগেট-গুলশান, মিরপুর-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-গুলশান,উত্তরা) এই বিমান বন্দরের পাশ দিয়েই গ্যাছে। এই বিমান বন্দরের রানওয়ে সক্রিয় এবং এর রানওয়ের কয়েকফূটের (দৃশ্যত) মধ্যেই টাইটানিক স্পিডবোট থেকে শুরু করে, বিমান যাদুঘর সহ বাচ্চাদের স্কুল, বেসরকারী হাসপাতাল, হোটেল, পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্র,সবই বিদ্যমান! বিমান বন্দরের আশে পাশে সম্ভবত নগরীর সবথেকে বড় জনবহুল এলাকা বিদ্যমান। এই বিমান বন্দর থেকে হেলিকপ্টার সহ সম্ভবত যাদুঘরে রাখা(পুরনো!) বিমান গুলোরই মাঝে মধ্যে টেষ্ট রান হয় বলে আমার ধারনা! এমন ধারনার কারন এখান থেকে উড্ডয়ন করা বিমানের পুরোন এবং জরাজির্ন চেহারা(দূর থেকে দেখা)! বিমান বন্দরের প্রাচিরের পাশের রাস্তা পেরুলেই রয়েছে স্কুল, মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশের সবথেকে বড় আইসিটি মার্কেট! আবার বলতে ভুলেই গ্যাছি এই বিমান বন্দরের সন্নিকটে সুউচ্চ আইডীবি ভবন সহ সরকারের বড় বড় কর্মকর্তাদের অফিসপাড়া, মন্ত্রনালয় এবং আরো বড় বড় সুউচ্চ সরকারী আবাসস্থল রয়েছে!
এরা যেহেতু আছে তাহলে তো আমরা নিশ্চিন্ত! এরা এগুলো তৈরি করার সময় তো ভেবেছে! তাই মনে হয় আমরা সবাই নিশ্চিন্তে দাত কেলিয়ে হাসি, নিশ্চিন্তে ঘুমাই কারন আমাদের দেখার জন্য নেতা, উপদেষ্টা এবং আমাদের নিয়ে ভাবার জন্য সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তারা তো আছেই! ওরা মারা গ্যালে ওদের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ইত্যাদি উপাধি দেয়া হবে আর আমরা মরলে, দ্যাশের জনসংখ্যা কমবে! খাওয়ার মুখ কমবে! এর বেশি কিছু না!