25/07/2025
প্রশ্ন:
ফেসবুক মনিটাইজেশনের মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যেই অর্থ দেয় (যেমন রিলস, ভিডিও, স্টার, অ্যাড ব্রেক ইত্যাদির মাধ্যমে), সেই টাকা গ্রহণ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ আছে কি না?
- উত্তর :
হ্যাঁ, ফেসবুক মনিটাইজেশনের টাকা গ্রহণ করা শরীয়তসম্মত ও জায়েজ, শর্তসাপেক্ষে।
---
কারণ ও ব্যাখ্যা:
১. মূল উপার্জনের মাধ্যম – বিজ্ঞাপন বা অ্যাড রেভিনিউ:
ফেসবুক আপনাকে আপনার কনটেন্টে বিজ্ঞাপন দেখানোর অনুমতি দিয়ে, সেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে আয় করে তার একটি অংশ আপনাকে দেয়। এটি এক ধরনের মুআমালাত (লেনদেন) যার নাম “ইজারা বা পারিশ্রমিক ভিত্তিক চুক্তি”।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ:
ইসলামে এমন চুক্তির মাধ্যমে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ, যদি:
কাজটি হালাল হয়,
মাধ্যমটি গুনাহের উপকরণ না হয়।
---
২. শর্ত: আপনার কনটেন্ট হালাল হতে হবে
যেমন:
ইসলামি দাওয়াহ,
শিক্ষা,
তথ্যবহুল ভিডিও,
মজার বা বিনোদনমূলক (যদি গুনাহ না থাকে),
শিশুদের উপযোগী কনটেন্ট,
ব্যবসায়িক বা সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিও ইত্যাদি।
যদি আপনার ভিডিও বা পোস্টে গান, অশ্লীলতা, নারী প্রদর্শন, গিবত, কুফরি কথা, মিথ্যা প্রচারণা ইত্যাদি থাকে, তাহলে উপার্জন হারাম হবে।
---
৩. ফেসবুকের নিজস্ব আয়সূত্র হালাল নয় — তাহলে আমার উপার্জন কি হারাম হবে?
না, আপনি সরাসরি হারাম কাজ না করলে, তাদের ব্যবসায়ে হারাম উপাদান থাকা আপনার দায় হবে না।
যেমন: কেউ আপনাকে পারিশ্রমিক দেয়, সে টাকা কোথা থেকে পেল সেটা আপনি জানেন না — এটা আপনার জন্য সমস্যা নয়, যদি আপনার কাজ হালাল হয়।
---
ফতোয়া ও আলেমদের মতামত:
1. দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত):
> হালাল কনটেন্ট তৈরি করে মনিটাইজেশন থেকে ইনকাম করা জায়েজ, যদি তাতে শরীয়ত বিরোধী কিছু না থাকে।
2. জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়া, বেনোরী টাউন (পাকিস্তান):
> ফেসবুক-ইউটিউব ইনকাম তখনই বৈধ হবে, যখন কনটেন্ট হবে শরিয়তসম্মত এবং নিজে গুনাহের কোনো মাধ্যম হবেন না।
3. শায়খ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ (islamqa.info):
> অনলাইন ইনকামে মূলনীতি হলো, যদি উপস্থাপন করা জিনিস হালাল হয় এবং হারাম কাজে সহায়তা না করে, তাহলে উপার্জনও হালাল হবে।
﴿وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا﴾
"তোমরা আল্লাহর দেয়া হালাল ও পবিত্র রিযিক আহার করো" — [সূরা আন-নাহল: ১১৪]
ফতোয়া সংগৃহীত