17/01/2026
কেমন বৈদ্যুতিক চুলা কিনবেন, কোনটিতে কী সুবিধা?
বর্তমান সময়ে গ্যাসের দাম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অনেকেই বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন। প্রধান দুটি বিকল্প হলো ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা। বাইরের দিকে দেখতে এরা এক রকম মনে হলেও, কাজের ধরন, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং রান্নার সুবিধায় রয়েছে বড় পার্থক্য।
ইন্ডাকশন চুলা চুম্বকীয় প্রযুক্তিতে কাজ করে। চুলার ওপর রাখা হাঁড়ি বা কড়াইয়ের তলায় সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়, ফলে চুলা নিজে গরম হয় না। রান্না খুব দ্রুত হয়, বিদ্যুৎ খরচ কম এবং চুলার কাচও নিরাপদভাবে ঠান্ডা থাকে। তবে সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল এতে ব্যবহার করা যায় না, লোহার বা ম্যাগনেটযুক্ত পাত্র প্রয়োজন হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলা তাপ রশ্মির মাধ্যমে কাজ করে। এতে যে কোনো ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায়, বিদ্যুৎ ওঠানামা হলেও রান্না স্থিতিশীল থাকে। তবে এটি ইন্ডাকশনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, চুলার কাচ গরম হয় এবং রান্নাঘরও বেশি গরম থাকে।
দক্ষতার দিক থেকে ইন্ডাকশন চুলা প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ শক্তি ব্যবহার করে, যেখানে ইনফ্রারেড চুলা প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ। রান্নার নিয়ন্ত্রণও ইন্ডাকশনে নিখুঁত, দ্রুত গরম হয় এবং চুলা বন্ধ করলেই তাপ বন্ধ হয়। নিরাপত্তার দিক থেকেও ইন্ডাকশন বেশি নিরাপদ, কারণ পাত্র না রাখলে এটি গরমই হয় না।
মোটকথা, যদি আপনি দ্রুত রান্না, কম বিদ্যুৎ খরচ এবং নিরাপত্তা চান, ইন্ডাকশন চুলা সবচেয়ে ভালো। আর যদি পুরনো সব বাসন ব্যবহার করতে চান এবং রান্নার ধরন গ্যাসের মতো রাখতে চান, ইনফ্রারেড চুলা সুবিধাজনক হবে।