25/03/2026
হাদী ভাইয়ের হ*ত্যাকারী ফয়সালকে আজকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিল- ওসমান হাদীকে কে খু*ন করিয়েছে?
ফয়সাল উত্তর দিয়েছে- জামায়াত- বিএনপির চাল এটা।
এরপর তাকে আরেকবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে- তারা কারা, নাম বলুন?
সে উত্তর দিয়েছে- জামায়াত করাতে পারে এটা।
সাথে বলেছে- আপনারা যে এত হাদী হাদী করছেন হাদী তো জঙ্গী ছিল।
সাংবাদিকরা এবারে তাকে জিজ্ঞেস করেছে- জামায়াতের কে নাম বলুন তাহলে?
ফয়সাল কারও নাম বলতে পারেনি শুধু বারবার জামায়াতের কাজ, জামায়াত করাতে পারে এসবই বলছিল। মনে হচ্ছিল তাকে যেন কেউ এই নামটা বারবার বলতে শিখিয়ে দিয়েছে, ট্রেনিং দিয়ে এনেছে।
একটু পর ফয়সালকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয়েছে - সবাই তো বলছে আপনি খু*ন করেছেন, স্পষ্ট প্রমাণও আছে, তাহলে?
ফয়সাল এবারে দায়সারা ভাবে উত্তর দিয়েছে - আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
এর পাল্টা জবাবে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে - তাহলে আপনি সেদিন তড়িঘড়ি করে পালালেন কেন? আপনার উদ্দেশ্য কি ছিল তাহলে?
ফয়সাল এবারে আর কিছু বলতে পারেনি। তাকে যখন গাড়িতে করে নেয়া হচ্ছিল তখনও সাংবাদিকরা বারবার জিজ্ঞেস করছিল - ফয়সাল জামায়াতের কে জড়িত, কে করিয়েছে? নাম বলুন।
ফয়সাল কোন উত্তর দিতে পারেনি। সাংবাদিকরাও যেন জামায়াতের নামটাই বারবার হাইলাইট করে জিজ্ঞেস করছিল।
তাছাড়া কলকাতা পুলিশ ফয়সালকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। কিন্তু জনসম্মুখে আনার পর মনেই হয়নি যে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল বেশ ভালো ব্যাকআপেই ছিল এতদিন।
ফয়সালের সহযোগী আলমগীরকে আদালতে তোলার একপর্যায়ে সে পকেটে হাত দিয়ে ভাবসাব নিয়ে হাঁটছিল। তাছাড়া এত বড় আসামি অথচ তাদেরকে হ্যান্ডকাফ পর্যন্ত পড়ায়নি কলকাতা পুলিশ।
১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে কলকাতা পুলিশ ফয়সালকে ওসমান হাদী হ*ত্যাকান্ডের ব্যাপারে প্রচুর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, নিজেদের মত করে জনসম্মুখে এনেছে।
অথচ ভারতীয় পুলিশের এখতিয়ার নাই ওরা বাংলাদেশের কোন খু*নীকে হ*ত্যাকান্ডের ব্যাপারে রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
ভারতীয় পুলিশ সর্বোচ্চ পারে- ফয়সাল কিভাবে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তার পাসপোর্ট নেই কেন, কারা ভারতে ঢুকিয়েছে এগুলো জিজ্ঞেস করতে।
খু*নের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বাংলাদেশ পুলিশের আর ভারতীয় পুলিশের কাজ হচ্ছে তাকে কিভাবে তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে ফিরানো যায় সেই ব্যবস্থা করা।
কিন্তু ভারতীয় পুলিশ সেটা না করে হাদী হ*ত্যাকান্ডের ভার মনে হচ্ছে নিজেরাই নিজেদের হাতেই তুলে নিয়েছে। এমনকি জেলে নিয়ে আরেকবার রিমান্ড দেয়ার রায়ও হয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী এমনটা হওয়ার কথা না।
ফয়সালকে জনসম্মুখে আনার পর আজকে দুইটা জিনিস ফয়সালের মাধ্যমে হাইলাইট করানো হয়েছে। ১. খুনটা জামায়াত করাতে পারে। ২. হাদী জঙ্গি ছিল তাই তাকে মেরে ফেলা জায়েজ ছিল।
ফয়সালকে বহুদিন পর জনসম্মুখে আনা হয়েছে তারপর এ দুটো ব্যাপার হাইলাইট করে আবারও জেলে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ফয়সালকে দিয়ে বেশ সফলভাবেই স্বার্থ হাসিল করিয়ে নেয়া হয়েছে।
এই কাজটা ভারত সবসময় চায়। তারা চায় বাংলাদেশে কেউ জনগণের ভালোবাসা অর্জন করে ফেললে, ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে জঙ্গি কিংবা জামায়াত ট্যাগ দেয়া।
এই কাজটাই আজকে ওরা স্ক্রিপটিং করে ফয়সালের মাধ্যমে করিয়ছে। কারণ ফয়সাল এখন ওদের কাছে দাবার গুটির মতোই, যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারতের কাজ ছিল ফয়সালকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে আইনের হাতে তুলে দেয়া। কিন্তু তারা সেটা না করে ফয়সালকে জেলে নিয়ে আরেকবার রিমান্ড দিয়েছে।
ভারত এখন এত সহজে ফয়সালকে ফেরত দিবে না কারণ তারা ফয়সালের মাধ্যমে আগে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটা হাসিল করে নিবে, পেছনের মাস্টারমাইন্ড নেতাগুলোকে বাঁচাবে।
তারপর সবশেষে ফয়সালের প্রয়োজন শেষ হলে তাকে নষ্ট টিস্যুর মতোই ছুঁড়ে ফেলে দিবে