22/10/2025
মুখ কালচে, কিন্তু বডি সাদা। আপনাদের কেউ কেউ ও তো এর ভুক্তভুগি, তাই না!
কিন্তু একই শরীরে তো একই রক্ত, একই স্কিন।তাহলে এক অংশে বেশি ফর্সা আর অন্য অংশে কম কিভাবে হয়? সারামাস ভেবেও যেন অংক মিলেনা।
এবারে যদি মিলিয়ে দিই ?
তো চলুন এক শরীরে এত রঙের পার্থক্য কেন তা ছোট্ট করে দেখি
আমাদের সবার শরীরেই একরকম রঙ না, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন খেয়াল করেছেন-
👉 মুখটা তুলনামূলকভাবে বেশি ট্যানড।
👉 হাতের পেছনের দিকটা কালচে।
👉 আবার বাহু বা হাতের ভিতরের দিক হালকা।👉 আর শরীরের ঢেকে থাকা অংশগুলো একেবারে উজ্জ্বল।
👉 কিন্তু কনুই, হাটু, বিকিনি এরিয়া ঢাকা হলেও ডার্ক হয়।
এমনটা কেন ভেবেই কুল পাননা?
একজন মানুষের শরীরেও কিভাবে একসাথে এতগুলো শেড থাকতে পারে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খায়?
☀️ আসলে এর পেছনে কাজ করছে Melanin (মেলানিন)যা হচ্ছে ত্বকের ভেতরের এক বিশেষ পিগমেন্ট, যেটা সূর্যের আলোর প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়। এই মেলানিনই আবার ত্বককে রোদের ক্ষতি (UV rays) থেকে রক্ষা করে। যত বেশি সূর্যের আলোতে থাকবেন, তত বেশি মেলানিন তৈরি হবে আর ততই ত্বক ডার্ক দেখাবে।
কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন দাড়ায়! একই শরীরে কিভাবে আলাদা আলাদা মেলানিন উৎপাদন হয়?
এখানেই মজাটা!
ত্বকের সব জায়গায় মেলানোসাইট (melanocyte) নামের কোষ থাকে, যেগুলো মেলানিন তৈরি করে। কিন্তু এই কোষগুলো সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করে না।
এর কারণ👩🏾👨🏾
UV exposure- মুখ, ঘাড়, হাতের পেছন দিক প্রায়ই রোদে থাকে ও এখানে মেলানোসাইট বেশি সক্রিয় এবং বেশি মেলানিন তৈরি হয়। কিন্তু বাহু, পেট বা পিঠ ঢাকা থাকে তাই কম UV মানে কম মেলানিন।
আমাদের শরীরের কোষগুলো হরমোন, ঘর্ষণ, তাপ, এবং এমনকি ইনফ্ল্যামেশন (যেমন ব্রণ বা র্যাশ) এর প্রতিক্রিয়াতেও আলাদা ভাবে মেলানিন উৎপাদন করে ও পরে গিয়ে ডার্ক হয়।
হাঁটু, কনুই, গোঁড়ালির মতো অংশে স্কিন বেশি ঘষা খায়, তাই কোষগুলো সেলফ প্রোটেকশন হিসেবে বেশি মেলানিন দেয় আর তখনই সেই অংশ ডার্কার হয়।
শরীরের কিছু অংশে রক্ত চলাচল ও অক্সিজেন লেভেল তুলনামূলক কম, তাই রঙও একটু ভিন্ন দেখায়।
অর্থাৎ, আমাদের শরীরের প্রতিটা অংশ নিজস্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করে, যেখানে সূর্য, তাপ, ঘর্ষণ বা চাপ বেশি, সেখানে মেলানিন প্রোডাকশনও বেশি হয়। তাই শরীরের এক অংশ গাঢ়, আরেক অংশ হালকা।
এটা কিন্তু কোনো ত্রুটি না, এটা শরীরের বুদ্ধিমত্তা ও natural defense system মানে ত্বক নিজেকে রক্ষা করার জন্যই একেক অংশে আলাদা পরিমাণ মেলানিন তৈরি করে। তাই স্কিন টোনের পার্থক্য মানে অসমান beauty না বরং এটা বোঝায়, ত্বক বুদ্ধিমানের মতো কাজ করছে ✨
সেজন্য এতে লো বা স্ট্রেসড আউট হবার দরকার নেই।
তবে যত্ন নিতে চাইলে টোন ইভেন রাখার কিছু অভ্যাস মানতে পারেন। যেমন,
১. প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার।
২. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার।
৩. ভিটামিন সি সিরাম বা antioxidents ব্যবহার।
৪. সপ্তাহে ১-২ বার জেন্টল এক্সফোলিয়েশন ব্যবহার।
শেষ কথা আমাদের শরীরের প্রতিটা শেড একটা আলাদা গল্প বলে। মুখ একটু ট্যানড, বাহু হালকা, পেট উজ্জ্বল ....এগুলোই আমাদের স্কিনের নিজস্ব রঙের ভাষা। প্রতিটা অংশ আলাদা, তবুও একসাথে আমরা কিন্তু অনন্য ও Klassy 🕊️