06/04/2020
#করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ ধারন করতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমার কিছু মতামত প্রধান মন্ত্রী বরাবর তুলে ধরছি, জানি পৌছাবে না।
#মোঃ আবু হানিফ
#লেখাটি ভালো লাগলে সবাই কপি শেয়ার করতে পারেন, ভুল হলেও জানাবেন।
♦প্রথমতো আসি সোশ্যাল ট্রান্সমিশন নিয়ে। আমাদের দেশের জনগণ বিষয়টা নিয়ে খুবই অবহেলা করে। আধিকাংশই বোঝে না। এমনও অনেকে আছেন যাদের হাজার বললেও কাজ হবে না। এইতো সেনাবাহিনী নামানো হলো, তো কি হলো, সবাই ভির জমিয়ে দেখছে সেনাবাহিনী কি করে, এই হল আবস্থা।
♦এরপর আসি গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে। একবার বন্ধ দেয়া হল, সবাই বাড়ি গেল, এরপর আবার খোলা, পরিবহন বন্ধ, তাই পায়ে হেটে, গাদাগাদি করে সবাই কর্মস্থলে আসল। সোশ্যাল ডিস্টেন্সের বারোটা বাজলো। কর্তা ব্যক্তিদের বুঝা উচিত আগে নিজে বাচতে হবে তারপর আপনার ব্যবসা।
♦দেশের অনেক নিম্ন শ্রেণির মানুষ রয়েছে। তাদের আয় বন্ধ। ঘরে চুলাও বন্ধ। মধ্যবিত্ত এমন হাজারও পরিবার আছে যাদের পরিবার ঘর ভাড়া, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, দৈনিন্দ সংস্কার চলে সামান্যা আয়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থা করুণ। আনেকের ঘরে খাবার নেই। কিন্তু লজ্জায় কারো কাছে বলতেও পারছে না। তাদের অবস্থা কি হবে?
♦এভাবে বলার মত আরো অনেক বিষয় রয়েছে। বলে শেষ করা ঙাবে না। সব কথার মুল বিষয় হয় ম্নুষ পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে। আবার বের হয়ে লাঠি পেঠাও খাচ্ছে এখন আবার জরিমানাও গুণতে হবে।
♦এতো কিছুর পরও একটাই বিষয় পুরো দেশে এক যোগে লক ডাউন করা জরুরী। যত দেরি হবে ততই বিপদ বারবে। তার আগে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে।
♦দেশের ধনী গরীব সকলের খাবর নিশ্চত করতে হবে ১মাসের। তারপর ১মাসের জন্য লক ডাউন। চিকিৎসা সেবা বাদে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না।
যদি আমরা ধরি দেশের মোট জন সংখ্যা ১৮ কোটি। তবে কি ১৮কোটি জনগণের খাবার সরকারের পক্ষে ১মাসের জন্য দেয়া সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। কিভাবে আসুন দেখিঃ
সরকার একটি প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে তা আমরা জানি। যদিও সেটা ভিন্ন খাতের। সরকারের প্রনোদনা ৭২,৭৫০ কোটি টাকা যদি ১৮ কোটি জনগনের মাঝে সমান ভাগে ভাগ করে বন্টন করা হয় তাহলে জনপ্রতি পাওয়ার কথা ৪০৪১.৬৬ টাকা।
এখন দেখা যাক জনগন কত পায় ?
্যা! আরেকটা হিসেব করা যাক!
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ।
ধন্যবাদ মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের মোট ১৮ কোটি জনগন।
প্রতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা গড়ে তিনজন ধরা হলেও দেশে মোট পরিবারের সংখ্যা
(১৮÷৩)=৬ কোটি।
প্রত্যেক পরিবারের ১ মাসের খোরাক........
৫০ কেজি চাল = ১৫০০ টাকা
৫ কেজি ডাল = ৩০০ টাকা
২.৫কেজি তেল= ২০০ টাকা
১০ কেজি আলু= ২০০ টাকা
৩ কেজি পিয়াজ= ১০০ টাকা
নগদ-প্রদান
(সবজির জন্য)= ৭০০ টাকা
___________________________
সর্বমোট = ৩০০০ টাকা
৬ কোটি পরিবার x ৩০০০ টাকা= ১৮,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে।
রয়ে যাবে আরো ৫৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা যা দিয়ে অন্য সেক্টর গুলো সামলানো যাবে।
প্রত্যেক পরিবারের ১ মাসের খোরাক দিয়ে সমস্ত বাংলাদেশ ৩০ দিনের জন্য লক ডাউন করে দেন।
♦তাছাড়া প্রত্যেক পরিবারকে চিকিৎসা খরচও দেয়া যাবে ৫০০/১০০০ করে ১মাসের জন্য। এমনটা হলে একটা মানুষও ঘর থেকে বের হবে না বা তাদের গৃহবন্দী রাখা সহজ হবে।
⛔এখন প্রশ্ন হলো সব পরিবারেরই কি এই সহযোগীতার প্রয়োজন হবে? না হবে না, বরং প্রচুর অর্থ বাঁচবে সরকারের, তাই ভয় নেই।
☎মোবাইল কোম্পানি গুলো কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। ১মাসের জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া যেতে পারে যে মোবাইল কল রেট না কাটার জন্য। তাতে জরুরী যোগাযোগব্যবস্থাটাও ঠিক থাকবে। কোম্পানি গুলো থেকে অনুদান না নিয়ে সেটাই করলে ভালো হবে।
♦চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সকলের জন্য অতিরিক্ত পিপিইও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
♦ক্লিনিক হাসতাপাল ওষধের দোকান ব্যতিত সব বন্ধ করে দিতে হবে। ফার্মেসী গুলোতে যাতে নিয়মিত ঔষধ পৌছে যায় সে ব্যাবস্থা করতে হবে।
♦এমন আরো কিছু বিষয় আছে যেগুলোতে সরকারকে কঠোর হতে হবে।
🌐কোন পাতি নেতাকে এই দায়িত্ব না দিয়ে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড, RAB সবাইকে কাজে লাগান ত্রাণ বিতরণে ও লক ডাউনে। ইতো মধ্যে অনেক নেতা ধরা খেয়েছে যার ফলে সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। জাতির এমন ক্রান্তি লগ্নে এভাবে রাজাকার সাজা মানায় না।
৩০ দিন বাংলাদেশকে গৃহবন্দি রাখেন দেশকে ৩০ বছর পিছিয়ে পড়া থেকে বাঁচান।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, দেশের জনগণ বাঁচলে তাদের নিয়ে আবার দেশ গঠনের কাজে ঝাপিয়ে পড়তে পারবেন। সরকারি কর্মকর্তারাও ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হতে শুরু করেছে। দুদুকের কর্মকর্তাই তা প্রমাণ করে। পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে। তাই এই পদক্ষেপ গুলো নিয়ে দেশকে একমাসের জন্য বন্ধী রাখুন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মহামারি থেকে হেফাজত করুণ।