23/02/2017
গল্পের নামঃ ভয়
লেখাঃ Shakhawat Shohag (নিশিমানব)
//
দরজায় ঠক ঠক শুনে মেজাজ টা প্রচন্ড খারাপ হলো! একা থাকি আমি! তুলি থাকতে কখনো মেজাজ খারাপ হতোনা! রাগ হতোনা, মন খারাপ হতোনা! তুলি আমার বৌ! পুরো ঘর টা, পুরো সংসার টা ওর হাতে ছিলো! সবকিছু সামলে রাখতো, আমার ভালো লাগা, খারাপ লাগা টাও! আজকাল বড্ড মেজাজ খারাপ করছি, কারনে অকারনে! এখন যে দরজায় ঠক ঠক হচ্ছে, প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হলো! তবে এখন অকারনে নয়! সময় দেখলাম, রাত তিন টা বেজে পনেরো মিনিট! মেজাজ খারাপ হওয়ারই কথা! এতো রাতে দরজায় ঠক ঠক করলে প্রথমবার দরজা খুলতে নিষেধ রয়েছে বাবার, কেন তা খোলাসা করে বলেনি! তবে ব্যাপার টায় যে মারাত্মক ভয় জড়িয়ে আছে সেটা বুঝতে পেরেছি! আমার বাবা ভয়ংকর ভীতু! তার আদেশ উপদেশ নিষেধ এর মধ্যে ভয় ব্যাপার টা কোনো না কোনো ভাবে জড়িয়ে থাকে! বাবা বাবার অজান্তেই কিছুটা ভয় আমার মধ্যেও ঢুকিয়ে দিয়েছে! এই যে এখন দরজায় ঠকঠক করছে, মেজাজ খারাপের পাশাপাশি আমার একটু একটু ভয় ও লাগছে! একটু কেশে গলা পরিষ্কার করে বললাম,
-- কে?
বাইরে থেকে আমার থেকেও ভীতু একটা গলার স্বর শোনা গেলো,
-- ওরে আমি কমল! দরজা টা খুল!
তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুললাম। ভয় চলে গেলো, ও আমার থেকেও বেশি ভীতু! কমল আমার বন্ধু! ভয়ে কুঁকড়ে আছে! কয়েকদিন ধরে ও কে ফোনে পাচ্ছিনা! বাসায় খোঁজ নেওয়া হয়নি আর! কিন্তু রাত তিন টেয় ও আমার বাসায় কেন? দরজা খোলার সাথে সাথে হুমড়ি খেয়ে পড়লো, তারপর উঠে বিছানায় বসলো! পানি চাইলো, পানি এনে দিলাম। ওর চেহারায় ভয়ের চাপ! কেন ভয় পাচ্ছে ও...! পাশে বসলাম আমি। কমল সম্পর্কে বলি... তুলি এক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার দুই মাস পর কমলের সাথে আমার রাস্তায় দেখা হয়! অদ্ভুত একটা মানুষ! আমি রাস্তার পাশের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে সিগেরেট খাচ্ছিলাম, হঠাৎ একটা লোক এসে আমার হাত ধরে টেনে রাস্তার ওপাশে নিয়ে গেলো! আমি লোকটার দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি, হঠাৎ দেখি আমি একটু আগে ফুটপাথের যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম সিগেরেট হাতে, ঐ জায়গায় একটা সি এন জি উল্টে পড়লো! রাস্তা থেকে ঘুরপাক খেতে খেতে সি এন জি টা ডাইরেক্ট ফুটপাথে গিয়ে আঁচড়ে পড়লো! আমি আর একটু দেরী করলে ওখানে, আমায় চাপা দিতো ওটা! আমি এবার মানুষটির দিকে আগের থেকে দ্বিগুন আশ্চর্য এবং আগ্রহ নিয়ে তাকালাম। মানুষটি আমার হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে ভীড়ের মধ্যে চট করে হারিয়ে গেলো! তবে মানুষটির চেহারা আমি ভালো করে মনে রেখেছি, এরপর দুই তিনবার দেখা হলো নানা জায়গায়! সবসময় ভীত ভীত চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মানুষটি! যেন খুব ভয়ে ভয়ে আছে! মানুষটির সাথে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হলো! এই মানুষটিই হলো কমল! কিছু একটা আছে ওর মধ্যে, আমি কোনো বিপদে পড়ার আগে ও টের পায়, বিপদ সম্পর্কে বলে, আমায় এসে পরামর্শ দেয়! আমার অনেক কিছুই জানে ও, আমি বুঝতে পারিনা ঠিক ও কে...!
কমল এখনো হাঁপাচ্ছে! আমি পাশে বসে আছি! একটু জিরিয়ে নিলো ও! তারপর জিজ্ঞেস করলাম,
-- কিরে কি হয়েছে তোর? কেন ভয় পাচ্ছিস এতো? এতোদিন কই ছিলি?
-- দোস্ত, আমি স্বপ্ন দেখি। প্রতিরাতে একটা স্বপ্ন দেখি।
-- কি স্বপ্ন?....
গভীর রাতে প্রায়ই একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে কমল। একটা কবরস্থান, কবরস্থানের পাশের নির্জন রাস্তাটার পাশে বড় বড় গাছগুলো ঘোর অন্ধকার ধরে রেখেছে! এই অন্ধকারে একটা মেয়ে কে দেখতে পায় সে! মেয়ে টি হামাগুড়ি দিয়ে একবার রাস্তার এপাশে যায়, তারপর কমলের দিকে তাকায়, তারপর আবার রাস্তার ওপাশে যায়! স্বপ্ন টা এতটুকুই ভয়ংকর, তবে আরো ভয়ংকর লাগে কমলের! কারন, মেয়েটি প্রেগন্যান্ট...!! রাস্তায় পাঁচ ছয়বার এপাশ ওপাশ হামাগুড়ি দিয়ে কিছুক্ষণ পর মেয়ে টি কমলের সামনে এসে দাঁড়ায়! কমল চিৎকার করতে চায়, দৌড়ে পালাতে চায়! কিছুই করতে পারেনা! মেয়ে টির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়! মেয়েটির মুখ টা হালকা হালকা চেনা, মেয়ে টির মুখ দিয়ে লালা বেরুচ্ছে, নাক দিয়ে রক্ত! মেয়েটি এরপর পেটে হাত রেখে আস্তে আস্তে সামনে আসে! কমলের একদম মুখোমুখি হয়! কমল মেয়েটির নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পায়..! তারপর চট করে ঘুম ভেঙ্গে যায় কমলের! গা ঘামাচ্ছে, পানির তৃষ্ণা পেয়েছে প্রচন্ড, বড় বড় নিঃশ্বাস পেলতে পেলতে মোবাইল দেখে সে! দুই টা পঁয়তাল্লিশ বাজে। আর ঘুম আসেনা কমলের। টানা সতেরো দিন ধরে এই স্বপ্ন দেখছে সে! একিই স্বপ্ন, একিই ভয়, একিই অস্থিরতা, একিই তৃষ্ণা ও কে পাগল করে দিচ্ছে! এটা কমল আমাকে আগেও বলেছে অনেকবার! আজ এতো রাতে নতুন কি স্বপ্ন দেখলো যে ভয়ে কাঁপছে এখনো, আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-- ঐ স্বপ্ন টাই দেখছিস এখনো?
-- না। আজ, এই অদ্ভুত স্বপ্ন গুলো কেন দেখি সেটার কারন জেনেছি! আয়, তোকে একটা গল্প শোনাই! এই শহরে প্রথম আসি আমি দেড় বৎসর হলো! এই দেড় বৎসরে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন বিকেলে আমি ঘুরতে বের হইনি! ঘুরতে আমার ভীষন ভালো লাগে! এখানকার একেক টা জায়গায় আমি দশ পনেরো বার করে গিয়েছি! খারাপ লাগেনা আমার! মানুষ দেখতে আমার ভীষন ভালো লাগে। পাঁচ ছয় মাস আগের কথা! বাসে করে যাচ্ছি! আমার পাশে একটি মেয়ে বসা! মেয়েটি ভীষন খুশি! মেয়েটি ফোনে কথা বলছে কারো সাথে, কোনো একটা সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা বলছে! ফোনের ওপাশের মানুষটি কে সারপ্রাইজ দেওয়ার প্রচন্ড উত্তেজনা, আনন্দ, খুশি মেয়েটির মুখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে! মেয়েটি জানালার পাশে বসেছিলো, জানালার বাইরে তাকিয়ে! অনেকক্ষণ পর আমি খেয়াল করলাম, মেয়েটি কাঁদছে! তবে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম এই কান্না প্রচন্ড আনন্দের কান্না। প্রচন্ড খুশির কান্না! আমি অবাক হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটির চেহারার দিকে তাকিয়ে আছি! মেয়েটি অনেকক্ষণ পর আমার দিকে তাকালো, তাকিয়ে বললো,
-- আপনি আশ্চর্য হচ্ছেন?
-- কেন?
-- এই যে আমি অস্বাভাবিক আচরন করছি, এই হাসতেছি, এই কাঁদতেছি!
-- আমি অবাক হচ্ছিনা।
-- জানেন, আমি আজকে প্রচন্ড খুশি। আমার হাসবেন্ড কে ফোন করেছি, ও কে একটা প্রচন্ড খুশির সারপ্রাইজ দেবো! আমি জানি, ও জেনে ভীষন খুশি হবে।
-- আপনি মা হতে চলেছেন?
মেয়েটি অবাক চোখে তাকায় আমার দিকে! আশ্চর্য হয়ে তাকিয়েই থাকে! আমি মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-- আমি আন্দাজেই বলেছি। একটি বিবাহিত মেয়ের কাছে, তার হাসবেন্ড কে দেওয়ার এর থেকে বড় প্রচন্ডরকম খুশির সারপ্রাইজ আর নেই...!
মেয়েটি জানালার বাইরে তাকালো, বললো,
-- হুম। ঠিক ধরেছেন। তবে এই খুশির খবর টা আমি ছাড়া এখনো কেউ জানেনা! কাউকে জানাইনি। গতকাল রাতে বসে বসে চুপিচুপি একটা চিঠি লিখেছি! লিখে ওটা একটা জায়গায় লুকিয়ে রেখেছি যাতে ও খুঁজে না পায়! চিঠি তে সব কথা লিখা আছে! আগামী কাল তার জন্মদিন! আমার ইচ্ছা, জন্মদিনেই সারপ্রাইজ টা দেবো! এখন তো সন্ধ্যে, রাত বারোটার পর চিঠি টা পড়তে দেবো! ও জেনে কি যে খুশি হবে...!.....
মেয়েটি কাঁদছে! চোখে অশ্রু! আনন্দ অশ্রু! আমি তাকিয়ে আছি মেয়েটির দিকে! হঠাৎ খেয়াল হলো, সামনের স্টপেজ এ আমার নামতে হবে! সিট থেকে উঠলাম, দেখি মেয়েটাও উঠছে! ও.. মেয়েটাও তাহলে এখানে নামবে! আমি মেয়েটি কে সামনে রেখে পেছন পেছন এগুলাম বাসের দরজার দিকে! দরজায় দাঁড়িয়ে আছি, মেয়েটির শাড়ি একটু সমস্যা করছে হাঁটার সময়! মেয়েটি শাড়ি পড়তে অতোটা অভ্যস্ত নয় বোঝা যাচ্ছে! বাস তখনো আস্তে আস্তে চলছে, মেয়েটি একদম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। আমি মেয়েটির পেছনে! হঠাৎ একটা সমস্যা হলো, সমস্যা টা হলো আমার মোবাইল টা নিয়ে। হাত থেকে পিছলে পড়ে যাচ্ছিলো, নিচে পড়ার একটু আগে সময়মতো ডান হাত দিয়ে ধরে পেললাম মোবাইল টা। ততক্ষনে একটা কিছু হয়ে গিয়েছে! সামনের দরজায় দাঁড়ানো মেয়েটির পিঠে আমার ডানহাতের কনুই লেগেছে, মেয়েটি চলন্ত বাস থেকেই নিচে পড়ে গিয়েছে! বাসের পেছনের চাকা মেয়েটির পা দু'টোর উপর দিয়ে মাড়িয়ে আসলো! ততক্ষণ মেয়েটা বেঁচে ছিলো, তবে কয়েক সেকেন্ডের জন্যে! আমাদের বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা আরেক টা মিনি বাসের ড্রাইভার সামনের হঠাৎ বাসের দরজা থেকে ছিটকে পড়া মেয়েটি কে দেখে ব্রেক কষার অল্প একটু আগেই বাসের সামনের চাকা মেয়েটির মাথা টাও থেঁতলে দিয়ে যায়! আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে! এই ভয়ংকর দুর্ঘটনা যে আমার জন্যেই হয়েছে এটা স্রেফ আমিই জানি, সবাই ভেবেছে অসাবধানতার কারনেই দুর্ঘটনা! স্রেফ আমি জানি, এটা দুর্ঘটনা ছিলোনা, একটা খুন ছিলো...!....
আমি স্তব্ধ হয়ে কমলের গল্প শুনছি। কি ভয়ংকর ব্যাপার! আমার নিজেরই গলা শুকিয়ে আসছে! আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-- তারপর?
-- তারপর আমি কেমন জানি হয়ে যাই! রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করি! মেয়েটা কে রোজ রাতে স্বপ্নে দেখি। প্রথম প্রথম মেয়েটি স্বপ্নের মধ্যে কথা বলতোনা! কিছুদিন পর কথা বলতে শুরু করে! বিশ্বাস কর, এটা মোটেও স্বপ্ন নয়! একদম বাস্তব মনে হয় আমার। আমি সারারাত জেগে থাকার চেষ্টা করি, তবে দুই মিনিটের জন্যে চোখ লেগে আসলেই মেয়েটি কে দেখতে পাই! একদিন মেয়েটি বলে,
-- আমি কিছু জানাতে চাই তোমায়! তুমি আমার হয়ে কিছু কাজ করে দাও...!
এরপর থেকে আমি মেয়েটি যা বলে তাই করি! মেয়েটিই তোর সাথে আমার দেখা করায়! ঐ দিন ঐ জায়গাটায় গিয়ে তোকে রাস্তার এপাশে নিয়ে আসতে মেয়েটাই বলেছিলো! এছাড়াও তোর সম্ভাব্য বিপদ গুলোর আগাম সংকেত দিতো, পরামর্শ দিতো আমার মাধ্যমে! এসব করতে করতে তোর সাথে বন্ধুত্ব হলো আমার! তখনও আমি জানতাম না, মেয়েটি তোকে কেন হেল্প করছে...!
আমি কমলের দিকে হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছি! জিজ্ঞেস করলাম,
-- মেয়েটা আমায় কেন হেল্প করছে?
-- ওটা আমিও প্রথমে বুঝিনি। আজ সেটা জানতে পেরেছি!
-- কি?
-- মেয়েটার নাম তুলি! বাসের দরজায় যে মেয়েটি আমার হাতের ধাক্কায় নিচে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছিলো, ওটা তোর বৌ! তুলি! বুকশেলপ এর মধ্যে দেখ, তুলি কে তোর দেয়া প্রথম উপহারের সেই কবিতার বই টা খুলে দেখ! ওখানে একটা চিঠি আছে, তোর জন্যে চুপিচুপি লিখেছিলো ও! তোর জন্মদিনের সারপ্রাইজ! এই চিঠি টা পড়লেই আমি ওর থেকে মুক্তি পাবো! দোস্ত, তুই কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবি কখনো...?
আমি কমলের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার চোখে অশ্রু...! আমি উঠলাম, উঠে বুকশেলপ থেকে কবিতার বই টা বের করলাম। ও কে দেয়া আমার প্রথম উপহার। বইয়ের মধ্যে একটা চিরকুট...
-- প্রিয়, তুমি বাবা হচ্ছো! তোমায় আগে জানাইনি বলে রাগ করেছো? উহু.. রাগ করবানা একদম। বাবাদের অতো সহজে রাগ করতে নেই! জানো, আমি না আজ ভীষন খুশি। আমি জানি, তুমিও ভীষন খুশি হবে! আমি কিন্তু আমাদের বাবুর নাম ঠিক করে ফেলেছি! না থাক, ওটা তুমি চয়েস করবা! ওহ... খুশি তে সবকিছু ভুলে যাচ্ছি। হ্যাপি বার্থ ডে প্রিয়...!
চিঠি পড়তে পড়তে আমার চোখ থেকে দু'ফোটা অশ্রু চিঠির উপর পড়লো! বিছানায় তাকিয়ে দেখি কমল নেই। কখন চলে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি! আমি চিঠি হাতে জানালার ওপাশে তাকালাম..! বড্ড কাঁদতে ইচ্ছে করছে আজ...!.....
সারারাত ঘুমাইনি! সকালে চোখ লেগে এলো! মোবাইলের আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গলো! কে ফোন করেছে? ফোন রিসিভ করে ওপাশের একটা নিউজ শুনে পুরো আধাঘন্টা পর্যন্ত চুপ করে বসে থাকলাম। বিধাতা, পৃথিবীতে এতো কষ্ট কেন...???
কমল সুইসাইড করেছিলো! সুইসাইড করার কারেন্ট সময় টা আমি বিশ্বাস করিনা! রাত তিন টা বেজে পনেরো মিনিট! ঠিক ঐ সময় টায়, যে সময়টায় আমার বাসার দরজায় কেউ একজন ঠকঠক করেছিলো! আমি আজকাল একটা চিঠি বুকে জড়িয়ে সারারাত জেগে থাকি, কেন জানি মনে হয় কেউ একজন আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমোচ্ছে! একটু চোখ লেগে এলেই একটা চেহারা স্পষ্ট দেখি, একটি মায়াবী চেহারা, সদ্য মা হওয়া একটা নিষ্পাপ মায়াবী মুখ প্রচন্ড ভালোবাসায় ভরপুর....!