11/09/2020
বই: সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ১ম এবং ২য় খণ্ড।
লেখক : ডক্টর আব্দুর রহমান রাফাত পাশা।
প্রকাশনী : রাহনুমা প্রকাশনী,
বিষয় : নবী-রাসূল ও সাহাবীদের জীবনী।
পৃষ্ঠা : ৭০৪ এবং ৬৪৮
★বইটি আমাদের কেন পড়া দরকার?
ইসলামের প্রারম্ভে যারা ইসলামের পতাকা উঁচিয়ে তুলেছিলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইসলাম আজ সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত, যারা পদে পদে সয়েছেন লাঞ্চনা, দুঃখ-কষ্ট তারাই হচ্ছেন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তারাই আামাদের আমাদের পূর্বসূরি, তারাই আামাদের গর্বের বিষয়। তারাই ছিলেন ইসলামমের প্রথম সৈনিক, তারাই ছিলেন প্রকৃত ঈমানদার। যদি আমরা নিজেদের ঈমানকে পাকাপোক্ত করতে চাই তাহলে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের জীবনী জানার বিকল্প নেই। আর জানার জন্য প্রয়োজন বিশুদ্ধ দলিলভিত্তিক কোন বই। 'সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন' এমনই একটি বই।
★বইটি যেভাবে সাজানো হয়েছে।
বইটির প্রত্যেক খন্ডে ৫৪ জন সাহাবীর জীবনী দেয়া আছে। বইটি লেখক নিজের মত করে লিখেছেন। অন্যসব সীরাত বইয়ের মত গতবাধা নিয়মে লেখা হয়নি বইটি। এই বইটির রয়েছে বিশেষ কিছু বিশেষত্ব। লেখক বিভিন্ন সীরাত বই থেকে জ্ঞান অর্জন করে সাহাবীদের জীবনে ঘটে যাওয়া বিশেষ কিছু ঘটনা সাহিত্যের ভাষায় অসাধারণ মাধুর্য দিয়ে তুলে ধরেছেন, যা আমাদের ঈমানের পারদকে বাড়িয়ে তুলবে বহুগুন। লেখক একেকজন সাহাবীর জীবনী একেকভাবে, একেক জায়গা থেকে শুরু করেছন। ফলে করে সবার জীবনী একই ভাবে লেখা না থাকায় পাঠক একেক সাহাবীর জবনীতে একেক ধরনের স্বাদ পাবেন। কাহিনী গুলো বেশি বড় না হওয়ায় পাঠকের হাঁপিয়ে ওঠার সম্ভবনা নেই।
★বই সম্বন্ধে আমার মন্তব্য।
সাহাবায়ে কেরামের ঈমানদীপ্ত জীবন বইটি পড়ে আমি অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। মন চাইছিল বইটি একবারে পড়ে উঠি। কিন্তু এত বড় বই কি একবারে পড়ে উঠা যায় বলেন! আমি প্রত্যেকটি সাহাবীর জীবন কাহিনী পড়ছিলাম আর নিজের অজান্তেই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে যখন কাহিনীর শেষের দিকে মৃত্যুর কথা পড়ছিলাম তখন। বইটি পড় আমার মনে হয়েছে আমার ঈমানের পারদ বেড়ে গিয়েছে। নিজেকে সাহাবীদের অাদর্শে উজ্জীবিত করার ইচ্ছে তৈরি হয়। সর্বোপরি এটা এমন একটা বই যে বইয়ের স্বাদ অন্য কোন সীরাত বইতে পাওয়া যাবে না।
©Redwan Nabil