08/05/2026
একটি অভিযোগ উঠল, আর অমনি আমরা পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লাম। না আছে তথ্যের প্রমাণ, না আছে ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষা। শুধু দাড়ি-টুপি আর জোব্বা দেখলেই আমাদের এক শ্রেণির মানুষের কলম আর মুখ বিষ উগরে দিতে শুরু করে। অথচ দিনশেষে যখন প্রমাণ হয় ‘হুজুর নির্দোষ’, তখন সেই বিষাক্ত মুখগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
ডিএনএ রিপোর্টে নির্দোষ, কিন্তু সামাজিক ফাঁসি তো হয়ে গেছে!
ফেনীর পরশুরামের সেই ইমাম সাহেবের গল্পটা দেখুন। ধ"র্ষণের অভিযোগে জেল খাটলেন, মামলা চালাতে গিয়ে পৈত্রিক ভিটেমাটি বিক্রি করলেন, চাকরি হারালেন, সমাজে মুখ দেখানোর জো রইল না। দেড় বছর পর ডিএনএ টেস্ট বলছে—তিনি নির্দোষ! আসল অপরাধী ওই মেয়ের আপন ভাই!
এখন প্রশ্ন হলো: এই যে দেড় বছর তার জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হলো, তার সামাজিক সম্মান ধুলোয় মেশানো হলো—এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? যে মিডিয়া তাকে ‘ধর্ষক’ বানিয়ে টিআরপি বাড়িয়েছে, তারা কি এখন ফ্রন্ট পেজে বড় করে লিখবে যে ‘আমরা ভুল ছিলাম’?
জুলাই বিপ্লবের সময় আমি যখন কারাগারে ছিলাম,,
তখন আমার সাথে একজন ধ"র্ষণের অপরাধী ছিলো।
পরে নির্দশ প্রমানিত হয়ে বের হয়ে যায় দীর্ঘ ৬ মাস জেলে খেটে বিনা অপরাধে। এই হলো বাংলাদেশের মিথ্যার মামলা।
নেত্রকোনা কি একই পথে?
নেত্রকোনার ঘটনা নিয়ে এখনই যারা কওমি-সুন্নি বিভাজন তৈরি করে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন, তারা কি পরশুরামের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবেন না? হুজুর যখন বলছেন অপরাধী ঘরের কেউ, তখন ডিএনএ টেস্টের আগে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অধিকার আপনাদের কে দিল? আমরা কি তবে তদন্তের আগেই রায় ঘোষণা করে দেওয়ার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি?
আপন যখন কালনাগিনী,,
তথ্য বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব জঘন্য অপরাধের মূল কারিগর থাকে ভিকটিমের আপন বা নিকটজন। আর সেই অপরাধ ঢাকতে বলির পাঁঠা বানানো হয় সমাজের শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তিকে—যাতে মূল অপরাধী আড়ালে থেকে যায়। এটি কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়, এটি পুরো বিচারব্যবস্থার মুখে চপেটাঘাত।
মিথ্যা মামলাকারীর জেল চাই:** যে বা যারা ষড়যন্ত্র করে একজন নির্দোষ মানুষকে ফাঁসিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মিডিয়াকে জবাবদিহি করতে হবে:** অভিযোগের সময় যারা লাফালাফি করে, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদেরও সমপরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।
ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুন:** ইমাম সাহেবের হারিয়ে যাওয়া চাকরি, ভিটেমাটি এবং সম্মান পুনরুদ্ধারে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।
মনে রাখবেন, আজ আপনি চুপ আছেন কারণ ভুক্তভোগী অন্য কেউ। কাল যদি এই বিষাক্ত তলোয়ার আপনার বা আপনার পরিবারের দিকে ঘোরে, সেদিন চিৎকার করার মতো কাউকেও পাশে পাবেন না। হুজুর হোক বা সাধারণ মানুষ—আগে সত্য জানুন, তারপর কথা বলুন।
#ধর্ষক #ইমামনির্দোষ