09/05/2026
নারীরা কেবল একটি পরিবার নয়, বরং একটি গোটা জাতির মেরুদণ্ড। একটি শিশু যখন পৃথিবীর আলো দেখে, তার প্রথম শিক্ষালয় হয় মায়ের কোল। মায়ের আখলাক বা চারিত্রিক সৌন্দর্যই নিঃশব্দে প্রতিফলিত হয় সন্তানের আচরণে। তাই আদর্শ মা মানেই একটি আদর্শ প্রজন্মের নিশ্চয়তা।
ইসলাম নারীকে দিয়েছে সেই সর্বোচ্চ মর্যাদা, যা ইতিহাসের পাতায় আগে কখনো দেখা যায়নি। সোনালী যুগের মায়েরা তাদের সন্তানদের শুধু লালন-পালনই করেননি, বরং তাদের গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বসেরা আলেম এবং বীর সেনানী হিসেবে। আজকের এই ব্যস্ত সময়ে আমাদের আবারও সেই হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। আমাদের সন্তানদের লিয়াজহিল্লাহ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) উৎসর্গ করার মানসিকতা জাগ্রত করতে হবে। সেই মহৎ উদ্দেশ্যে মায়েদের সচেতন করার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এটি।
একটি কথা প্রচলিত আছে— "আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।" কিন্তু ইসলামের শিক্ষা এর চেয়েও গভীরে। আমাদের প্রয়োজন এমন এক মা, যার চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে সন্তান শিখবে সততা ও বীরত্ব।
ভুলবেন না: আপনার প্রতিটি কাজ আপনার সন্তান অনুকরণ করছে।
মর্যাদা: ইসলাম আপনাকে যে সম্মান দিয়েছে, তা অন্য কোথাও নেই।
আফসোস: আজ আমরা বীর সেনানী বা শ্রেষ্ঠ আলেম খুব একটা দেখতে পাই না কেন? কারণ, মায়েদের সেই আগের মতো ত্যাগী মানসিকতা আজ অনেকটা ম্লান।
আসুন, আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হই। রাসূলের (সা.) মূল্যবান বাণীগুলো হৃদয়ে ধারণ করে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলি, যেন আমাদের কোল থেকেই জন্ম নেয় আগামীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো।
মায়ের আঁচল কেবল ছায়া দেয় না, এটি একটি আদর্শের চাদর। যে মা আজ উন্নত চরিত্রের অধিকারী, তার সন্তানই কালকের পৃথিবীর আলোকবর্তিকা। ইসলাম নারীকে যে সুউচ্চ আসনে বসিয়েছে, সেই সম্মানের দাবি হলো— নিজেকে এবং নিজের সন্তানকে দ্বীনের পথে গড়ে তোলা।
সোনালী যুগের সেই মায়েরা কি হারিয়ে গেছেন? না, তারা আমাদের মাঝেই আছেন। শুধু প্রয়োজন একটু আত্মোপলব্ধি আর রাসূলের (সা.) আদর্শে জীবন সাজানো। এই ক্ষুদ্র প্রয়াসটি সেই ঘুমন্ত চেতনাকে জাগিয়ে তোলার জন্য।