25/04/2022
ধারাবাহিক ভাবে চলবে.. পর্ব-৪
মহান আল্লাহর নাম ও তার অর্থ এবং নামের ফজিলত (আসমাউল হুসনা)
আল্লাহর ৯৯টি নাম (আরবি: أسماء الله الحسنى) হলো ইসলাম ধর্ম মতে কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আল্লাহ্র গুণবাচক নামের একটি তালিকা বা সংকলন। ইসলাম ধর্ম মতে বুনিয়াদি নাম বা ভিত্তি নাম একটিই। আর তা হলো আল্লাহ্, কিন্তু তার গুণবাচক নাম অনেকগুলো। বিভিন্ন হাদীস অনুসারে আল্লাহ'র ৯৯টি নামের একটি তালিকা আছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নামসমূহ। কাজেই সে নাম ধরেই তোমরা তাঁকে ডাক"। [সূরা: আল-আ’রাফ, আয়াত: ১৮০]
এছাড়াও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত –
‘যে ব্যক্তি ৯৯টি গুণবাচক নাম মুখস্থ করবে এবং সর্বদা পড়বে, সে অবশ্যই বেহেশতে প্রবেশ করবে|’
১১. আল-মুতাকাব্বিরু (المتكبر) – বড়ত্ব ও মহিমার অধিকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ, অহংকারী, গৌরবান্বিত
ফজিলত: আল্লাহর ৯৯ নামের মধ্যে যে ব্যক্তি এ নাম বেশি পরিমাণে পড়বে, আল্লাহ তাকে লোকচক্ষে বড় ও সম্মানী করে রাখবেন। আর যদি প্রতি কাজের প্রথমে এ নাম অধিক মাত্রায় পড়তে থাকে, ইনশাআল্লাহ সে কাজে সফলতা লাভ করবে।
১২. ইয়া খালিকু (الخالق) – সৃষ্টিকর্তা
ফজিলত: যে ব্যক্তি একটানা ৭ সাত দিন পর্যন্ত একশ বার করে এ নাম পড়বে, ইনশাআল্লাহ সে সকল বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে। যে ব্যক্তি সর্বদা এ নাম পড়বে, আল্লাহ তার জন্য এমন একজন ফেরেশতা পয়দা করে দেন, যে তার পক্ষ থেকে ইবাদত করতে থাকে এবং তার চেহারা উজ্জ্বল থাকে।
১৩. আল বারি’উ (البارئ) – প্রাণদানকারী
ফজিলত: কোন বন্ধ্যা স্ত্রী লোক যদি সাতদিন পর্যন্ত রোযা রাখে এবং পানি দ্বারা ইফতার করে একুশ বার (আল বারি’উল মুছা’ওয়িরু) পড়ে, তা হলে ইনশাআল্লাহ সে সন্তানবতী হবে।
১৪. আল মুছাওয়ি’রু (المصور) – সুরতদাতা, আকৃতি-দানকারী
ফজিলত: কোন বন্ধ্যা স্ত্রী লোক যদি সাতদিন পর্যন্ত রোযা রাখে এবং পানি দ্বারা ইফতার করে একুশ বার (আল বারি’উল মুছা’ওয়িরু) পড়ে, তা হলে ইনশাআল্লাহ সে সন্তানবতী হবে।
১৫. আল-গাফ্ফারু (الغفار) – ক্ষমাশীল ও আবৃতকারী
ফজিলত: যে ব্যক্তি জুমার নামাজের পর একশ বার এ নাম পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ তার ভিতর ক্ষমার চিহ্ন পরিলক্ষিত হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি রোজ আছরের পরে (ইয়া গঅফ্ফারু গফির লী) পড়বে, ইনশাআল্লাহ সে ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দলভুক্ত হবে।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এ সকল নামের মাধ্যমে তাঁর নিকট দোয়া প্রার্থনা করতে আদেশ করেছেন। আল্লাহপাক আমাদেরকে কবুল করুন। আমিন।