11/12/2023
প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার বইটি পড়া শেষ করলাম অবশেষে। ঘুমের আগে ও বিশ্রামের সময়ে কিছু কিছু করে পড়তাম। খুবই চমৎকার একটি জার্নি ছিল। মীযান হারুন ভাইকে ধন্যবাদ দেই, এমন সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেবার জন্য। খুব সংক্ষেপে বইটির বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি।
- ফিতান ও কিয়ামতের আলামত বিষয়ে বাংলাভাষায় রচিত অন্যান্য বইপত্র থেকে আমি একে এগিয়ে রাখব শুরুর ২০০/২৫০ পৃষ্ঠার জন্য। সেখানে তিনি মূল আলোচনায় ঢোকার আগে উসুলী আন্দাযে চমৎকার আলোচনা করেছেন। যা স্বতন্ত্র একটি বই হবার দাবী রাখে। এবং আমার কাছে এই অংশটুকুই এই বইয়ের মূল প্রাণ মনে হয়েছে। এতে তিনি কিয়ামতের আলামত ও এই সংক্রান্ত নানান বিচ্যুতি এবং তার কারণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পর্যালোচনা করেছেন। অন্তত এই অংশটুকুর জন্য হলেও একজন পাঠকের বইটি সংগ্রহ করা উচিত।
- ফিতান নিয়ে অতীত যুগের লেখকদের যেসব বইপত্র আছে, সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা আছে। কিন্তু এই বইটিতে লেখক পেশকৃত বর্ণনাগুলোর বিশুদ্ধতার প্রতি যত্নবান ছিলেন। যার কারণে তা এই জাতীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত।
- লেখক নিজে ইলমী যওক রাখায় পুরো বইতে এর সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে। ইলমী আন্দায তিনি বজায় রেখেছেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং সেই সাথে বরাবরের মতোই অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় তিনি এটি রচনা করেছেন।
- বইটি অতীতের কোন রচনার অনুবাদ না হয়ে মৌলিক হবার কারণে যে সুবিধা হয়েছে তা হলো, লেখক স্বাধীনভাবে কলম চালাতে পেরেছেন। ফলে সমকালীন নানান ফিতনা ও কিয়ামতের আলামত বিষয়ক বিচ্যুতি তিনি তুলে আনতে পেরেছেন সার্থকভাবে। যেটা অনূদিত বই হলে সাধারণত সম্ভব হয় না।
- দাজ্জালের আলোচনায় তামিম দারীর হাদীসের উপর (নির্জন দ্বীপে দাজ্জালের বন্দি থাকা) লম্বা চওড়া আলোচনা বেশ ভালো লেগেছে। সংক্ষেপে বললে, তার মতে এই হাদীসের মতনের বিশুদ্ধতা নিয়ে কথা থেকে যায়। কারণগুলো তিনি খুব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সেগুলো ফেলনা নয়। আবার ইবনুস সাইয়াদও দাজ্জাল নয়, এমনটা তিনি প্রমাণ করেছেন। দাজ্জাল কোন আধুনিক সভ্যতা নয়, এটাও তিনি পরিষ্কার করেছেন। তাহলে দাজ্জাল কে? কোথায় সে বা তার জন্ম-বহির্গন ইত্যাদি বিষয়ে একটা উপসংহারে পৌঁছা সাধারণ পাঠকের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য হবে মনে হয়েছে। উপসংহারের ব্যাপারটা আরেকটু যদি পরিষ্কারভাবে আসত, তাহলে মনে হয় ভালো হতো।
- ইয়াজুজ-মাজুজের ব্যাপারে ট্রেডিশনাণ বক্তব্যকে তিনি গ্রহণ করেননি। এর কারণগুলোও তুলে ধরেছেন বিভিন্ন যুক্তির মাধ্যমে। তিনি দ্বিতীয় মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সেটি হলো, ইয়াজুজ-মাজুজ এশিয়ার নানান ইয়াফেসীয় জাতিগোষ্ঠী (যেমন- তুর্কি, তাতার, মঙ্গলীয় ইত্যাদি)। এই মতের পক্ষে যেসব আলেম আছেন, তাদের মতামতও তিনি তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয়েছে, যদি দ্বিতীয় মত মানার পর যেসব ইশকাল আসে, সেগুলোর উত্তর বা তাতবীক কীভাবে হবে এই আলাপটুকু তিনি আনতেন, তাহলে আলোচনা আরও পূর্ণতা পেত এবং তিনি যে মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন সেটি আরও শক্তিশালী হতো।
সব মিলিয়ে বইটিতে অনেক খোরাক পেয়েছি।
নতুন এমন অনেক তথ্য জেনেছি, যা আগে জানতাম না। আল্লাহ তাআলা লেখকের ইলম ও লেখনীতে বরকত দান করুন। আমীন।
আমি সাধারণত বই থেকে যেসব বিষয় নতুন জানি, তা নোট করে রাখি একেবারে শেষের খালি পৃষ্ঠাতে। এই বইটি প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার হলেও শেষে এমন কোন খালি পৃষ্ঠা রাখা হয়নি পাঠকের জন্য। সমকালীন প্রকাশনীর কাছে অনুরোধ থাকবে, প্রতিটি বইর পেছনে পাঠকের জন্য পাতা রাখতে। আমার মত যারা নোট রাখে, তাদের জন্য এটা জরুরি।