15/02/2026
অন্যকে ঠকিয়ে সাময়িক লাভ হলেও শেষ পর্যন্ত যে নিজেরই বড় ক্ষতি হয়, সেই চিরন্তন সত্যটি নিয়ে একটি ছোট গল্প নিচে দেওয়া হলো:
হীরামন ও তার কাঠের নৌকা
এক গ্রামে হীরামন নামের এক চালাক কাঠুরিয়া ছিল। সে সব সময় চাইত কত কম কষ্টে বেশি টাকা আয় করা যায়। তার বন্ধু সমীর ছিল ঠিক উল্টো—পরিশ্রমী এবং সৎ।
একদিন দুজনে মিলে বনের সেরা সেগুন গাছ কাটার চুক্তি করল এক বড় ব্যবসায়ীর সাথে। কাজ শেষে ব্যবসায়ী তাদের দুটি সমান ওজনের কাঠের বোঝা বুঝিয়ে দিলেন এবং বললেন, "শহরে গিয়ে এগুলো পৌঁছে দিলেই তোমরা তোমাদের মজুরি পাবে।"
ঠকানোর পরিকল্পনা
পথে যেতে যেতে হীরামন দেখল তার বোঝাটি বেশ ভারী। সে ফন্দি আঁটল। রাতের অন্ধকারে যখন সমীর ঘুমাচ্ছিল, হীরামন চুপিচুপি সমীরের বোঝা থেকে কিছু ভালো কাঠ বের করে নিজের বোঝায় ভরে নিল এবং নিজের বোঝার হালকা ও পচা কাঠগুলো সমীরের বস্তায় ঢুকিয়ে দিল। সে মনে মনে হাসল, "কাল ব্যবসায়ীর কাছে গেলে আমি বেশি ওজনের জন্য বোনাস পাব, আর সমীর কম টাকা পাবে।"
পাল্টে যাওয়া ভাগ্য
পরদিন সকালে তারা যখন নদীর ঘাটে পৌঁছাল, দেখল ভারী বৃষ্টির কারণে নদী উত্তাল এবং সব নৌকা বন্ধ। ওপারে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল নিজেদের কাঠের বোঝাগুলোকে ভেলা হিসেবে ব্যবহার করে নদী পার হওয়া।
হীরামন তার "ভারী" ও "উন্নত" কাঠ দিয়ে দ্রুত একটা ভেলা বানালো। কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল যে, সে সমীরের বোঝা থেকে যে কাঠগুলো নিয়েছিল সেগুলো ছিল কাঁচা এবং ভারী সেগুন, যা পানিতে ডুবে যায়। আর সে নিজের ভেলায় যে পচা ও ঘুণে ধরা কাঠগুলো দিয়েছিল, সেগুলো দেখতে বড় হলেও ভেতরে ছিল ফাঁপা।
সারমর্মের প্রতিফলন
মাঝনদীতে যেতেই হীরামনের ভেলাটি পানি শুষে নিতে শুরু করল। পচা কাঠগুলো ভেঙে যেতে লাগল এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে ভেলাটি ডুবতে শুরু করল। অন্যদিকে, সমীর তার হালকা ও মজবুত কাঠের ভেলায় চড়ে অনায়াসেই ওপারে পৌঁছে গেল।
হীরামন যখন হাবুডুবু খাচ্ছিল, সে বুঝতে পারল সমীরকে ঠকাতে গিয়ে সে আসলে নিজের বাঁচার পথটাই নষ্ট করে ফেলেছে। সে চিৎকার করে বলল, "আমি জিতে গেছি ভেবেছিলাম, কিন্তু আসলে আমি নিজেরই সর্বনাশ করেছি!"
গল্পের সারকথা: অসততার মাধ্যমে পাওয়া জয় আসলে একটি ফাঁদ। অন্যকে ঠকিয়ে আপনি যা অর্জন করবেন, দিনশেষে তা আপনার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রকৃত জয় কেবল সততাতেই থাকে।